২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাঙ্গাশ চাষে বিপ্লব

  • ফজলুল

যে গ্রামের নিত্যসঙ্গী ছিল অভাব আর অনটন তার নাম ষোল টাকা। পাঙ্গাশ চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ওই ষোল টাকা গ্রামের মানুষের। রাত পোহালে গ্রামের কোথাও না কোথাও অভাবের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিত। এখন পাঙ্গাশ চাষকে কেন্দ্র করে বদলে গেছে পুরো গ্রামের চিত্র। গ্রামের প্রতিটি পরিবারই মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত। এক একটি বাড়ি এখন এক একটি মৎস্য খামার।

মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম ষোল টাকা। এ গ্রামে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসবাস। দশ বছর আগেও এ গ্রামের মাঠজুড়ে চাষ হতো সোনালি ধানের। পেশার মধ্যে অন্যতম ছিল কর্মকার পেশা। সেই পেশা ছেড়ে সবাই এখন মাছ চাষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সোনালি ধানের ক্ষেতগুলো এখন এক একটি পুকুর। মাঠের দিকে দৃষ্টি দিলে পুকুরের পর পুকুর চোখে পড়বে। প্রায় সাড়ে ৩শ’ পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরজুড়ে চাষ করা হচ্ছে শুধুই পাঙ্গাশ। গ্রামের প্রতিটি পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস পাঙ্গাশ চাষ। যার পুকুর করার জমি নেই সে অন্যের পুকুরে শ্রম দিয়ে রোজগার করছে। ধানী জমিগুলোতে প্রতি বছরই ড্রেজারের সাহায্যে খনন করা হচ্ছে নতুন নতুন পুকুর। গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরি না খুঁজে ঝুঁকছে মাছ চাষের দিকে।

গ্রামের বড় মাছ চাষী সাবেক ইউপি মেম্বর দেলোয়ার জানান, মাছ চাষকে কেন্দ্র করে এ গ্রামে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধ শতাধিক এ মাছের খাবার উৎপাদনকারী মিল। এসব মিলে খৈল, চালের গুঁড়া, রাইস পালিশ, ভুট্টার ময়দা, লবণ, মিটবল, ফিস মিল, ভিটামিন ইত্যাদি মিশিয়ে তৈরি করা হয় মাছের খাবার। নিজেদের তৈরি খাবার ছাড়া অন্য কোন খাবার পুকুরে দেয়া হয় না। প্রতিদিন এখানে এক হাজার বস্তা খাবার তৈরি হয়। খাবারের উপকরণগুলো পোড়াদহ খাজানগর থেকে আমদানি করা হয়। মিলগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক’শ লোকের। সকাল হলেই শত শত ফড়িয়া ট্রলি, পিকআপ, ভ্যান নিয়ে এ গ্রামে আসে মাছ কিনতে। সারাদিন চলে মাছ কেনা-বেচা। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। এক একজন চাষী বছরে ৪ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে। আরেক মাছ চাষী সেলিম আজাদ মনুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার চাহিদা মিটিয়ে মাছ চলে যাচ্ছে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, কালীগঞ্জ, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায়। মাছ চাষের মাধ্যমে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে প্রতিটি পরিবারে। চাষী শফিউল ইসলাম জানান, এ গ্রাম এখন পাঙ্গাশ চাষের মডেল। এ গ্রামে কোন বেকার নেই, নেই কোন সন্ত্রাস। মানুষ বিদেশ গিয়ে যা আয় করছে তার চেয়ে বেশি আয় করা সম্ভব এই গ্রামে বসে।

নির্বাচিত সংবাদ