১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শর্ত সাপেক্ষে সুযোগ থাকছে পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের

  • দল বাড়ছে বিপিএলের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল-টি২০) এর আগে দুটি আসর হয়। ২০১২ সালে প্রথম আসরে ৬টি দল অংশ নেয়। পরের বছর দ্বিতীয় আসরে একটি দল বাড়ে। ৭টি দল খেলে। এবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবার যখন বিপিএলের তৃতীয় আসর অনুষ্ঠিত হবে, এ আসরে দল আরও বেড়ে যেতে পারে! ৮টি দল খেলতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমনই ইঙ্গিত দিলেন শনিবার। দেশের বাইরে থেকে ফিরে মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাপন জানান, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বিপিএলে দলও বাড়তে পারে।’ সঙ্গে পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিরা বকেয়া পরিশোধ করে দিলে তাদেরও বিপিএলে থাকার সুযোগ থাকছে।

যে আগ্রহ এবার দেখা গেছে, তাতে বিপিএলে একটি দল অন্তত বাড়তেই পারে। আর সেই দলটি হতে পারে ঢাকা মেট্রো। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও রংপুর বিভাগের সঙ্গে ঢাকা মেট্রো নামে আরেকটি দল যুক্ত হতে পারে। এ পর্যন্ত ১১টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরে দল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছেÑ বেক্সিমকো, মিডিয়াকম (স্কয়ার), সোহানা গ্রুপ অব কোম্পানি, ইনডেক্স গ্রুপ, এক্সিওম টেকনোলজি লিমিটেড, ডিবিএল গ্রুপ, বিবিএস কেবলস, বেঙ্গল কমিউনিকেশন, ব্লুজ কমিউনিকেশন, নেট ওয়ার্ল্ড বিডি লিমিটেড ও ফাইবার এড হোম লিমিটেড। এই ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিপিএলে অংশ নেয়া পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও আছে। যারা ২৭ আগস্টের মধ্যে আগের আসরগুলোর বকেয়া পরিশোধ করে দিতে পারবে, তারাও বিপিএলে আবার অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। এরই মধ্যে রংপুর রাইডার্সের ফ্র্যাঞ্চাইজিরা সেই সুযোগটি নিয়েছে। বকেয়া সব পরিশোধ করে দিয়েছে। সিলেট রয়্যালসও সেই একই পথের পথিক হতে যাচ্ছে বলেই জানা গেছে। তাই বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘রংপুর রাইডার্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি (আই স্পোর্টস) বকেয়া পরিশোধ করায় বিপিএলের তৃতীয় আসরের জন্য মালিকানা কিনতে পারবে তারা। তাদের কাছ থেকে বিসিবির যে বকেয়া পাওনা ছিল তা পরিশোধ করেছে। ফলে নতুন আসা ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদেরও যোগ করা হলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স (ফিক্সিংয়ে জড়িত দল) বাদে বাকি ৫টি দলের ফ্র্যাঞ্চাইজিরা যদি ২৭ তারিখের মধ্যে তাদের বকেয়া পরিশোধ করে তবে তাদেরও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগ করা হবে। তাতে হয়ত দলও বাড়তে পারে।’ বিপিএলের প্রথম দুই আসরে অর্থ আয় মুখ্য হিসেবেই ধরা দেয়। তবে এবার তৃতীয় আসরে এসে অর্থ আয়ের বিষয়টি গৌন হয়ে পড়ছে। পাপন জানালেন, ‘৩০ তারিখ আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে চিঠি দেব। তাদের এক কোটি টাকা পে-অর্ডার করতে হবে। আর সাড়ে চার কোটি টাকার ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে।’ পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বেলাতে পাপন বলেন, ‘বকেয়া পরিশোধ করেই বিপিএলের তৃতীয় আসরে এসব প্রতিষ্ঠানকে অংশ নিতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আর ক্রীড়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করব। যদি মনে করি ব্যবসার খাতিরে আর লাভের আশায় কোন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে চাইছে, আমরা তাদের বিদায় জানাব।’

এবার বিপিএলে ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’ পদ্ধতিতে ক্রিকেটারদের নিলাম হবে। প্রতি দলে চারজন করে বিদেশী ক্রিকেটারও অংশ নিতে পারবে। সাত কোটি টাকায় দল গড়ার সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিদেশী খেলোয়াড় আনার ব্যাপারে খরচের স্বাধীনতা রাখা হচ্ছে এবারের আসরে। প্রতিটি দল চারজন করে বিদেশী খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে। তবে কেউ যদি ২২ থেকে ২৫ নবেম্বরের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলের তৃতীয় আসরে আরও বেশি বিদেশী খেলোয়াড়কে রেজিস্ট্রেশন করাতে চায় তাহলে বাকিদের অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টি বিসিবি নেবে না। এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনÑ ‘বিদেশী খেলোয়াড়দের বড় একটা তালিকা আমরা দিয়ে দিব। চারজন বিদেশী খেলোয়াড় তারা নিতে পারবে। সাত কোটি টাকার মধ্যে ভাল টিম করা সম্ভব। কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি চারজনের বেশি বিদেশী খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে না। এর বাইরে কেউ যদি আনতে চায় আনতে পারবে। সে অপশন তাদের আছে। তবে তাদের পেমেন্ট গ্যারান্টি বিসিবি নেবে না। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।’