২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঞ্চয়ের অভ্যাস

দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটা অংশ স্কুলশিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতেই ২০১০ সালে চালু হয় স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম। এটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাংকিং ব্যবস্থা। শৈশব থেকে আর্থিক সঞ্চয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, আর্থিক শিক্ষার প্রসার এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্ববহ। এর মাধ্যমে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাড়াও পাওয়া গেছে। সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম শুরু হলেও স্কুলের শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায় ২০১১ সালে। ওই বছরে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশের ব্যাংকগুলোতে ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আমানত রাখে। চলতি বছরের জুন শেষে শিক্ষার্থীদের হিসাবের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার। এই পর্যন্ত ক্ষুদে সঞ্চয়ীদের ব্যাংকে জমা পড়েছে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা। বেসরকারী ব্যাংকগুলোতে এই হিসাব খোলা ও জমার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এই হিসাব খুলতে নতুন ব্যাংকগুলোও এখন এগিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে এই সেবা পৌঁছে গেছে দেশের সব প্রান্তে। বিশ্লেষকদের অভিমত, বর্তমানে সঞ্চয়ের পরিমাণ যে অঙ্কে দাঁড়িয়েছে তা দিয়ে নতুন দুটি ব্যাংক খোলা সম্ভব। মাত্র ৫ বছরে এই অসাধারণ কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে।

শিক্ষার্থীদের অর্থব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও সঞ্চয় করার মনোভাব এবং অভ্যাস গড়ে তোলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। স্কুল ব্যাংকিং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচলিত আছে। কমনওয়েলথ স্কুল ব্যাংকিং, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে স্কুল ব্যাংকিং একটি জনপ্রিয় সঞ্চয় বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসাবে বিবেচিত। সেসব দেশে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের খরচ কমানোর মাধ্যমে সঞ্চয় করার অভ্যাস গড়ে তোলার নিমিত্তে এ ধরনের ব্যাংকিংয়ের শুরু হয়েছে অনেক আগেই। অস্ট্রেলিয়াসহ যেসব দেশে স্কুল ব্যাংকিং চালু রয়েছে সেসব দেশে সঞ্চয়ের হার অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক উচ্চহার বিদ্যমান। এই স্কুল ব্যাংকিং হিসেব থেকে দেখা যায়, পরবর্তীকালে বড় ধরনের আমানত সঞ্চিত হয়, যা থেকে বাড়ি, গাড়ি, দোকান, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং দৈবাত-দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের পড়াশোনার খরচ মেটানো সম্ভব হয়। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও এই আমানতের একটি বড় অংশ নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারে। আমাদের দেশেও এই বিষয়টিকে সামনে রেখে কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়। সঞ্চয়ের মনোভাব নিয়ে বড়দের সঙ্গে স্কুলের ছোট ছেলেমেয়েদেরও ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

স্কুল ব্যাংকিং থেকে নানা সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের হিসাব থেকে বেতন-ফি পরিশোধও হচ্ছে। যেসব ব্যাংকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং আছে, অভিভাবকরা সেসব ব্যাংকে অনলাইনেই এসব হিসাব থেকে বেতন-ফি পরিশোধ করতে পারছেন। এটিএম কার্ডেও এটা পরিশোধ করা যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে অভিভাবকদের স্কুলে বেতন-ফি দিতে হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাই তাদের ব্যাংক হিসাব খোলাকে মূল ব্যাংকিং কার্যক্রম বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্য স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এমনকি ব্যাংকগুলো কোন এক নির্ধারিত দিনে স্কুলে গিয়েও শিক্ষার্থীদের হিসাব খুলে দিচ্ছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ক্যাম্পেইন করেছে রাজধানীর কিছু স্কুল ও বেসরকারী ব্যাংক। শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে যে কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, সেই ধারা অব্যাহত থাক সেই প্রত্যাশা সবার।