২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইসলামপুর মার্কেট গজ কাপড়ের ব্যবসায় ভাটা

  • মোঃ জাভেদ বিন এ হাকিম

তেমন কোন সাড়া শব্দ নেই। দোকানিরা বসে বসে ঝুমুচ্ছেন। কেউ কেউ অবশ্য অন্য দোকানির সঙ্গে কথা বলছেন। চেহারাই বলে দিচ্ছে- হতাশার কথাই তারা বলছেন। ক্রেতা নেই, ব্যবসায় মন্দা এমন পরিস্থিতিতে এটাই স্বাভাবিক চিত্র। বলছি, ইসলামপুর পাইকারি গজ কাপড়ের বাজারের কথা। সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র দিয়ে শুরু করায় ভাবছেন মজা করছি। যে বাজার সবর্দা ক্রেতা-বিক্রেতায় কোলাহলপূর্ণ থাকে, সেখানে নির্জনতার কথা বললে অবাক হওয়া বিচিত্র নয়। কিন্তু ব্যবসায় মন্দা ইসলামপুর পাইকারি গজ কাপড়ের দোকানগুলোকে নির্জন করে তুলেছে। আদি পুরান ঢাকার ইসলামপুর হলো দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পাইকারি গজ ও শাড়ি কাপড়ের বিশাল বাজার। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরা ব্যবসায়ীরা গজ কাপড় কিনে নিয়ে যায় পাইকারি দরে। শুধু তাই নয়, বিদেশেও রফতানি হয় এখান থেকে। ফলে সর্বদাই হৈচৈ লেগেই থাকে। ইদানীং সেই রমরমা ব্যবসায় ভাটা পড়েছে।

ইসলামপুর মূল সড়কের প্রথম ও শেষ ভাগের দু’পাশের মার্কেটগুলোতে রয়েছে শাড়িকাপড়। মাঝামাঝি স্থানের মার্কেটে বেচা-বিক্রি হয় চাদর, থ্রি-পিস, সুতির কাপড়, ভয়েল পবলিন ও মার্কিন কাপড়। সময়ের পরিক্রমায় কাপড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মূল সড়ক ছাপিয়ে আশপাশের সড়ক ও লেনেও স্থান করে নিয়েছে। জিএল গার্থ লেন, আশেক লেন, সৈয়দ আওলাদ হোসেন রোডসহ নওয়াব বাড়িতে রয়েছে বিশাল বিশাল সব কাপড়ের মার্কেট, বিশেষ করে এখন পাইকারি কাপড়ের বাজার বলতেই ক্রেতাদের প্রথম পছন্দের তালিকায় হলো এই নওয়াব বাড়ি। ঐতিহ্যবাহী নওয়াব বাড়ির প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই দু’পাশে রয়েছে বিশাল বিশাল সব পাইকারি মার্কেট সঙ্গে খুচরা ক্রেতাদের জন্যও রয়েছে হকার্স মার্কেট। বিশেষ করে চায়না মার্কেটের পরিচিতি রয়েছে দেশের সীমা পেরিয়ে সুদূর জাপান পর্যন্ত। চায়না মার্কেট পার করে আরেকটু এগিয়ে গেলেই প্লাজা মার্কেট। দেশী-বিদেশী শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি ও মহিলাদের জামা, বোরখা, পলেস্টার ও আনস্টিজ থ্রি-পিস, চাদর, পর্দা, সোফার কাভারের গজকাপড় পাওয়া যায়। দেশী-বিদেশী প্রায় সব ব্র্যান্ডের গজ কাপড় এ মার্কেটগুলোতে পাওয়া যায়। এমনকি এ মার্কেটগুলোতে শাড়ি ও লুঙ্গিও পাইকারি বিক্রি হয়।

দেশের সবচেয়ে প্রাচীন পাইকারি গজ কাপড়ের জন্য ইসলামপুর হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের আস্থা ও নির্ভরতার বাজার। সবসময়ই এ বাজার ছিল রমরমা। কিন্তু ইদানীং এখানকার ব্যবসায়ীরা যেন পার করছেন চরম এক ক্রান্তিকাল। অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে দিশাহারা। ব্যবসায় না থাকায় দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতেই পুঁজিতে টান পড়ছে। অনেক সমস্যায় জর্জরিত হওয়ার কারণেই একদা রমরমা পাইকারি গজ কাপড়ের বাজার আজ বেহাল দশা। ইসলামপুরের রাস্তার চরম দুরবস্থা, একটু বৃষ্টিতেই হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে একাকার। কর্দমাক্ত পথে সৃিষ্ট হয় ভয়াবহ যানজট। বড় বড় আলিশান মার্কেটগুলোতে নেই শৌচাগারের কোন ব্যবস্থা। অধিকাংশ মার্কেটগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা না থাকায় প্রচ- গরম ভোগ করতে হয় ক্রেতাদের। এতসব অসুবিধা সত্ত্বেও ক্রেতারা স্বল্পমূল্যর কারণে এ মার্কেটে ভিড় করতেন।

কিন্তু এখন এখানেও গজকাপড় কিনতে হয় অনেক বেশি দাম দিয়ে। ফলে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান আতিক এ বিষয়ে বলেন, কাপড় আমদানি করার পর সঠিক সময়ে এসে বাজারে পৌঁছাতে না পারার কারণে খরচ বেড়ে যায় ফলে আমরা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। আর এ কারণে কমে যাচ্ছে আমাদের ক্রেতার সংখ্যা। তাছাড়া আমাদের অনেক ডিজাইন ফেল হয়ে যাচ্ছে, তাই লোকসানে মাল বিক্রি করে ব্যাংকলোন পরিশোধ করতে করতে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছি। ইসলামপুরের ব্যবসায় ধস নামার আরেকটি কারণ উদ্ঘাটন করা যায় ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসাইনের কাছ থেকে। তিনি বলেন,‘ ‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অবৈধভাবে প্রচুর গজকাপড় আসছে। এবং তা বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে। ফলে দেশী উৎপাদকরা লোকসানের মুখোমুখি। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক কাপড়ের মিল বন্ধ প্রায়।’ এসব নানা কারণেই আজ ইসলামপুরের পাইকারি গজকাপড়ের ব্যবসায় মন্দা। প্রতিবছর সরকার বৃহৎ এই পাইকারি বাজার হতে প্রচুর রাজস্ব পান। কিন্তু এখন মন্দার কারণে সে রাজস্ব প্রাপ্তি নিয়েও দেখা দিয়েছে সঙ্কট। সরকার ও ব্যবসায়ীদের কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপই পারে ইসলামপুরের পাইকারি গজ কাপড়ের ব্যবসায়কে আবারও চাঙা করে তুলতে।