১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জর্ডানে পাচার হওয়া পঞ্চগড়ের নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ বিদেশের নিষিদ্ধ পল্লীতে পাচার হওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেছে পঞ্চগড় থানা পুলিশ। নানা আইনী জটিলতা শেষে ওই নারীকে শুক্রবার জর্ডান থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। এরপর থানা হেফাজত থেকে আজ রবিবার ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হবে। এর আগে গত ৪ আগষ্ট পঞ্চগড় থানা পুলিশ পাচার চক্রের মুল হোতা নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। বর্তমানে সে জেলা কারাগারে আটক রয়েছে।

পুলিশ জানায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউপির আমবাড়ি গ্রামের মৃত-জয়নাল আবেদীনের মেয়ে চম্পাকে (২৪) তার চাচী রশিদা ও চাচির ভাই শহীদুল বিদেশে মোটা মাইনের চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গতবছর ৬ জুন টিকেট বাবদ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এর কিছুদিন পর রশিদা বোদা উপজেলার থানাপাড়া মহল্লার নজরুল ইসলামের কাছে নিয়ে যায়। সেখান থেকে নজরুল চম্পাকে ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় এবং ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার ফকিরাপুলের জিলেট টাওয়ারে অবস্থিত উইন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে জর্ডানে পাঠিয়ে দেয়। জর্ডান বিমানবন্দর থেকে চম্পাকে এক অপরিচিত ব্যাক্তি গাড়িতে করে প্রায় ৮ঘণ্টা দুরত্বের একটি ছোট শহরের ৬ তলা ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে। চম্পাকে ওই অপরিচিত লোকটি ৪ লাখ টাকায় কিনে নেয়। প্রতিদিন ওই লোকটি চম্পার কক্ষে গিয়ে নানা কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে মারধর করে এবং খাবারের সংগে নেশাজাতীয় ওষুধ মিশিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। এভাবে কেটে যায় সাতদিন। হঠাৎ একদিন চম্পা দেখতে পায় ওই কক্ষের জানালায় গ্লাস থাকলেও গ্রীল দেয়া নেই। জানালার পাশে স্যুয়ারেজ লাইনের পাইপ দিয়ে চম্পা কষ্ট করে নীচে নেমে সড়কের ওপর প্রহরারত পুলিশের কাছে যায়। স্থানীয় থানা পুলিশ চম্পাকে আহম্মদ আলী নামে এক ব্যবসায়ীর হেফাজতে দেয়। ওই ব্যবসায়ী চম্পাকে দিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করিয়ে নিজেই তার মজুরীর টাকা আত্মসাত করেন। এরইমধ্যে সুযোগ বুঝে চম্পা পঞ্চগড়ে পরিবারের মোবাইল ফোন নাম্বারে ফোন করে ঘটনা খুলে বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে নজরুল ইসলাম, রশিদা ও শহীদুলের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করাহলে আদালত মামলাটি এজাহারভুক্ত করতে পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জকে আদেশ দেন। পুলিশ গত ৪ আগষ্ট পাচারচক্রের মুলহোতা নজরুলকে গ্রেফতার করে। পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মমিনুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় মামলাটি এসআই রঞ্জু আহমদ তদন্ত করছেন।

এদিকে, শনিবার রাতে পঞ্চগড় থানায় উদ্ধারকৃত চম্পাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হলে তিনি জানান, জর্ডানের যে শহরের ৬ তলা ভবনে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল সেটি একটি নিষিদ্ধ পল্লী। ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে পাচার হয়ে যাওয়া আরও অনেক বাংলাদেশী মেয়ে বিভিষিকাময় জীবন যাপন করছেন।