১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে

  • ১৮ লাখ মামলার জট, পদে পদে হয়রানি- টিআইবির গবেষণা রিপোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রধান সেবাগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়ায় এ সংক্রান্ত মামলার পাহাড় জমেছে। বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি, জনবল সঙ্কট ও বাজেট স্বল্পতাসহ নানা কারণে বর্তমানে ভূমি সংক্রান্ত ১৮ লাখ মামলার জট রয়েছে । এই সংখ্যা দেশের মোট মামলার ৬০ শতাংশ। ভূমির মালিকানার সঙ্গে জড়িতরা এ মামলা চালাতে গিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরকার গত ৫ বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না থাকায় সেগুলোর কাক্সিক্ষত সুফল মিলছে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রবিবার রাজধানীর ধানম-িতে টিআইবির নিজ কার্যালয়ে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা কার্যক্রম: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। টিআইবির রিসার্চ এ্যান্ড পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ ওয়াহিদ আলম, ডেপুটি প্রোগ্রামার নিহার রঞ্জন রায় ও সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রধান সেবাসমূহ, যেমন- জরিপ, নামজারি, রেজিস্ট্রেশন, উন্নয়ন কর, খাসজমি বরাদ্দ, হাটবাজার ব্যবস্থাপনা, ভূমি সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা পরিচালনা ও নথিপত্র উত্তোলনে অনিয়ম-দুর্নীতি ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ওই গবেষণার আওতাভুক্ত। অক্টোবর ২০১৪ থেকে জুলাই ২০১৫ সাল মেয়াদে ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও নথিপত্রের সাহায্যে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গবেষণা প্রতিবেদনের একটি খসড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। গবেষণায় উঠে আসা বিভিন্ন অনিয়ম ও জনবল সঙ্কটের কথা তারাও স্বীকার করেছেন। গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বিদ্যমান ভূমি সেবা নারীবান্ধব নয়, যা উদ্বেগজনক। ভূমি সংক্রান্ত যথেষ্ট ভাল আইন থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগে ঘাটতি ও বাস্তবায়নকারী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা রয়েছে। তাই ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি দূরীকরণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। গত পাঁচ বছরে এ খাতে সুশাসনের জন্য ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেয়া হলেও এর কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ভূমি উন্নয়ন করের ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ১০ হাজার টাকা, নামজারির ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা, রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং হাট-বাজার ইজারার ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদান-প্রদান হয়। তবে ঘুষের পরিমাণ জমির ধরন, স্থান ও নথিপত্রের বৈধতার ওপর নির্ভর করে। প্রতিবেদনে, সুশাসনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে এ খাতে জনবল ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানুনগো, সার্ভেয়ার ও তহসিলদারসহ মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ পদ শূন্য রয়েছে, যা অনুমোদিত পদের ৬০ শতাংশ। প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের তুলনায় এ খাতে বাজেট বরাদ্দ কমে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছরসহ গত দুইবছরে ভূমি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ জাতীয় বাজেটের যথাক্রমে দশমিক ৩৫ শতাংশ, দশমিক ৩২ শতাংশ ও দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া প্রতিবেদনে এ খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে কার্যকর প্রশিক্ষণের অভাব, অফিস ব্যবহার্য লজিস্টিকস ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি, ম্যানুয়াল তথ্য ব্যবস্থাপনা ও রেকর্ড সংরক্ষণ ও ভূমি সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে দেওয়ানি আদালতের সীমাবদ্ধতাকে উল্লেখ করা হয়েছে।