২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘নারীর কর্মক্ষেত্র থেকে নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে হবে’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রত্যেক পেশাজীবী নারী নির্বিঘেœ, নিরাপদে যাতে কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফিরতে পারে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকেই এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই পেশাজীবী নারীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবে। শনিবার বিকেল চারটায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘একবিংশ শতাব্দীর পেশাজীবী নারীর চ্যালেঞ্জ : রাষ্ট্র ও সমাজের করণীয়’ শীর্ষক পেশাজীবী নারী সমাবেশে এসব কথা বলেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম।

তিনি বলেন, নারীরা এখন কোথাও নিরাপদ নয়। সম্প্রতি নারীর প্রতি নির্যাতন উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ধর্ষণ, খুনসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তাই শুধু পেশাজীবী নারীই নয় সকল নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার, রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার সবার দায়িত্ব।

আজকের নারীরা নিজের মেধা দক্ষতা মনন দিয়ে সমস্ত বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে বিভিন্ন পেশায় এসেছে, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় প্রতিনিধিত্ব করছে। নারীরা সময়ের বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। সামরিক বাহিনীতে, পর্বতারোহণে, প্রশাসনসহ কাজের সকল ক্ষেত্রে নারীরা সাহসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করছে। জনজীবনে নারীর জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পরিবার-সমাজ-প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের ব্যাপক সংখ্যার কর্মজীবী-পেশাজীবী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নীতিমালা ও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির এবং মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নারীর মেধা-মনন বিকাশে সরকারী ও বেসরকারীভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কর্মজীবী নারীসহ সকল স্তরের নারী কর্মক্ষেত্রে তথা সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে কর্মসূচী পালন করে আসছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পেশাজীবী নারীরা বাংলাদেশের নারীর মানবাধিকার তথা নারী উন্নয়নের আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের শক্তি সংহতকরণের লক্ষ্যে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাসব্যাপী সাংগঠনিক মাস পালনের কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। এই সাংগঠনিক মাস একযোগে কেন্দ্র এবং ৬১ জেলা শাখায় ও ২৩০০ তৃণমূল শাখায় বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এবারের সাংগঠনিক মাসের মূল ফোকাস হচ্ছে সংগঠনের কার্যক্রমে পেশাজীবী নারীদের সম্পৃক্তকরণ। সমাবেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত কর্মজীবী নারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, একজন নারী পুরুষের ন্যায় কাজ করতে পারলেও নারী হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সবসময় তাকে নিচু দেখানোর চেষ্টা হয়। এখনও আমাদের দেশে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা এগিয়ে যেতে পারছে না।

প্রারম্ভিক বক্তব্যে মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্ত কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সেক্টরে ও বিভিন্ন স্তরে নারীদের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকা-ে আগের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। তবে পেশাজীবী নারীদের মধ্যে যেখানে ৪র্থ শ্রেণীতে শতকরা হার ১৫, সেখানে ১ম শ্রেণী এ হার ৫। তিনি উল্লেখ করেন, বাস্তব প্রয়োজনে সময়ের পরিবর্তনের ফলে নারীরা সাহসী ভূমিকা রাখছে। একুশ শতকের পরিবর্তিত সময় যেমন সামনে কাজ ও ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে তেমনি কর্মক্ষেত্রে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বৈষম্য, যানবাহন সমস্যা, যৌন হয়রানি, সাইবার ক্রাইম, প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশুরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি পারিবারিক মানসিকতার রক্ষণশীলতাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিভিন্ন পেশাজীবী ও কর্মজীবী নারীর দায়িত্ব হলো সাহস ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্ভাবনাকে বিশ্লেষণ করে সবকিছু মোকাবেলা করা।

তিনি বলেন, সরকারের পেশাজীবী ও কর্মজীবী নারীর জন্য সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। অবকাঠামোগতভাবে ডে কেয়ার সেন্টার, টয়লেটের এবং যাতায়াতের সুব্যবস্থা করতে হবে। সকল প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নারীর অংশগ্রহণ থাকতে হবে। সমাজের দায়িত্ব পরিবারকে নারীবান্ধব করা। সংসারের সকল কাজে নারী-পুরুষ উভয়ে মিলে করার মানসিকতা তৈরি করা। নারী মানুষ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ধারণ করা, লালন করা এবং বাস্তবে তার প্রতিফলন দৃশ্যমান করা।

কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগমের সঞ্চালনায় সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। অংশগ্রহণকারী পেশাজীবী নারী প্রতিনিধির পক্ষ থেকে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চিকিৎসক ডাঃ মেখলা সরকার, আইনজীবী এ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার, স্থপতি নবনীতা ইসলাম, শিক্ষক উম্মে কুলসুম নভেরা, ব্যাংকার কবিতা দাশ প্রমুখ। সমাবেশে পাঁচশতাধিক কর্মজীবী ও পেশাজীবী নারী অংশগ্রহণ করেন।