২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হবে

  • রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, সাইবার ক্রাইম রোধে নতুন একটি আইন করা হবে। পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটির যৌক্তিকতাও খতিয়ে দেখবে সরকার। শনিবার রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় এক নৌকাবাইচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বেরাইদ ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে বালু নদীতে এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ৫৭ ধারার কারণে মানুষের বাক স্বাধীনতা ক্ষুণœ হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা আমরা খতিয়ে দেখব। নৌকাবাইচ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বাংলার ঐতিহ্য। শোকের মাসে এটা হচ্ছে। আমরা চাই শোককে শক্তিতে পরিণত করতে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আজ নদী নালা ভরাট করা হচ্ছে। ফলে আগের মতো এ নৌকাবাইচ সব জায়গায় হয় না। এই ঐতিহ্যকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।

এই অনুষ্ঠানে আপীল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, নৌকাবাইচ বাংলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া। বিদেশ থেকে এই ক্রীড়া আমদানি করা হয়নি। এই ক্রীড়াকে এখনও যারা ধরে রেখেছে তাদের সাধুবাদ। দেশের নদনদী শুকিয়ে যাবার ফলে অনেক জায়গায়ই নৌকাবাইচ হয় না। নৌকাবাইচ বাঙালীর একটি প্রাণের খেলা। ভূমিখোরদের জন্য আজ নদ নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে বাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ নৌকাবাইচ। এটা বাঙালীর প্রাণের সঙ্গে গেঁথে আছে।

বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) এবিএম ইসলাম, ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য একেএম রহমত উল্লাহ এবং র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

দিকে বাইচ উদ্বোধনের অনেক আগে থেকেই বেরাইদ ঘাট থেকে বসুলিয়া পর্যন্ত নদীর দুই পাশ ঘিরে জড়ো হন হাজার হাজার দর্শনার্থী। রাজধানীসহ, পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী জেলাসহ দূর দূরান্ত থেকে উৎসুক জনতা ছোট ছোট লঞ্চ, নৌকা, ট্রলার ও স্পিড বোট নিয়ে হাজির হন উৎসবস্থলে। রং বেরঙের পোশাক এবং সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে নেচে গেয়ে কিশোর-তরুণরা উপভোগ করেন এই নৌকাবাইচ।

বেরাইদ ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এই প্রতিযোগিতায় ৩৪টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে মাসুদ রানার দল প্রথম স্থান অধিকার করে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে খানবাড়ী নামের একটি দল। বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেয়া হয় সোনার নৌকা। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দল পুরস্কার হিসেবে পায় একটি এলইডি টেলিভিশন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলকে একটি করে রঙিন টেলিভিশন উপহার দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, উচ্চ আদালতের আদেশ না মানায় বাংলাদেশে ছোট বড় যে তিন শতাধিক নদী আছে তা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রায় ৩০টি নদী ও খালের দখল, পুনরুদ্ধার ও দূষণ রোধে আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও নদী ও ভূমিখেকোদের কবল থেকে নদী ও খালগুলোকে বাঁচানো যাচ্ছে না। রাজধানী ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ-শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর অবস্থাও খুবই করুণ। নদী খেকোদের কারণে আজ দেশের নদ-নদীগুলো তাদের মানচিত্রও হারাতে বসেছে। ভরাটের কারণে পানিপ্রবাহ কমে গেছে। স্রোতস্বিনী নদীগুলোতে জেগে উঠেছে ছোট বড় অনেক চর। সে কারণেই প্রতি গ্রামে এখন নৌকাবাইচ আগের মতো আর দেখা যায় না।

নির্বাচিত সংবাদ