২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণতন্ত্রের কপাট খোলা আছে- খালেদাই কপাটের বাইরে

  • সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী ॥ সরকার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- সরকারের নীতিতে নেই। এ জাতীয় কোন হত্যাকাণ্ড সরকার সমর্থন করে না। করবেও না। এমন কোন ঘটনা ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। রবিবার তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু একথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ‘ক্রসফায়ারের নীতি’ নিয়েছে বলে বিরোধী জোটের অভিযোগও নাকচ করে দেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, কোথায় দেখেছে জনগণ উদ্বিগ্ন। দেশের ১৬ কোটি মানুষকে তো উদ্বিগ্ন দেখিনি। সরকারের কর্মকর্তারা তো উদ্বিগ্ন নয়। গোটাকয়েক মানুষ উদ্বিগ্ন হতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকেরা উদ্বিগ্ন হতে পারে। তাতে বলা যায় না যে দেশের সকল মানুষ উদ্বিগ্ন। একজন সংসদ সদস্য তার মত প্রকাশ করতেই পারেন।

সপ্তাহখানেক ধরে বিভিন্ন মামলার আসামিদের র‌্যাব ও পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়াকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- দাবি করে এর সমালোচনায় মুখর মানবাধিকার সংগঠনগুলোও।

এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রসফায়ার করে কাউকে বাগে আনার নীতি সরকারের নেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- সরকার সমর্থন করে না দাবি করে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রত্যেক ঘটনার তদন্ত হয়। তদন্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হলে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এই ধরনের তদন্তে কারও গ্রেফতার কিংবা বিচার হওয়ার নজির না দেখার কথা সাংবাদিকরা তুলে ধরলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক গুলির ঘটনায় তদন্ত হয়। আর কার আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি করা হলো, কেন গুলি করা হলো তারও তদন্ত হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আট শ’র মতো র‌্যাব সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে, পুলিশও বহিষ্কার আছে। আপনারা র‌্যাব সদর দফতর ও সংশ্লিষ্ট দফতরে খবর নিয়ে বিষয়টি জানতে পারবেন।

গত কিছু দিনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে ঘটনাগুলোকে হত্যাকা- বলে দাবি করা হয়েছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধে ঢাকায় নিহত হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়ার ভাই রবিবার আদালতে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এখানে কে কোন্ দলের, মুখ দেখে বাছা হয় না। এ সরকারের আমলে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়ে ইনু বলেন, ৫৭ ধারা মানবাধিকার ও মুক্তমনা-চিন্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। সাইবার অপরাধ দমন নিয়ে একটি আইন তৈরিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনটি হলে তখন ৫৭ ধারা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা যাবে। ৫৭ ধারায় জামিন না থাকার সুযোগের সমালোচনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীরা আংশিক সত্য কথা বলছেন। সিআরপিসিতে এমন অনেক আইন আছে যা জামিন অযোগ্য। খালেদা জিয়ার ‘গণতন্ত্রের বন্ধ কপাট খুলে দিন’ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, খালেদা জিয়া তো নিজেই নিজেকে গণতন্ত্রের কপাটের বাইরে নিয়ে গেছেন। গণতন্ত্রের দরজা খোলা রয়েছে। আগুন সন্ত্রাসী-নাশকতাকারীকে নিয়ে পেট্রোলবোমা ও গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে বেগম জিয়া নিজেই গণতন্ত্রের চৌকাঠের ওপারে চলে গেছেন।

