১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেরেনার কাছে হেরে বিদায় ইভানোভিচের

সেরেনার কাছে হেরে বিদায় ইভানোভিচের
  • সিনসিনাতি মাস্টার্সের সেমিতে হ্যালেপ-জাঙ্কোভিচ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দুর্ভাগ্যই বলতে হবে আনা ইভানোভিচের। সেরেনা উইলিয়ামসের বিপক্ষে লড়াই মানেই তার পরাজয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। শুক্রবার সিনসিনাতি মাস্টার্সের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন টেনিসের এই দুই তারকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেরেনাই হাসলেন জয়ের হাসি। শেষ আটের লড়াইয়ে টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান তারকা সেরেনা এদিন ৩-৬, ৬-৪ এবং ৬-২ গেমে হারিয়েছেন সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচকে। তবে জয়টা সহজে আসেনি আমেরিকান তারকার। টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ বাছাই ইভানোভিচের কাছে প্রথম সেটে হেরেই যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সেটেই স্বরূপে ফিরেন টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা সেরেনা উইলিয়ামস।

টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেরেনা। গত মৌসুমেও এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত ইভানোভিচকে হারিয়েই শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন শীর্ষ বাছাই। এবারও সার্বিয়ার ষষ্ঠ বাছাইকে পরাজিত করে রোমাঞ্চিত সেরেনা। তবে খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিপক্ষ ইভানোভিচকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সেরেনা বলেন, ‘ইভানোভিচের বিপক্ষে আগেও আমি নয়বার খেলেছি। আমার মনে হয় তার ছয়টিতেই তিন সেটের লড়াই করেছি। আমি আগে থেকেই জানতাম যে সে খেলোয়াড় হিসেবে অসাধারণ।’ এখানেই থেমে থাকেননি টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি সেরেনা। ইভানোভিচের অতীত সাফল্য তুলে ধরে আমেরিকান তারকা আরও বলেন, ‘সে একসময় এক নাম্বার খেলোয়াড় ছিলেন। তাছাড়া গ্র্যান্ডসøাম জয়ের রেকর্ড রয়েছে তার। তাই তার বিপক্ষে লড়াইটা যে কঠিন হবে তা আগে থেকেই জানা ছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে হারিয়ে শেষ চারে উঠতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’

সেরেনার বর্তমান বয়স তেত্রিশ। এখনও ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময় পার করছেন তিনি। কোন খেলোয়াড় কখনও অসুস্থ হয়ে পড়লেই মুটিয়ে যায়, নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে তার পারফর্মেন্স। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম সেরেনা। মুটিয়ে যাওয়ার বদলে প্রতিবারই ইনজুরি থেকে ফিরেছেন চমৎকার ফিটনেস নিয়ে। বডিকে করেছেন সিক্স-প্যাক। এ বয়সেও টেনিস কোর্টে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দোর্দ-প্রতাপে। টেনিস কোর্টের পাশাপাশি ফ্যাশনেও ঝড় তুলেছেন নাম্বার ওয়ান এই তারকা। ফিটনেস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকবার। ফিটনেস নিয়ে মার্কিন ললনা সেরেনার অভিমত হলোÑ ‘এই ফিটনেসে ভক্তরা প্রশংসা করেছে। তাই আমি গর্বিত। এজন্য আমাকে প্রতিনিয়তই ঘাম ঝরাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন খেলা চালিয়ে যেতে আমি আরও পরিশ্রম করতে চাই। যোগ, নাচ ও ব্যায়াম নিয়মিতই করছি আমি। ফলে শরীরের গাঁথুনি ও মাংসপেশিতে সমস্যা হয়নি।’ ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিয়েই গত বছর শেষ করেছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। এরপর থেকেই যেন অপ্রতিরোধ্য এই আমেরিকান টেনিস তারকা। গত মাসে উইম্বলডন জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ‘সেরেনা সøাম’ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার সামনে এখন একই ক্যালেন্ডারে সবকটি গ্র্যান্ডসøাম জয়ের মাইলফলকের হাতছানি। আগামী সপ্তাহেই শুরু হতে যাওয়া বছরের শেষ মেজর শিরোপা জিততে পারলে স্টেফিগ্রাফের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যালেন্ডার সøাম জিতবেন তিনি। এই বয়সেও কিভাবে এমন সাফল্য ধরে রাখছেন সেরেনা। সেক্ষেত্রে ফিট থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সবকিছুর সঙ্গে জড়িত থাকা। আমি দৌড়াই, তারপর যোগ ব্যায়াম। নাচটা শুরু করি যখন অনুশীলন থাকে না। অনেকটা মজা করেই এটা করি। এখন তো ১০ মিনিট দৌড়াই, তারপর নাচে অংশগ্রহণ করি।’

সিনসিনাতি মাস্টার্সের ফাইনালে উঠার পথে সেরেনা উইলিয়ামসের বাধা এখন ইউক্রেনের এলিনা ভিতলিনা। সেমিতে মুখোমুখি হবেন তারা। এছাড়া সেমিফাইনালে উঠেছেন সিমোনা হ্যালেপ এবং সার্বিয়ার জেলেনা জাঙ্কোভিচ।