২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংলাপ আবার শুরু করুন

ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের প্রস্তাবিত আলোচনা বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ‘হতাশা’ ব্যক্ত করেছে। এদিকে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়াত নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানিকে আটক করার পর তার প্রতিবাদরত সমর্থকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহারের ফলে ৪ জন আহত হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে ও জি নিউজের।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কারবি শনিবার পিটিআইকে বলেন, আলোচনা চলতি সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আমরা হতাশ। আমরা আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবার শুরু করতে ভারত ও পাকিস্তানকে উৎসাহিত করছি। তবে মুখপাত্র বলেন, রাশিয়ার উফায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘গঠনমূলক’ আলোচনা উৎসাহব্যঞ্জক। কারবি বলেন, আমরা উফায় চলতি বছর ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের মধ্যকার গঠনমূলক কথাবার্তায় বিশেষত দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (এনএসএ) মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের ঘোষণায় উৎসাহিত হই। পাকিস্তান শনিবার রাতে এনএসএ পর্যায়ের প্রস্তাবিত আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়। এ আলোচনা ২৩-২৪ আগস্ট নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ইসলামাবাদ কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে ইসলামাবাদকে কার্যত এক চরমপত্র দেন।

সুষমা স্বরাজ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরতাজ আজিজের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন। আজিজ কোন পূর্ব শর্ত ছাড়াই আলোচনার জন্য ভারতে আসতে ইচ্ছুক বলে মন্তব্য করেন। ভারত এনএসএ পর্যায়ের আলোচনার বিষয়সূচীতে কাশ্মীরকে অন্তর্ভুক্ত করাতেও ক্ষুব্ধ হয়। ওই আলোচনা প্রধানত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথাবার্তার জন্য নির্ধারিত ছিল। উফায় জুলাইতে ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এনএসএ পর্যায়ের আলোচনার বিষয়ে মতৈক্য হয়। এটিই হতো দু’দেশের এনএসএ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক।

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানিকে রবিবার সকালে শ্রীনগরে তার হায়দারপোরার বাসভবনে কড়া পাহারায় আটক রাখা হয়। তার রবিবার শ্রীনগরে এক সেমিনারে বক্তৃতা দেয়ার কথা ছিল।

এদিকে, শনিবার কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শাবির শাহ ও বিলাল গনি লোনকে দিল্লী বিমানবন্দরে পুলিশ আটক করে। ভারত ও পাকিস্তানের এনএসএ পর্যায়ের পরিকল্পিত বৈঠকের আগে এ ঘটনা ঘটে। পরে লোনকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়। পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে এনএসএ পর্যায়ের আলোচনা বাতিল করার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গিলানিকে গৃহান্তরীণ করা হলো। এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুষমা স্বরাজের শর্ত মানতে অস্বীকার করে। পাকিস্তানের ওই আলোচনা বাতিল করার সিদ্ধান্তকে ভারত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করে। এনএসএ পর্যায়ের বৈঠকের আগে সরতাজ আজিজের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হতে হুরিয়াত নেতাদের প্রতি পাকিস্তান হাই কমিশন আমন্ত্রণ জানালে তা নয়াদিল্লীর কাছে উস্কানি বলে মনে হয়। শাবির শাহ সরতাজ আজিজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শ্রীনগর থেকে দিল্লী আসেন। তাকে গোয়েন্দা ব্যুরোর কর্মকর্তাদের কাছে তুলে দেয়া হয়। তারপর তারা তাকে এক গেস্ট হাউসে আটক করে। আজিজ কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা বাদ না দিলে আলোচনা হবে না বলে সুষমা স্বরাজ জানানোর পর পাকিস্তান আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়। সুষমা স্বরাজ আরও বলেন যে, ভারত কেবল সন্ত্রাস সম্পর্কিত ইস্যুগুলো নিয়েই কথা বলবে, আর পাকিস্তান কাশ্মীর প্রশ্নসহ ব্যাপক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলতে চায়।