২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিলেটে আরও এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেটে শিশু রাজন হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও এক শিশুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। সদর উপজেলার ঘোপাল এলাকায় একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে ‘পাওনা টাকা চাওয়ায়’ শিশু শ্রমিক মোঃ আকমল হোসেনকে (১১) পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ অভিযোগে নিহত শিশুর পিতা এখলাস মিয়া বাদী হয়ে ফ্যাক্টরি মালিক হাজী ওয়াহাব আলীসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে জালালাবাদ থানায় শুক্রবার মামলা দায়ের করেন। গত বৃহস্পতিবার নির্যাতনে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। নিহত শিশু আকমলের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের পাহাড়পুর (পূর্বরাজনপুর) গ্রামে। আকমল ঘোপালে ‘ফুড মার্ক ব্রেড এ্যান্ড বিস্কুট’ ফ্যাক্টরিতে কাজ করত। হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী-২) আদালতে শিশুশ্রমিক আকমল হত্যা মামলাটির নথি উত্থাপিত হবে। এর মধ্যে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য্য রয়েছে বলে জালালাবাদ থানার জিআরও (জেনারেল রেজিস্ট্রার) এএসআই ফয়েজ জানা। নির্যাতন করে শিশু হত্যার অভিযোগে মামলার কথা স্বীকার করে জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, নিহত শিশুর বাবা লিখিত একটি এজাহার দিয়েছেন, যা মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা রেকর্ডের পর পুলিশী তদন্ত শুরু হয়েছে।

এখলাস মিয়া মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন, দুই বছর ধরে ১৩শ’ টাকা বেতনে ঘোপাল ফুড মার্ক ব্রেডে চাকরি করত তার ছেলে আকমল। কয়েকদিন আগে ফ্যাক্টরি মালিক মোঃ ওয়াহাব আলী ও কারিগর আবদুর রহমানের কাছে বকেয়া বেতনের টাকা চাইতে গিয়ে তাদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকে ওয়াহাব ও কারিগর আবদুর রহমান তার ছেলেকে নির্যাতন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে তাকে মারপিট করা হয়। এতে তার ছেলে গুরুতর আহত হলে দ্রুত ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ অবস্থায় পুলিশ আকমলের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে খবর পেয়ে রাত সোয়া আটটার দিকে ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মাথা থেঁতলানো, মুখের ডান পাশ ফোলা এবং নাক-কান দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেন বলে অভিযোগ করেন এখলাস মিয়া। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার আকমলের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আকমল তৃতীয়। প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সদর উপজেলার কুমারগাঁওয়ে ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।