২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘ভূমি সেবায় প্রতি ধাপেই ঘুষ’

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ভূমি সেবায় প্রতি ধাপেই অনিয়ম-দুর্নীতির স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই কাজে ঘুষ লেনদেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে সম্পত্তি আত্মসাৎ, রাজনৈতিক প্রভাব, ভোগদখলসহ চলছে লাগামহীন দুর্নীতি।

‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা কার্যক্রম: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্যই তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে টিআইবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমি সেবার প্রতিটি পর্যায়ে সেবাগ্রহীতাদের অনিয়ম-দুর্নীতির সম্মুখীন হতে হয় এবং অধিক পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়।

প্রতিবেদনে এ খাতে অতিমাত্রায় দুর্নীতি চলছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমন কোনো সেবা পাওয়া যাবে না যেখানে সেবাগ্রহীতারা অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয় না।

প্রতিবেদনে ভুমি সেবা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘুষের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমির নামজারির ক্ষেত্রে ৩ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা, হাটবাজার ইজারায় ১০ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা, খতিয়ান ও নকশার নকল কপি উত্তোলনে ২শ‘ থেকে ১ হাজার টাকা, দলিলের নকল উত্তোলন ৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, গ্রামাঞ্চলে প্রতি বিঘা ভূমি জরিপ ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা, শহরাঞ্চলে ৩শ’ থেকে ৫ হাজার টাকা, হাটবাজারে অতিরিক্ত টোল গ্রহণের বিরুদ্ধে যে কোন তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিহতকরণে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা, ভূমি সংক্রান্ত মামলার বিভিন্ন ধাপে ৩শ’ থেকে ১ হাজার টাকা, ভূমি উন্নয়ন করে ১শ’ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে ভূমি সংক্রান্ত ১৮ লাখ মামলার জট রয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনায় অপর্যাপ্ত জনবল ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভূমি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আমাদের দেশে ভূমি বিরোধ বৃদ্ধি পাচ্ছে, আদালতে মামলার জট সৃষ্টি হচ্ছে। ভূমি জরিপ, নামজারি, ভূমি রেজিস্ট্রেশন, নথিপত্র উত্তোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের একাংশ ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশের কারণে প্রকৃত ভূমি মালিকরা আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনা ব্যহত হচ্ছে এবং সেবা গ্রহীতাদের জনবান্ধব সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ওয়াহিদ আলম।

নির্বাচিত সংবাদ