২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোহিঙ্গাদের অন্যত্র স্থানান্তর ভ-ুলে মরিয়া একটি মহল

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার থেকে ॥ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ রোহিঙ্গার সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। উখিয়া-টেকনাফ থেকে সরিয়ে হাতিয়ায় স্থানান্তর করতে সরকারের সিদ্ধান্ত অকার্যকর করতে একটি বিশেষ মহল রোহিঙ্গাদের উস্কানি দিয়ে ক্যাম্প ত্যাগ করাচ্ছে। এ কাজে একাধিক জামায়াত নেতার সহযোগিতায় ভূমিকা পালন করছে আরএসও জঙ্গী গোষ্ঠী। রোহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত ভ-ুল করতে মরিয়া হয়ে উঠছে একটি বিশেষ মহল। এদের সহায়তা পেয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা জঙ্গীরা। গত দুই

মাসে শরণার্থী ক্যাম্প ও বস্তি (স্থানীয় ভাষায় টাল) থেকে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে শহর ও বিভিন্ন গ্রামে। শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে তারা। অনেকে আশ্রয় নিয়েছে আগে থেকে বসবাসকারী স্বজনদের কাছে। এদের সন্তানদের দেয়া হয়েছে আরএসও অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। যুবকদের অনেকে ঠাঁই করে নিয়েছে পাহাড়ী এলাকায় মসজিদ মাদ্রাসার নামে গড়ে ওঠা আরএসও জঙ্গীদের আস্তানায়। রোহিঙ্গা জঙ্গী আবু ছালেহ নামে এক আরএসও ক্যাডার শরণার্থী ক্যাম্প ও বস্তি থেকে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করছে। এর ব্যয়ভার বহন করছে ইব্রাহীম আতিক নামে প্রথম সারির এক রোহিঙ্গা জঙ্গী। তিনি ঢাকায় ওয়ামির অফিসে বসে বিদেশী অর্থায়নে এ সব নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানা গেছে। আবু ছালেহ ও ইব্রাহীমের বাড়ি মিয়ানমারের বুচিদং থানায়। তারা রোহিঙ্গা সেবার নামে বিদেশ থেকে অর্থ এনে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে।

এদিকে দিনদিন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরে বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভুয়া ঠিকানায় পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সংগঠিত করছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-। এ সব রোহিঙ্গার কারণে বিদেশে সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে বাংলাদেশীদের। অভিজ্ঞজনরা জানান, অশিক্ষিত হলেও অপরাধ জগতের ম্যানুয়েল তৈরি করতে পটু রোহিঙ্গারা। টেকনাফে বসে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের কাজ প্রথম শুরু করেছিল রোহিঙ্গারা। তাদের দেখে এক শ্রেণীর অসাধু দালালচক্র সাগরপথে মানবপাচারে মেতে ওঠে। জঙ্গীপনা, মাদক, মানবপাচার, চুরি-ডাকাতি, অপহরণ ও নানা অপরাধমূলক কর্মকা- সবই রোহিঙ্গাদের সৃষ্টি। কতিপয় দালালের কারণে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা যাচ্ছে না।

রোহিঙ্গারা যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য বিষফোঁড়া তা বুঝে উঠতে বাকি নেই তাদের। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে (১৯৭৮, ১৯৯১Ñ১৯৯৪) লাখ লাখ রোহিঙ্গা এদেশে এসে আশ্রয় নেয়। বেশির ভাগ শরণার্থী ফিরে গেলেও চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে রয়ে গেছে।

জানা গেছে, কট্টরপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীর পক্ষে নাশকতার কাজে সহযোগিতা করছে অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা জঙ্গীরা। আর জঙ্গীগ্রুপ আরএসও’র হাতেখড়ি হচ্ছে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের নাম ভাঙিয়ে বিদেশী সাহায্য এনে আরএসও নেতাদের অনেকে বর্তমানে কোটিপতি। তারা রোহিঙ্গাদের সেবার নামে বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রচুর টাকা এনে পাহাড়ী অঞ্চলে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে গড়ে তুলছে জঙ্গী আস্তানা। সম্প্রতি ভয়ঙ্কর জঙ্গী আবু ছালেহ নামে এক আরএসও ক্যাডার কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর ছনখোলা পাহাড়ে গড়ে তুলেছে একাধিক রহস্যময় স্থাপনা। এখানে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে জঙ্গী আবু ছালেহকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হলেও আইনের ফাঁকফোকর এবং কতিপয় অসৎ পুলিশের গাফিলতিমূলক রিপোর্টের কারণে এ ভয়ঙ্কর জঙ্গী বেরিয়ে গেছে জেলহাজত থেকে।