১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘এলিট প্লেয়ারস কন্ডিশনিং ক্যাম্প’ শুরু

‘এলিট প্লেয়ারস কন্ডিশনিং ক্যাম্প’ শুরু
  • মাশরাফি, মুশফিক, সাকিব, সাব্বির, রাজু ও রনি ছাড়া ২১ ক্রিকেটার অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন, তামিমের হাঁটুতে সমস্যা, সোহাগ গাজীর ফিটনেসে ঘাটতি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মাসব্যাপী ‘এলিট প্লেয়ারস কন্ডিশনিং ক্যাম্প’ শুরু হয়ে গেছে শনিবার। প্রথমদিনে ক্যাম্পে সুযোগ পাওয়া জাতীয় দল ও এর বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে ২১ ক্রিকেটার যোগ দিয়েছেন। ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৭ ক্রিকেটারের মধ্যে ৬ জন ক্রিকেটার প্রথমদিনের অনুশীলনে যোগ দেননি। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, ওয়ানডে হার্টহিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান রুম্মন, পেসার আবুল হাসান রাজু ও ব্যাটসম্যান রনি তালুকদার প্রথমদিনের অনুশীলন করেননি। তামিম ইকবাল ও সোহাগ গাজী শুধু রানিং করেছেন। তামিমের হাঁটুতে সমস্যা আছে। আর সোহাগ গাজী এখনও পুরোপুরি ফিট নন।

ছেলের চিকিৎসা করাতে সিঙ্গাপুর থাকায় মাশরাফি আর আমেরিকায় থাকায় সাকিব অনুশীলনে যোগ দেননি। ২৫ আগস্ট মাশরাফি ঢাকায় ফিরবেন। সাকিব ফিরবেন ২৬ আগস্ট। প্রথম দিনের ক্যাম্পে মুশফিক এবং রাজু ব্যক্তিগত কাজ থাকার কারণে যোগ দেননি। সাব্বির রহমানের বাবা-মা হজে যাচ্ছেন, সে কারণে তিনিও প্রথম দিনের ক্যাম্পে যোগ দেননি। আর রনি তালুকদারের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা থাকায় পরে ক্যাম্পে যোগ দেবেন।

সকাল পৌনে দশটায় জাতীয় দলের স্ট্রেন্থ এবং কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়েনের কাছে রিপোর্ট করেন ক্রিকেটাররা। ভিল্লাভারায়েন জানান, তামিম ইকবালের হাঁটুতে কিছুটা সমস্যা থাকায় শুধু রানিং করেছেন। সোহাগ গাজীর ফিটনেসে ঘাটতি থাকায় তাকেও রানিং করানো হয়েছে। দু’জনেরই পরে ফিটনেস টেস্ট নেয়া হবে। কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্প চলবে।

ক্যাম্পে থাকছেনÑ তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, এনামুল হক বিজয়, রনি তালুকদার, মিঠুন আলী, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, শুভাগত হোম, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, আরাফাত সানি, জুবায়ের হোসেন লিখন, সোহাগ গাজী, মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আবুল হাসান রাজু, মোহাম্মদ শহীদ, শফিউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও আল-আমিন হোসেন।

যে ক্রিকেটাররা ক্যাম্পে আছেন, তাদের নিয়ে টানা ২ সপ্তাহ ফিটনেস ঠিক করার কাজ চলবে। এরপর ২৭ ক্রিকেটার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। একদল থাকবে জাতীয় দল হয়ে। আরেকদল ‘এ’ দলের হয়ে যাবে। টানা ১ মাস ফিটনেস ধরে রাখার ক্যাম্প হবে। ২২ আগস্ট শুরু হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ক্যাম্প। যে জাতীয় দলটি থাকবে তারাই অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে।

বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক কমিটির সদস্য মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এমনটিই জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমরা এক মাসের জন্য এই ক্যাম্পটা শুরু করছি। এখানে ওয়ানডে-টেস্ট সব ফরম্যাটের ক্রিকেটার আছে। সামনে ‘এ’ দলের বড় একটি সফর রয়েছে। ৪৫ দিনের সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে কয়েকটি ম্যাচ খেলবে ‘এ’ দল। সেখানে কিছু ক্রিকেটার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া সামনে জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, এই ক্যাম্প থেকে ক্রিকেটাররা উপকৃত হবে। কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ২ সপ্তাহ পরেই ‘এ’ দল নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা শুরু করতে হবে। তখন দুটি দলকে আমরা আলাদা করে দেব।’ জাতীয় দল ও ‘এ’ দল বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় দলের আসল মিশন শুরু হয়ে যাবে। তখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের জন্য পুরোদমে মিশন শুরু করবে মুশফিক বাহিনী। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের খেলতে হবে জাতীয় ক্রিকেট লীগও (এনসিএল)। লীগ শুরু হতে পারে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা একটি পর্ব খেলতে পারবেন। লীগে খেলে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে খেলতে নামার আগে নিজেদের দীর্ঘ পরিসরের খেলার সঙ্গে মানিয়ে নেবেন।

আপাতত ফিটনেস ধরে রাখাই ক্রিকেটারদের মূল লক্ষ্য থাকছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ আগস্ট সিরিজ শেষে দীর্ঘ ১৭ দিনের ছুটি শেষে শনিবার ক্রিকেটাররা আবার একত্রিত হয়েছেন। আলাদা আমেজও মিলেছে অনুশীলনে। এ আমেজ দিয়েই শুরু হয়ে গেছে মাসব্যাপী কন্ডিশনিং ক্যাম্প।