লিখিত বক্তব্যে বেগম জিয়ার উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের কপাট খোলাই আছে। গণতন্ত্র অবরুদ্ধও নয়। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গীবাদী- মৌলবাদী-আগুনসন্ত্রাসী-খুনী অপরাধীরা গণতন্ত্রের চৌকাঠের ওপারেই থাকবে। গণতন্ত্র অপরাধীদের হালাল করার ফর্মুলা না। বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ‘গণতন্ত্রের বন্ধ কপাট খুলে দিন’ বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এই কথা বলার মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন, দেশে অবাধ গণতন্ত্র বিরাজ করছে, মতপ্রকাশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে গণরায় নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর, গণতন্ত্রকে আরও মুক্ত ও অবাধ করা এবং গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সামরিক শাসকরা সংবিধানে যে অগণতান্ত্রিক সংশোধনী যুক্ত করেছিল, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সংবিধানকে জঞ্জালমুক্ত করা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতির ওপর সংঘটিত সবচেয়ে বড় ও জঘন্য অপরাধ যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করে। সংবিধান থেকে জঞ্জাল অপসারণ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য তারা মরিয়া হয়ে আক্রমণ শুরু হয়।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া বলেছেন, বিএনপি কখনও সন্ত্রাসের রাজনীতি করেনি এবং সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়ও দেয়নি। এটি ডাহা মিথ্যা। আগুনসন্ত্রাস-নাশকতা-অন্তর্ঘাত গণতন্ত্রের কোন্ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে? তিনি বলছেন, ‘গণতন্ত্রের বন্ধ কপাট খুলে দিন’! উনি তো নিজেই নিজেকে গণতন্ত্রের কপাটের বাইরে নিয়ে গেছেন। উনি এক কাঁধে আগুনসন্ত্রাসী; আরেক কাঁধে যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গীবাদী-মৌলবাদীদের নিয়ে গণতন্ত্রের কপাট দিয়ে আবারও গণতন্ত্রের বাগানে ঢোকার কথা বলছেন। এ যে ভূতের মুখে ‘রাম নাম’।

ইনু বলেন, গণতন্ত্রের কপাট খোলাই আছে। গণতন্ত্র অবরুদ্ধও নয়। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে জঙ্গীরা। গণতন্ত্রের খোলা দরজা দিয়ে আগুনসন্ত্রাসী-নাশকতাকারীদের নিয়ে পেট্রোলবোমা ও গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে বেগম জিয়া নিজেই গণতন্ত্রের চৌকাঠের ওপারে চলে গেছেন। গণতন্ত্রের কপাট খোলাই থাকবে। কিন্তু আগুনসন্ত্রাসী-জঙ্গীরা চৌকাঠের ওপারেই থাকবেন। গণতন্ত্র কি আগুনসন্ত্রাসী-যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গীবাদী-মৌলবাদী-সন্ত্রাসবাদী-খুনী-অপরাধীদের হালাল করার ফর্মুলা? না-কি, গণতন্ত্র মানে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার! গণতন্ত্র, অপরাধী যেই হোক, তাকে হালাল করে না। বেগম খালেদা জিয়া, যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গীবাদী-মৌলবাদীদের হাত ধরে আগুনসন্ত্রাস-নাশকতা-অন্তর্ঘাতের পথে ওয়ানওয়ে টিকেট কেটে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ধ্বংসের পথে যাত্রা করেছিলেন। উনি রিটার্ন টিকেট সঙ্গে নেননি। কারণ গণতন্ত্র ধ্বংস করে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে, অস্বাভাবিক সরকার, অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরিই ছিল তার লক্ষ্য। আগুনসন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, গ্রেনেড হামলা ও যুদ্ধাপরাধীদের ভূমিকা, খালেদার সব পরিচয়কে আড়াল করে দিয়েছে। এই ধরনের অপরাধী কি গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। আজ গণতন্ত্রের বন্ধ কপাট খুলে দেয়ার জন্য মায়াকান্না কি, যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গীবাদ-মৌলবাদী-আগুনসন্ত্রাসী-খুনীদের নিয়ে গণতন্ত্রের বাগানে ঢুকে আবারও গণতন্ত্রের বাগান তছনছ করার দুরভিসন্ধি? সবাইকে নিয়ে নির্বাচনের দাবি, ঐ অপশক্তিকে হালাল করার অভিলাষ? গণতন্ত্র নির্বাচন-অপরাধী হালাল করার ফর্মুলা নয়। গণতন্ত্রের কপাট বন্ধ নয়, উন্মুক্ত। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গীবাদী-মৌলবাদী-আগুনসন্ত্রাসী-খুনী অপরাধীদের জন্য গণতন্ত্রের কপাট কখনই খোলা ছিল না। গণতন্ত্র অপরাধীদের হালাল করার ফর্মুলা না।

নির্বাচিত সংবাদ