২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস বন্ধ ॥ চরম ভোগান্তি

  • আটকা ৭ শতাধিক যান

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ নাব্য সঙ্কটে শিমুলিয়া (মাওয়া)-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। তাই দু’পারে ৭ শতাধিক যান আটকা পড়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টায় ফেরি সার্ভিস বন্ধ হওয়ার পর শনিবার সারাদিনে শিমুলিয়া থেকে ফেরি ছেড়ে গেছে মাত্র ৭টি। তার মধ্যে দুটি গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেও বাকি ৫টি ফেরিঘাটে ফিরে এসেছে। ফিরে আসা ফেরিগুলো নদীতেই লোড অবস্থায় ঘাটের কাছে ভেসে থাকতে দেখা গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে অসংখ্য যাত্রী। এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে পড়ছে এর প্রভাব।

বিআইডব্লিউটিএর মাওয়ার সহকারী মহাব্যবস্থাপক এসএম আশিকুজ্জামান জানান, নাব্য সঙ্কটের কারণে গত দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে ফেরি চলাচল নানাভাবে ব্যাহত হয়ে আসছে। শনিবার সকাল ৯টায় ‘ফেরি ফরিদপুর’ সাবেক হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন এমপিকে নিয়ে রওনা হলেও লৌহজং টার্নিং পার হতে পারিনি। দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে তাকে নিয়ে ফিরে আসে ফরিদপুর ফেরিটি। পরে এই লিটন চৌধুরী স্পিটবোটে নদী পাড়ি দেন।

পরবর্তীতে জোয়ারে টানা ফেরি টাপলু, লেন্টিং, যমুনা, রানীক্ষেত ও রামশ্রী সকাল ১০টা পরে শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে গেলেও লৌহজং টার্নিং পার হতে পারেনি। পরে এগুলো শিমুলিয়া ঘাটে ফিরে আসে। ঘাটের কাছেই নদীতে যানবাহনসহ ফেরিগুলো ভাসতে থাকে। ফলে ঘাট এলাকায় দেখা দেয় ফেরিজট। এছাড়া বেলা ১১টা ও সাড়ে ১২টার দিকে জোয়ারের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় কে টাইপ ফেরি ক্যামেলিয়া ও কুসুমকলি লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট অতিকষ্টে পাড়ি দিয়ে কাওড়াকান্দি ঘাটে পৌঁছতে সক্ষম হয়। ওপারে তেমন কোন ফেরি না থাকায় কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে ফেরি ছেড়ে আসেনি।

শনিবার কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে কোন ফেরি ছাড়েনি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরি সার্ভিসে বিপর্যয় চলছে গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে। বৃহস্পতিবার থেকে তা চরম আকার ধারণ করে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দুর্গতি বেড়ে যায়। শুক্রবার নৌপরিবহনমন্ত্রী পরিদর্শন করে নাব্য সঙ্কটরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।

নাব্য সঙ্কটরোধে ড্রেজিং করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মোঃ সুলতান উদ্দিন খান জানিয়েছেন, নাব্য সঙ্কট দূর করতে গত ২১ জুলাই হতে পদ্মা নদীর লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে তিনটি ড্রেজার কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৩৬০ ফুট প্রশস্ত আপ সাইটে ড্রেজিং করা হয়েছে, যা দিয়ে ফেরিগুলো চলাচল করছে। এখন আরও ৩৬০ ফুট ডাউন সাইটে মাটি খননের কাজ চলছে। কিন্তু পদ্মা প্রচ- স্রোত আর বন্যার কারণে উজান থেকে নেমে আসা পলি মাটি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে চ্যানেলের মুখ।

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই ইউনুছ আলী জানিয়েছেন, ফেরি বন্ধ থাকায় কারণে শিমুলিয়া ঘাটে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।