২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, জনপ্রিয় হচ্ছে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার

  • ঘণ্টায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ, জ্বালানি খরচও খুব কম ॥ দেয়া হচ্ছে উন্নয়ন সহায়তা

এমদাদুল হক তুহিন ॥ দেশে ক্রমাগতই বাড়ছে কৃষি শ্রমিকের সঙ্কট। তা কাটিয়ে উঠতে যন্ত্রের ব্যবহারও বাড়ছে সমান তালে। কলের লাঙ্গল ও ধানের মাড়াই যন্ত্র বহুকালের পুরানো, এমনকি যন্ত্র দুটির বিকল্প নেই বললেই চলে। তবে এরই মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও হ্যান্ড রিপার যন্ত্রও। অল্প সময়ে অধিক জমিতে স্বল্প ব্যয়ে কম বয়সী চারা লাগাতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের জুড়ি নেই। যন্ত্রটিকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে সারাদেশে চলছে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস। নিয়ন্ত্রিত ও নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণে চারা রোপণ সুবিধার কারণে যন্ত্রটি কৃষকের নজর কাড়ছে এবং তা ক্রয়ে সরকারীভাবে দেয়া হচ্ছে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন সহায়তা। অন্যদিকে বির্তক উঠায় লাঙ্গল ক্রয়ে কৃষকদের দেয়া উন্নয়ন সহায়তা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে সরকার, আর তা স্থানান্তর হচ্ছে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নের স্বার্থ বিবেচনায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণের পথ যেন রুদ্ধ না হয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা ও তার বার্তা পৌঁছাবে বলেই কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রত্যাশা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, রাইস্ ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্র ব্যবহার করে ধান রোপণের ক্ষেত্রে কৃষকরা একাধিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন দূরত্বে ও গভীরতায় চারা রোপণ করা যায়। একজন শ্রমিক ঘণ্টায় প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ করতে পারে। যন্ত্রটি ব্যবহার করতে জ্বালানি খরচও খুব কম, ঘণ্টায় মাত্র ০.৫-০.৬ লিটার অকটেন প্রয়োজন পড়ে। এছাড়া রয়েছে নিয়ন্ত্রিত ও নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণে চারা রোপণ করার সুবিধা। নেই চারা নষ্ট হওয়ার কোন আশঙ্কাও। তথ্যমতে আরও জানা যায়, যন্ত্রটি ব্যবহার করলে বীজতলা তৈরি করার জন্যও আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির উঠানেই বীজতলা তৈরি করা সম্ভব। বৃষ্টির মধ্যেও খুব সহজে চারা রোপণ করা যায়। অত্যন্ত কম খরচ, শ্রম ও অল্প সময়ে অধিক জমিতে চারা লাগানো সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা যন্ত্রটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। জানা গেছে, প্রতিনিয়তই বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা।

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রটি কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি বিজ্ঞানীদের এক অনন্য আবিষ্কার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও যন্ত্রটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সিনজেনটা বাংলাদেশ নামক একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এ দেশে সর্বপ্রথম রাইস্ ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্র নিয়ে আসে। প্রতিষ্ঠানটি বীজ থেকে শুরু করে চারা রোপণ পর্যন্ত সব ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে। বর্তমানে সরবরাহকারীদের মাধ্যমে তারা এ ধরনের সেবা প্রদান করছে। বেসরকারী পর্যায়ে এ দেশে ৩০০ একর জমি দিয়ে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হলে বর্তমানে তা ১ হাজার একর ছাড়িয়ে গেছে। আর এর পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে বহুজাতিক কৃষি প্রতিষ্ঠান সিনজেটা বাংলাদেশ।

কৃষক ও কৃষিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যন্ত্রটি ব্যবহারের ফলে বীজ, শ্রম ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ও কমবে। বাড়বে ধানের ফলন। আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা যন্ত্রটির সুবিধা সম্পর্কে জানান, যন্ত্রটির মাধ্যমে কমবয়সী চারা লাগানো ছাড়াও এক সঙ্গে চারটি সারিতে চারা রোপণ করা যায়। প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে গোছাপ্রতি প্রায় ৫ এর অধিক চারা দিতে হয় সেখানে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্র ব্যবহার করলে প্রতি গোছায় ২-৩টি চারা দিতে হয়। ঘণ্টায় ৩০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ করা সম্ভব হওয়ায় দিনে দিনে কৃষকরা যন্ত্রটি ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি-২য় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মোট ৪০৪টি প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। দেশের একশ’ উপজেলায় ৪টি করে প্রদর্শনীর নির্ধারিত লক্ষ্য রয়েছে। কোথাও শেষ হয়েছে প্রদর্শনী। প্রদর্শনী চলাকালে যন্ত্রটির প্রতি কৃষকদের অন্য রকম আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চলে ওইসব প্রদর্শনী। কোন একটি মাঠে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলে গ্রামের অন্য কৃষকদেরও ডেকে আনা হয়, যাতে তারাও যন্ত্রটির প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়।

ইতোমধ্যে ২৫০টির মতো প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়ে খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি-২য় পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক শেখ মোঃ নাজিম উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুম প্রায় শেষ দিকে, আশা করি বাকি প্রদর্শনীগুলো ১০ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।’ শেখ মোঃ নাজিম উদ্দিন জনকণ্ঠকে আরও বলেন, অল্প সময়ে সাশ্রয়ী মূল্যে কম বয়সী চারা লাগানো যায় বলে পুশি বেশি হয় এবং উৎপাদন অনেক বাড়ে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া