২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন পিছিয়ে দিতে পারে

  • সেমিনারে আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিদ্যুত খাতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন পিছিয়ে দিতে পারে। রবিবার রাজধানীতে এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, উন্নয়ন নীতি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখতে হবে। ভবিষ্যত জ্বালানি নিরাপত্তায় বাংলাদেশের অবস্থা পর্যালোচনায় আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা নিজস্ব জ্বালানির সংস্থান কমে যাওয়ায় এ খাতের নিরাপত্তা

ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন।

রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাক্ষিক এনার্জি এ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকা ‘২০৩০ সালের জ্বালানি চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে। পত্রিকাটির যুগপূর্তি উপলক্ষে এই সেমিনারে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, সরকারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা ভবিষ্যত জ্বালানি নিরপাত্তায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেন।

সেমিনারে বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আগামী দিনের জ্বালানির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের যথাযথ প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা আমাদের সমস্যা চিহ্নিত করে যথাসময়ে তা নিরসনে সচেষ্ট রয়েছি। তিনি বলেন, ২০৩০ সালে ৪০,০০০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। এর জন্য সময়মতো প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহই মূল চ্যালেঞ্জ। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে আমদানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এলএনজি টার্মিনাল করা হচ্ছে। এলএনজি কিভাবে শিল্পে দেয়া যায় তা নিয়ে মন্ত্রণালয় ভাবছে। তিনি জানান, এ মুহূর্তে নতুন ক্ষেত্র থেকে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা না থাকলেও বিদ্যমান কয়লার উত্তোলন প্রক্রিয়া উন্নততর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জামালগঞ্জ কয়লা ক্ষেত্রে মিথেন গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পরামর্শক নিয়োগ করা হচ্ছে। দেশীয় কয়লা উত্তোলনের বদলে আমদানির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন কয়লা সমৃদ্ধ এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখে বর্তমানে দেশের কয়লা উত্তোলনের কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি না।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদ্যুত জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বলেন, উন্নয়ন নীতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। নীতি নীতির মতো চলতে দেয়া উচিত। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। বিদ্যুত জ্বালানি খাতে যত পরিকল্পনা করা হয়েছে তার ৫০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। বিদ্যুত উৎপাদনে ২০৩০ পর্যন্ত যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। দেশে জ্বালানির ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, শহরে দেশের ৩৩ ভাগ মানুষ থাকে। কিন্তু ৬৯ ভাগ জ্বালানি ব্যবহার করে। অথচ গ্রামে ৬৭ ভাগ মানুষ থাকলেও মোট জ্বালানির মাত্র ৩৩ ভাগ ব্যবহার করে। জ্বালানি ব্যবহারের বিরাট বৈষম্য দূর করার ওপর তিনি জোর দেন। তিন থেকে চার বছরের মধ্যে গ্যাস থাকলেও কূপের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমে যাবে। অন্য এক প্রবন্ধে এনার্জি এ্যান্ড পাওয়ারের কন্ট্রিবিউটর এডিটর প্রকৌশলী খন্দকার এম সালেক সুফি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, পরিবেশ সম্মত প্রকল্প নেয়া, সামাজিক অবস্থা এবং দাম সমন্বয় করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান সেমিনারে বলেন গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে যে অর্থ জমা আছে তা যথাযথভাবে খরচ করতে পারলে ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কোন সমস্যা হবে না। প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, পিডিবির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের আগ্রহ নেই। বেসরকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগ্রহ বেশি। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা ভারসাম্য হারাতে পারে। বিদ্যুত উৎপাদনের দিকেই বেশি নজর দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিকল্পনা নেই। অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, কয়লা তোলা নিয়ে রাজনীতি চলছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে কয়লা তোলা যাচ্ছে না। কোন পদ্ধতিতে কয়লা তোলা হবে সেটা কোন সমস্যা না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটি পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের মতো নয়। এখানের মাটি উর্বর, ফসলি। ফসলি জমি নষ্ট করা উচিত হবে না।

পত্রিকাটির সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার নজরুল হাসান (অব), ঢাকা ইকেলট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার সাহিদ সারোয়ার (অব) প্রমুখ।