২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরেকটি বিকল্প সাবমেরিন কেবল হচ্ছে

  • চলতি বছরই যুক্ত হবে বাংলাদেশ;###;পাওয়া যাবে ১৩শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ

ফিরোজ মান্না ॥ বাংলাদেশ সিমিউই-৫ নামের আরেকটি বিকল্প সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে এ বছরই যুক্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৬৬ কোটি টাকা দেয়া হবে। আর বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিএসসিসিএল দেবে ১৬৬ কোটি টাকা। বাকি ৩৫২ কোটি টাকা ঋণ সহযোগিতা দেবে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। দ্বিতীয় সাবমেরিন দেশে যুক্ত হলে এক হাজার ৩শ’ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। তখন ফোর জি (চতুর্থ প্রজন্মের) নেটওয়ার্ক স্থাপন করা সহজ হবে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় ১০ একর জমিতে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের জন্য কাজ শুরু করেছে। সিমিউই-৪ কেবলের মাধ্যমে দেশে ব্যান্ডউইথ আসছে। এই কেবলের কারণে যদি সমস্যা হয় তাহলে ও সিমিউই-৫ কেবলের মাধ্যমে বিকল্প পথে ব্যান্ডউইথ (ব্যাকআপ) আনা হবে।

বিএসসিসিএল সূত্র জানিয়েছে, বিকল্প আরেকটি কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ আনার

জন্য সিমিউই-৫ নামের নতুন কনসোর্টিয়ামের সদস্যপদ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিমিইউ-৪ এর (সাউথ এশিয়া-মিডেলিস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ) কেবলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। এই কেবলের মালিক হচ্ছে ১৬টি দেশ। সদস্য দেশগুলো হচ্ছে, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া ও ফ্রান্স। সিমিউই-৫ নতুন কনসোর্টিয়ামটি গঠিত হবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিয়ে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের মালিকও এই ১৬টি দেশ। কনসোর্টিয়াম ২০ হাজার কিলোমিটার সিমিউই-৪ কেবলের ‘আপগ্রেডেশন’ বা উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। এখন দেশে বাড়তি ১৬০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ৪৪ দশমিক ৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ দেশে আসত। বাড়তি ১৬০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পেতে ৫০ কোটি টাকা কনসোর্টিয়ামকে বিএসসিসিএল পরিশোধ করেছে। আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হতে পারে ৩৭ দশমিক ০৭৫ গিগাবাইট পার সেকেন্ড (জিবিপিএস)।

টেলিকম বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ এত বেশি থাকার পরও কেন ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হচ্ছে না। গ্রাহকদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্য নেয়া হচ্ছে। এতে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে মনে করেন তারা। ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর দাবি অনেক দিনের। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর জন্য বলেছেন। এ ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ স্বল্প মূল্যে গোটা দেশে পৌঁছে দিতে আরও দুটি সাবমেরিন কেবল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুটি সাবমেরিন কেবল দেশের সঙ্গে যুক্ত হলে ‘কানেকটিভিটি’ বহু গুণ বাড়বে। বিদেশীরাও এ দেশে কলসেন্টারসহ ইন্টারনেটকেন্দ্রিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে। তখন প্রতিযোগিতামূলকভাবে কে কত কম দামে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে পারে সেই চেষ্টাই থাকবে। প্রতিযোগিতা হলে স্বাভাবিকভাবেই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমবে। এখন তো শুধু সরকারীভাবে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারী পর্যায়ে সাবমেরিন কেবল কোন কারণে ত্রুটি বা কাটা পড়লে বিকল্প কেবলের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইন্টারনেট যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকারের এ বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও কার্যক্ষেত্রে এর কোন প্রভাব নেই। ব্যান্ডউইথের দাম কমাতেই হবে। যদি দাম কমানো না হয়- তাহলে শহরের সঙ্গে গ্রামের পার্থক্য আকাশ পাতাল হবে। সরকারের উদ্দেশ্য গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছানো। গ্রামে ইন্টারনেট সুবিধা পেলে উচ্চ মূল্যের কারণে তারা ব্যবহারের সুবিধা পাবে না।