২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার চীনের কাছে আরও ১৭ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া হবে

  • বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকা সফরে আসছেন আজ

এম শাহজাহান ॥ বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে চীনের কাছে এবার প্রধান ১৭টি পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধার প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্যও সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া দেশটির সঙ্গে এ পর্যন্ত যতগুলো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবে সরকার। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী গাও হোচ্যাঙ দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ সোমবার ঢাকা আসছেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে আগামীকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ওই সভায় পণ্য রফতানি সংক্রান্ত সুবিধা চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। এ খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, প্রতিবছর চীন বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করছে। বিপরীতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি মাত্র ৪৫ কোটি ৮১ লাখ ডলারের। এতে করে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। বিশাল এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে এবার বাংলাদেশ ১৭টি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা চাইবে। এই ১৭টি পণ্যের মধ্যে দেশের প্রধান রফতানিপণ্য গার্মেন্টস, চামড়া, পাটজাতপণ্য ও কৃষিজাতপণ্য রয়েছে। রফতানিতে সুবিধা পাওয়াসহ চামড়া, ওষুধ, বিদ্যুত ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, হাল্কা প্রকৌশল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, বস্ত্রখাত, যোগাযোগ ও অবকাঠামোতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে এই সফরে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে চীনকে আরও বেশি বাংলাদেশী পণ্য আমদানিতে উৎসাহিত করা হবে। বাংলাদেশী পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রুলস অব অরিজিনের ৪০ শতাংশ শর্ত ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের কাছে মাল্টিপল ভিসা সুবিধা দাবি করা হবে।

এদিকে, চীন বাংলাদেশের ৪ হাজার ৭৮৮টি পণ্য রফতানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দিলেও এতে প্রধান পণ্যগুলো নেই। ফলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কমছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে এবার ওই সুবিধার বাইরে থাকা প্রধান প্রধান রফতানি পণ্যের মধ্য থেকে ১৭টির ক্ষেত্রে শুল্ক কোটামুক্ত রফতানি সুবিধা চাওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) শওকত আলী ওয়ারেছী জনকণ্ঠকে বলেন, চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এবার ১৭টি প্রধান রফতানি পণ্যের জন্য শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা চাওয়া হবে। এর মধ্যে গার্মেন্টসসহ দেশের প্রধান প্রধান রফতানি পণ্য রয়েছে। তিনি বলেন, চীন থেকে যে পরিমাণ আমদানি হয়, বিপরীতে রফতানি অনেক কম। কিন্তু বাংলাদেশী অনেকগুলো পণ্য এখন চীনে রফতানি হতে পারে। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অনেক খাতে চীনের বিনিয়োগ হতে পারে। ইতোমধ্যে চীনের উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল দেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সুবিধা গ্রহণ করে চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এগিয়ে আসবেন।

জানা গেছে, ঢাকা সফরকালে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে। চলতি বছরের শেষভাগে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ওই সফরের গ্রাউন্ড ওয়ার্ক হিসেবে তিনি ঢাকা সফর করছেন বলেও অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে।

জানা গেছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ চীনকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় সংবলিত ১৪টি অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে আরও সহায়তা চাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। চীনের সহযোগিতায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ, যমুনা রেলব্রিজ, ঢাকা-কুমিল্লা উচ্চ গতিসম্পন্ন রেল যোগাযোগের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ, চীন-ভারত-মিয়ানমার নিয়ে গঠিত (বিসিআইএম) সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চাওয়া হবে। বিশেষ করে কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে টানেল স্থাপন ও কালুরঘাটে রেলব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর সঙ্গে সমান্তরালভাবে রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পে চীনের সহায়তা চাওয়া হবে।