২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘রানা দাশগুপ্তের বক্তব্য হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের ইঙ্গিত’

অনলাইন রিপোর্টার ॥ হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘সম্পত্তি দখল’ নিয়ে পিরাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালকে জড়িয়ে অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের দেওয়া বক্তব্যে ‘হিন্দু-মুসলিম বিভাজন’ সৃষ্টি করবে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‍পিরোজপুর জেলা আইন সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস।

গত ১৬ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘পিরোজপুরের ঘটনায় স্কুল শিক্ষকদের ও হিন্দু নেতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঢাকায় আনা হয়েছে। পিরোজপুর নিবাসী জগন্নাথ হলের ছাত্রদের এমপির পক্ষে মানববন্ধনে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। তারা যাননি।’

এ বক্তব্য তুলে ধরে কানাই লাল বিশ্বাস বলেন, এই উক্তি সম্পূর্ণভাবে অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। ওই কর্মসূচি ছিল পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিসহ জেলাব্যাপী সব হিন্দু নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, শিক্ষক সমাজ তথা সর্বস্তরের জনগণের।

রানা দাশগুপ্তের ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস।

রানা দাশগুপ্তকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ভবিষতে তিনি যেন এ ধরণের অসত্য তথ্য বিবর্জিত বক্তব্য থেকে বিরত থাকেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরূপকাঠি উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আশিস কুমার বড়াল বলেন, রানা দাশগুপ্ত গত ৬ আগস্ট তার বক্তব্যে বলেছেন, এমপি আউয়াল হিন্দুদের দোকান দখল করেছেন। কিন্তু এ রকম কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি।

রানা দাশগুপ্তের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করি। এ প্রতিবাদের বিষয়ে রানা দাশগুপ্ত আবার ১৬ আগস্ট আরেক বক্তব্যে বলেছেন, এমপি ভয়ভীতি দেখিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমরা কারও পক্ষে আসিনি। তিনি কারও দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে ওই বক্তব্য দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়েরর মানুষকে জড়িয়ে রানা দাশগুপ্তের দেওয়া বক্তব্য ‘সাম্প্রদায়িক বিভাজন’র ঈঙ্গিত করে। হিন্দু জাতিকে কলুষিত করতে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় কারও ভয়ভীতিতে আক্রান্ত হয়নি, বরং তার বক্তব্য (রানা দাশগুপ্ত) হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর প্রচণ্ড আঘাত বলে মনে করি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সমীর কুমার বাচ্চু, স্বরূপকাঠি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিধান চন্দ্র মৈত্র, সাধারণ সম্পাদক সনজীব কুমার হালদার, আরসি সংস্কৃতি কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ সন্যাসী।