২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জর্দানে পাচার হওয়া নারী উদ্ধার ॥ হোতা পাকড়াও

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ বিদেশের নিষিদ্ধ পল্লীতে পাচার হওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেছে পঞ্চগড় থানা পুলিশ। নানা আইনী জটিলতা শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ওই নারীকে শুক্রবার জর্দান থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। এরপর থানা হেফাজত থেকে রবিবার ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম মোছাঃ চম্পা (২৪)। সে পঞ্চগড় জেলা সদরের হাড়িভাসা ইউপির আমবাড়ী গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। এর আগে গত ৪ আগস্ট পঞ্চগড় থানা পুলিশ পাচার চক্রের মূলহোতা নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। বর্তমানে সে জেলা কারাগারে আটক রয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম জানান, চম্পা ঠাকুরগাঁওয়ে এক এ্যাডভোকেটের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করার পর গত বছরের অক্টোবর মাসে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। সেখানে তার সম্পর্কের চাচী রশিদা বেগম মোটা অঙ্কের টাকার চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দুবাই নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। এরই প্রেক্ষিতে চম্পা ৮০ হাজার টাকা যোগাড় করে রশিদা বেগমের ভাই শহিদুলের বাড়িতে গিয়ে বোদা উপজেলার নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির হাতে ওই টাকা তুলে দেয়।

এরপর চম্পাকে নজরুল ও রশিদা একই বছরের ২৫ জুন বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঢাকার উইন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ২৮ জুন নজরুল বিমানে জর্দান পাঠিয়ে দেয়। জর্দান বিমান বন্দর থেকে অপরিচিত এক ব্যক্তি চম্পাকে প্রাইভেট কারে প্রায় ৮ ঘণ্টা দূরের একটি ছোট্ট শহরে নিয়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়। ওই ক্রেতা তাকে একটি ছয়তলা বাড়িতে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে। এক পর্যায়ে চম্পা জানালা খুলে ভবনের স্যুয়ারেজ পাইপ বেয়ে নিচে নেমে পুলিশের আশ্রয় নেয়। জর্দানি পুলিশ সেখানে একটি সংস্থার হেফাজতে দিলে ওই সংস্থাটি চম্পাকে দিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করালেও কোন প্রকার বেতন দেয়নি। চম্পা সুযোগ বুঝে তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে কথা বলে তার পাচার হওয়ার বিষয়টি পরিবারকে জানায়। তারপর তার পরিবার পঞ্চগড় আদালতে নজরুল ও রশিদাকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর থানার এসআই রঞ্জু আহমেদ গত ৪ আগস্ট অভিযুক্ত নজরুলকে গ্রেফতার করে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পাচার রহস্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে বাংলাদেশের জর্দান দূতাবাস ও জর্দানে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে চম্পাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এদিকে, শনিবার রাতে পঞ্চগড় থানায় উদ্ধারকৃত চম্পাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হলে তিনি জানান, জর্দানের যে শহরের ৬ তলা ভবনে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল সেটি একটি নিষিদ্ধ পল্লী। ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে পাচার হয়ে যাওয়া আরও অনেক বাংলাদেশী মেয়ে বিভীষিকাময় জীবন যাপন করছেন।

নির্বাচিত সংবাদ