১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ার বিএনপি সমর্থন করে না ॥ হান্নান শাহ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ক্ষমতায় থাকতে ক্রসফায়ারে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করলেও এখন উল্টো কথা বলছে বিএনপি। শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আসম হান্নান শাহ বলেন, বিএনপি ক্রসফায়ার সমর্থন করে না। তিনি বলেন, ক্রসফায়ারের মাধ্যমে এ সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীসহ যেভাবে মানুষ হত্যা করছে তাতে তাদের বিদায়ের লক্ষণ শুরু হয়েছে।

হান্নান শাহ বলেন, বিদায়ের সময় অনেকে অনেক কিছুই বলে। এ সরকার ও সেসব কথা বলা শুরু করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বিদায়ের দোয়া চাওয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ শোক দিবস সঠিকভাবে পালন করে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, শোকদিবস করার আগে মন্ত্রিসভায় এবার তারা চাঁদাবাজি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে প্রমাণ হয় এর আগে তারা চাঁদাবাজি করেছেন।

সরকারকে উদ্দেশ করে হান্নান শাহ বলেন, বিচার বিভাগের বাইরে গিয়ে আপনারা মানুষ হত্যা করছেন। এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বিএনপি সমর্থন করে না। বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের অভিযোগে পাকিস্তনে যেমন ভুট্টোর ফাঁসি হয়েছে, দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরও একই অবস্থা হবে। ঢাকা মহানগরকে আন্দোলনের যুদ্ধক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে সংগঠন এই মহানগরে শক্তিশালী হবে, তারা বিজয়ী হবে। প্রবীণরা রাজপথে কম নামেন, তবে তারা আন্দোলন পরিচালনা করেন। তাই তরুণদেরই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিরোধী দল ও সুশীল সমাজকে সরকার সভা-সমাবেশ করতে দেয় না উল্লেখ করে হান্নান শাহ বলেন, এই সরকার সংবিধান ও আইন মানছে না। সংবিধানে আছে সবাই সভা-সমাবেশ করতে পারবে। কিন্তু সাংবিধানিক অধিকার থেকে বিরোধী দলকে বঞ্চিত করছে। তিনি বলেন, সরকারের যখন পতন আসন্ন হয়, তখন তারা বেপয়োরা হয়ে যায়। সরকারপ্রধান জনগণের সামনে আসতে ভয় পায়। আর জনগণকে ভয় পায় বলেই সরকার দেখামাত্র গুলি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। যখন গণেশ উল্টে যাবে তখন এই সরকারের কি অবস্থা হয় তা দেখা যাবে। ইনশাআল্লাহ সেদিন আর বেশি দূরে নয়।

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহের শত শত নেতাকর্মীকে কারাগারে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে হান্নান শাহ বলেন, গণতন্ত্র চাওয়ার অপরাধে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। তাই বলে আমাদের মনোবল ভাঙ্গেনি। খালেদা জিয়া নির্দেশনা দিয়েছেন দলকে শক্তিশালী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সবাইকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বন্দুকের জোরে সরকার বেশিদিন টিকতে পারবে না। গণমানুষের আন্দোলনের মুখে এই সরকারের পতন হবে। তিনি বলেন, মামলার কারণে আজ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সফু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু।

আয়োজক সংগঠনের নেতকর্মীদের উদ্দেশ করে হান্নান শাহ বলেন, আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে আপনারা এখানে অনুষ্ঠান করতে পারছেন। তবে আশা করি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যদি সঠিক সময়ে আন্দোলনের ডাক দেন এবং আপনারা যদি ওই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন তাহলে আগামী ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মুক্তভাবে পালন করতে পারবেন। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। আর এই স্বেচ্ছাসেবকই হবে আগামী আন্দোলনে বিএনপির রক্ষাকবচ। তাই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান তোমরা গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের স্বার্থে আন্দোলনের প্রস্তুতি নাও। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকব।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মনির হোসেন মনিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, শামীমুর রহমান শামীম ও শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল : ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান জড়িত বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।