২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধাবস্থা, সীমান্তে উত্তেজনা

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ মাইন বিস্ফোরণে সৈন্য আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধাবস্থা ও সীমান্তে টান টান উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছে উত্তর কোরীয় দূতাবাস। বিস্ফোরণে নিজেদের দুই সৈন্য আহত হওয়ার ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাইন পুঁতে রাখার অভিযোগ করে সীমান্তে প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে মাইন তাদের পোঁতা নয়, দাবি করে উত্তর কোরিয়া এ প্রচার বন্ধ না হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে বলে হুমকি দিয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত উত্তর কোরীয় দূতাবাস বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো চিঠিতে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। চিঠিতে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার দাবিকে অসত্য ও উস্কানিমূলক বলে উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধাবস্থা নতুন কিছু নয়। প্রায়ই ঘটে থাকে। এর মধ্যে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ সামরিক মহড়া বিষয়টিকে আরও উস্কে দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার বন্ধের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে দিয়েছে। তাদের দেয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হয়েছে শনিবার বিকেলে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, কোরীয় উপদ্বীপ সীমান্তে লাউড স্পীকার বাজিয়ে প্রচার চালাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই ধরনের প্রচার বন্ধ না হলে উত্তর কোরিয়া সামরিক পদক্ষেপ নেবে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, তাদের লাউড স্পীকার লক্ষ্য করে উত্তর কোরিয়া রকেট ছুঁড়েছে। জবাবে তারাও পাল্টা গোলা ছুড়েছে। উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন শনিবার বিকেলে ৪৮ ঘণ্টা শেষ হওয়ার পর যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য দেশের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, মাইন বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়া দায় স্বীকার না করা পর্যন্ত তারা লাউড স্পীকারে প্রচার বন্ধ করবে না। দেশটির সামরিক বাহিনীকে উত্তর কোরিয়াকে মোকাবেলা করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের মধ্যে কোন ধরনের শান্তি চুক্তি ছাড়াই দুই কোরিয়ার যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এরপরও গত ৬৫ বছর ধরে হরহামেশাই বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়। চলতি মাসের শুরুতে উপদ্বীপ সীমান্তে টহলদানকারী দু’জন দক্ষিণ কোরীয় সৈন্য মাইন বিস্ফোরণে মারাত্মক আহত হন। পশ্চিম সীমান্তে ওই মাইন উত্তর কোরিয়া পুঁতে রেখেছিল দক্ষিণ কোরিয়া এমন অভিযোগ করে লাউড স্পীকারে প্রচার চালাতে থাকে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। এর আগেও দুই কোরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমার সীমান্তে বহুবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সর্বশেষ মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই পক্ষের গোলাগুলি সীমান্তে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া বেসামরিক নাগরিকদের পশ্চিম অঞ্চল থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নিদের্শ দিয়েছে। এছাড়া পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জরুরী বৈঠক ডেকেছে। গত ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়া তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করেছে। অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়া এ মহড়াকে অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে।

এদিকে ঢাকায় শুক্রবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উত্তর কোরিয়া দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করার জন্যই এ ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কেন্দ্রীয় পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় উত্তর কোরিয়ার দিকে দক্ষিণ কোরিয়া উস্কানিমূলক সামরিক হামলা শুরু করেছে। ওই ঘটনায় উত্তর কোরিয়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। তারা উত্তর কোরিয়ার কেপিএ (কোরিয়ান পিপলস আর্মি) সিভিল পুলিশ পোস্ট বরাবর বেপরোয়াভাবে ৩৬টি শেল নিক্ষেপ করেছে। পোস্টের ৫৪২ ও ৫৪৩ নম্বরের কাছের এলাকায় ছটি শেল আঘাত হেনেছে। আর সিভিল পোস্টের ২৫০ ও ২৫১ নম্বরের কাছের এলাকায় ১৫টি শেল আঘাত হেনেছে। তারা উত্তর কোরিয়ার কেপিএ একটি শেল নিক্ষেপ করেছে এই অযৌক্তিক অজুহাত তুলে একের পর এক বেপরোয়া শেল ছুড়েছে। এমন কী তারা লাউড স্পীকারে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া বৃহস্পতিবার রাতে জরুরি বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়েছে প্রচার বন্ধ করার জন্য। তা না হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ এ ধরনের গোঁয়ার্তুমির জন্য তাদের কঠিন শাস্তি প্রাপ্য।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুতুল মিলিটারি এ ধরনের উস্কানিমূলক কাজ করার আগে একবারও নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না প্রকৃত ঘটনা কী। উত্তর কোরিয়ার কেপিএ যে গুলিবর্ষণ করেছে বলে তারা অভিযোগ করছে সেটা আসলে কোথা থেকে এল, কোথায় পড়ল, তা কী তাদের অঞ্চলে পড়লো কী না বা তা কী গুলি না শেল নাকি রকেট সেটি যাচাই করারও প্রয়োজন মনে করেনি।