২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১১ দিনের মধ্যে ছয় ছিটমহলে বিদ্যুত যাবে

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ বিলুপ্ত ‘ছিটমহলবাসী’কে জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যুত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতায় প্রথম পর্যায় আগামী ১১ দিনের মধ্যে ৬টি ছিটমহলে বিদ্যুত পৌঁছানো হবে। আর ২৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোর বিদ্যুত দেয়া হবে আগামী ডিসেম্বর মাসে। রবিবার এমন একটি আদেশ দিয়েছে পল্লী বিদ্যুত সমিতির প্রধান কার্যালয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হয়েছে। এর মধ্যে ভারতে ৫১টি ও বাংলাদেশে ১১১টি। বাংলাদেশের ছিটমহলের ৫৯টি লালমনিরহাটে, ৩৬টি পঞ্চগড়ে, ১২টি কুড়িগ্রামে ও চারটি নীলফামারীতে। এর মধ্যে ৫২টি ছিটমহল পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতায় পড়লেও ২০টি ছিটমহলে নেই কোন জনবসতি। বাংলাদেশ ও ভারতের অমীমাংসিত স্থান হওয়ায় সেখানে এতদিন কোন বিদ্যুতের লাইন বসানো হয়নি। গত পহেলা আগস্ট থেকে এই এলাকা বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে দ্রুত বিদ্যুত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তাদের আওতায় থাকা ওই সব বিলুপ্ত ছিটমহলে বিদ্যুত সরবরাহ লাইন নির্মাণ করবে। এর ফলে ১৪ হাজার ৫০০ বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে। এর মধ্যে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিদ্যুত সরবরাহ করা হবে ৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলে।

সূত্র মতে আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নীলফামারীর চারটি বিলুপ্ত ছিটমহলের ৫.০৫৩ কিলোমিটার বিতরন লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ২৩২ জন গ্রাহক, কুড়িগ্রাম জেলার একটিতে ০.৮৭ কিলোমিটার বিতরণের লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ৭১ জন গ্রাহক ও পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় একটি ছিটমহলে ৫.০০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ১৪২ জনসহ মোট ৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলের ৪৪৮ জন গ্রাহক কে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হবে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলে বিদ্যুত সরবরাহ লাইনের কাজ শেষে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীলফামারীতে এসে বিলুপ্ত ছিটমহলে বিদ্যুত আলো জ্বালিয়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করতে পারেন।

সংশিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুতের লাইন নিতে গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা দিতে হয়। কিনতে হয় মিটার। এসব এলাকায় এসবের কিছুই প্রয়োজন হবে না। যারা আবেদন করবেন, তাদের বাড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।