২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিন

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব থাকায় সুচির সমালোচনায় ওআইসি মহাসচিব;###; মুসলিম বিশ্বের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালন করায় দেশটির বিরোধী নেত্রী আউং সান সূচির কঠোর সমালোচনা করেছেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) মহাসচিব আইয়াদ বিন আমিন মাদানি। এদিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য মুসলিম উম্মার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওআইসি মহাসচিব সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

ঢাকায় সফররত ওআইসি মহাসচিব আইয়াদ বিন আমিন মাদানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওআইসি মহাসচিব রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালন করায় মিয়ানমারের বিরোধী নেত্রী আউং সান সূচির কঠোর সমালোচনা করেন।

ওআইসি মহাসচিব মাদানি বলেন, মিয়ানমারের মুসলিমদের নিজস্ব জাতিসত্তাসহ সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যা খুবই উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু এক্ষেত্রে শান্তিতে নোবেল জয়ী নেত্রী আউং সান সূচি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। যা তার মতো নেতার কাছ থেকে কখনই আশা করা যায় না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বিগ্ন জানিয়ে ওআইসি মহাসচিব বলেন, আমরা বিষয়টি মিয়ানমার সরকারের কাছে বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কারও কোন কথা শুনতে চাইছে না।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ওআইসি আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে বলেও জানান সংস্থাটির মহাসচিব। তিনি বলেন, আশা করছি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও সরব ভূমিকা পালন করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন ওআইসি মহাসচিব। বৈঠকের বিষয়ে আইয়াদ বিন আমিন মাদানি বলেন, ওআইসিকে কীভাবে আরও কার্যকর সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে কথা হয়েছে। একই সঙ্গে ওআইসির আগামী সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ওআইসি মহাসচিব বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ওআইসি কাজ করছে। ওআইসির কর্মসূচী ও লক্ষ্য উন্নয়নে বাংলাদেশেরও সহযোগিতা রয়েছে। আগামীতে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মাদানি বলেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানো ওআইসির অন্যতম কর্মসূচী। ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকাকে প্রশংসনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সকালে ওআইসি মহাসচিব আইয়াদ আমিন মাদানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য বৈঠক করেন। এ সময় ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তরিত জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি সৌদি আরবে আত্মঘাতী বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, ইসলামে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক মুসলিম দেশ নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত। এতে অন্যদের সুবিধা নেয়ার সুযোগ সৃৃৃৃষ্টি হচ্ছে।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইসলামকে শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম হিসাবে উল্লেখ করেন এবং মুসলিম দেশগুলোর একে অপরের মধ্যে যুদ্ধকে বলেন ‘অনাকাক্সিক্ষত’। তিনি বলেন, ইসলামের আসল মর্মবাণী জানতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মুসলিম দেশগুলোতে এ শিক্ষার প্রসারে ওআইসিকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। গবেষণা খাতে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ বরাদ্দের কথাও এ সময় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মুসলমান গবেষকদের গৌরবময় ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার পথিকৃত তারাই। ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ সব সময় ওআইসির সামনের সারিতে রয়েছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ওআইসির আগামী সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশে জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূত মাশাতো ওয়াতানাবে পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশে আরও বেশি জাপানী বিনিয়োগের প্রত্যাশার কথা বলেন। বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জাপানী রাষ্ট্রদূতকে জানান। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ী রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন ইয়াং এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

ওআইসি মহাসচিব মাদানির সম্মানে রবিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন মেঘনায় এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ওআইসি মহাসচিব আইয়াদ বিন আমিন মাদানি তিন দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় এসেছেন। সফর শেষে তিনি আজ সোমবার ঢাকা ত্যাগ করবেন। মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি তার দ্বিতীয় ঢাকা সফর। এর আগে গত বছর মার্চ মাসে ঢাকা সফরে এসেছিলেন ওআইসি মহাসচিব মাদানি।