২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষা সফরে জাবি শিক্ষার্থীরা

সকালের ঘুমন্ত নীরবতা মাড়িয়ে কিছু শিক্ষার্থী নতুন কলাভবনের সামনে হাজির হতে শুরু করেছে। কারণ একটাই, সীমানা পেরিয়ে উড়াল দেয়ার ইচ্ছা তাদের। নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষার রুটিনকে সাময়িক স্থগিত রেখে দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়ার এ সুযোগ এনে দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রমণ সংগঠন ‘এক্সপ্লোরার্স’।

এক্সপ্লোরার্স প্রায়ই সময় সুযোগ মতো আয়োজন করে থাকে এমন দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়ার মজার কর্মসূচী। আজ তারা আয়োজন করেছে টাঙ্গাইলের করটিয়ার দানবীর জমিদার চাঁদ মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত এবং যমুনা পাড়ে গিয়ে স্বচক্ষে যমুনার পানির রং আসলেই কালো নাকি হলুদ সেটা দেখার কর্মসূচী। সংগঠনের পক্ষ থেকে অফিসিয়াল একটা বয়ানের পর সকাল আটটার সময় নতুন কলা ভবনের সামনে থেকে প্রায় পঞ্চাশজনের দলসহ বাস ছেড়ে দিল টাঙ্গাইলের উদ্দেশে। বাসের মধ্যে শুরু হয় ঢোল, তবলা আর খঞ্জনিসহ অদ্ভুত সব কোরাস গান। দুপুর ১২টার দিকে আমরা করটিয়ার জমিদার দানবীর ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর (চাঁদ মিয়া) কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হই।

জমিদারের কৃর্তী ঘুরে ঘুরে দেখলাম। কিছু কিছু সংস্কার হয়েছে। লাইটহাইস ল্যাব স্কুল-কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে স্থাপত্যটি। দিনটি শুক্রবার থাকা সত্ত্বেও কেন যে ক্লাস চলছে তা মাথায় ঢোকানোর প্রয়োজন কেউ মনে করলাম না। জমিদার চাঁদ মিয়ার ওপর একটা ফ্রি বয়ান শোনার ব্যবস্থা হলো কলেজ শাখার প্রিন্সিপাল সাহেবের মুখ থেকে। সবই এক্সপ্লোরার্সের অবদান। জমিদার চাঁদ মিয়া প্রজাবৎসল এবং দানবীর ছিলেন। অত্যাচারী ছিলেন না। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে ১৯২১ সালে গ্রেফতার হন। জনকল্যাণকর অনেক কিছুই তিনি করেছিলেন। মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, ‘এমন জমিদার থাকলে জমিদারবিরোধী আন্দোলন করতাম না।’ কবি গোলাম মোস্তফা তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘চাঁদ মিয়া বাংলার দ্বিতীয় মোহসীন।’ পরে যমুনার পাড়ে রওনা হলাম। যমুনার পাড়ে গিয়ে বিশাল নদী আর তার আকাশে সবাই নিজেকে উজাড় করে দিলাম। আজ আর কেউ কাউকে ধরে রাখব না কিছুক্ষণের জন্য। সারা বিকেলটা যমুনার বাতাস আর পানির সঙ্গে যেমন ইচ্ছা তেমন কাটালাম। দৃষ্টিটা অবশ্য বঙ্গবন্ধু সেতুতেও ছিল। ভিজতে কারও মানা ছিল না। বিভিন্ন ঢঙে ছবি তুলতে গিয়ে কেউ ভুলেও ক্লান্ত হয়নি। পড়ন্ত বিকেলে সবুজ ক্যাম্পাসের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু। তখন সবার মুখে শুধু একটিই গান, ‘আমার যমুনার জল দেখতে কালো, চ্যান করিতে লাগে ভাল, যৌবন মিশিয়া গেল জলে...।’

ওয়ালীউল্লাহ মিঠু