২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ই-টেন্ডারিংয়ে যুক্ত হচ্ছে ক্রয় অনুমোদন কার্যক্রম

  • অর্থমন্ত্রীকে পরিকল্পনামন্ত্রীর চিঠি

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ক্রয় অনুমোদন কার্যক্রম ইলেক্ট্রনিক গবর্নমেন্ট (ই-জিপি) প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে। ফলে দ্রুত ই-টেন্ডারিং কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে। সম্প্রতি এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে চিঠি পাঠিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। বর্তমান সরকার ২০২১ সালনাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের যে অঙ্গীকার করেছে এরই অংশ হিসেবে দেশের সকল সরকারী ক্রয় কার্যক্রম ২০২০ এর মধ্যে ই-জিপি’র আওতায় নিয়ে আসার জন্য সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় সরকারী ক্রয় সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দেশে ই-জিপি বাস্তবায়ন করছে। তবে ই-জিপিতে এখনও ৫০ কোটি টাকার উর্ধে পূর্তকাজ ও পণ্য ক্রয় এবং ১০ কোটি টাকার উর্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা ক্রয় চালু করেনি। সিসিজিপি ৫০ কোটি টাকার উর্ধে ক্রয় কার্যক্রমের সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ। সিসিজিপি’র সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত সিসিজিপি’র এ প্রক্রিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন যাতে অনলাইনে করা যায় সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মস্তফা কামাল সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এই চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি দেশে ই-জিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। একই সাথে সিসিজিপির ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম ই-জিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সিপিটিইউ’র মহাপরিচালক ফারুক হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে যে ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে ই-জিপি বাস্তবায়ন হচ্ছে তা চারটি বৃহৎ টার্গেট এজেন্সির জন্য স্থাপন করা হয়েছিল। এগুলো হলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। দেশের মোট সরকারী ক্রয় কার্যক্রমের ৫০ ভাগই করা হয় এ চারটি সংস্থায়। দেশের সকল সরকারী ক্রয়কারী সংস্থা ই-জিপি’র আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সিপিটিইউ ইতোমধ্যে বৃহৎ ক্ষমতার ডাটা সেন্টার ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন সিসিজিপি’র ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম ই-জিপিতে যুক্ত করা হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটা হবে আরেক ধাপ অগ্রগতি।

সিপিটিইউ সূত্র জানায়, ই-জিপি সিস্টেমে টেন্ডারারদের রেজিস্ট্রেশন ফি, নবায়ন ফি ও টেন্ডার ডকুমেন্ট ফি গ্রহণের জন্য ৩৯টি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং মোট ১,৭১৫টি শাখার মাধ্যমে সারাদেশে এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ই-জিপি কার্যক্রমের সুবিধাগুলো হচ্ছে, পুরো সরকারী ক্রয় কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রীয় ও জাতীয় ইলেক্ট্রনিক প্লাটফরম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারী ক্রয়ে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ ও আইন/বিধি’র প্রতিপালন পরিবীক্ষণে একটি ইলেক্ট্রনিক ক্রয় ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতি চালুর ফলে ক্রয় কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের বিদ্যমান জটিলতা পরিহার করা সম্ভব হচ্ছে। অধিকসংখ্যক দরদাতা অবাধে ক্রয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে বিধায় অধিকতর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হচ্ছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে টেন্ডার বাক্সে দরপত্র জমাদানের বিদ্যমান নিয়ম ই-জিপির ক্ষেত্রে অবলুপ্ত হয়েছে। সরকারী ক্রয়ের গুণগত মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বেসরকারী খাতে কম্পিউটার স্বাক্ষর জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার ইতোমধ্যে ক্রয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমোদনকারী কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ (ডিওএফএ) চূড়ান্ত করেছে। শিগগিরই অর্থমন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এই আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ক্রয় প্রক্রিয়া অনুমোদনে গতি আসবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও সহজতর হবে মর্মে সরকার আশা করছে।

সিপিটিইউ সূত্র জানায়, ২০১১ সালে চারটি টার্গেট এজেন্সিতে ই-জিপির সফল পাইলটিং এর মাধ্যমে ই-জিপির যাত্রা শুরু হয়। গত ৩০ জুলাই ২০১৫ পর্যন্ত ২৪টি মন্ত্রণালয়ের ৯৮টি সংস্থার অধীনে ই-জিপিতে অন্তর্ভুক্ত সরকারী ক্রয়কারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬২-এ। এ সময় পর্যন্ত আহ্বানকৃত টেন্ডারের সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৪৯। ই-জিপি ব্যবস্থায় নিবন্ধিত টেন্ডারার সংখ্যা ওই সময় পর্যন্ত ১৫ হাজার ৬৯৯ জন এবং আর্থিক সংশ্লেষ ২১ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। রেজিস্ট্রেশন ও নবায়ন ফি এবং টেন্ডার ডকুমেন্টের মূল্য বাবদ ওই সময় পর্যন্ত ই-জিপিতে আয় হয়েছে ৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা।