২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লিবীয় উপকূল থেকে দুই হাজার অভিবাসী উদ্ধার

  • ১৫’র বেশি শরণার্থীকে ঢুকতে দিয়েছে মেসিডোনিয়া

লিবীয় উপকূলের অদূরে নৌকা থেকে শনিবার ২ হাজারের বেশি অভিবাসী ও শরণার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। একদিনের বৃহত্তম উদ্ধার অভিযানগুলোর মধ্যে এ অভিযান অন্যতম। খবর বিবিসি ও এএফপির।

খবরে বলা হয়, ২০টির বেশি নৌকা থেকে উদ্ধারের জন্য বিপদসঙ্কেত পাঠানো হয়। সমুদ্রে চলাচলে অনুপযোগী ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ পৌঁছবার চেষ্টায় চলতি বছর এ পর্যন্ত মারা গেছে ২ হাজারের বেশি মানুষ। ইউরোপে প্রবেশের জন্য যারা লিবিয়া থেকে ইতালি পৌঁছবার চেষ্টা করে তাদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত পথ এটি। জাতিসংঘ বলেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫শ’ অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার অভিবাসী ইতালি পৌঁছেছে এবং ১ লাখ ৬০ হাজার অভিবাসী পৌঁছেছে গ্রীসে। ইতালীয় নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ শনিবারের উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। নৌবাহিনী বলেছে, কাঠের তৈরি দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার সম্মুখীন হলে সিগালা ফুলগেসি জাহাজ ৫শ’ ৭ জন এবং ভেগা ৪শ’ ৩২ জনকে উদ্ধার করে। নরওয়েজীয় সামরিক বাহিনীর জাহাজ সীম পাইলটসহ আরও কয়েকটি ইতালীয় জাহাজ এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। সীম পাইলট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) টহল মিশনের অংশ হিসেবে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন রাখা হয়েছে। মানবাধিকার গ্রুপ ডক্টর্স উইদাউট বোর্ডার্সের একটি নৌকা এক নবজাত শিশুসহ ৩শ’ ১১ জনকে উদ্ধার করেছে। অভিবাসীদের সাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় ডানপন্থী রাজনীতিবিদরা সমালোচনা শুরু করেছেন। কোস্টগার্ড বলেছে, টহল নৌকাগুলো শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত সমুদ্রে চলাচলে অনুপযোগী মাছ ধরার নৌকা থেকে মোট ১ হাজারের কিছু কমসংখ্যক মানুষকে উদ্ধার করেছে। অন্যান্য নৌকায় করে অন্তত আরও ১ হাজার অভিবাসীকে ইতালির বিভিন্ন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে সীমান্ত অতিক্রম করে এক হাজার ৫০০‘র বেশি শরণার্থীকে দেশের ভেতর ঢুকতে দিয়েছে মেসিডোনিয়া পুলিশ। এদের বেশির ভাগই সিরীয় শরণার্থী। গ্রীস-মেসিডোনিয়া সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে তিনদিন আটকে থাকার পর শনিবার পুলিশের বিনা বাধায় তারা দেশটিতে প্রবেশ করে। গ্রীস থেকে প্রবেশের চেষ্টা করা এসব শরণার্থীকে ঠেকাতে শনিবার সকালে প্রথমে স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। কিন্তু পরে সন্ধ্যায় ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়। এদিন কয়েকশ শরণার্থী সীমানা বেড়া অতিক্রম করে মেসিডোনিয়ায় ঢুকে পড়ে। পরে তাদের অনেককে গ্রীসে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। শরণার্থীদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রীসে পৌঁছেছে। তারা দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত পেরিয়ে মেসিডোনিয়ায় প্রবেশ করেন। সেখান থেকে তারা ট্রেনে করে আরও উত্তরে সার্বিয়া-হাঙ্গেরি পার হয়ে ইউরোপের তুলনামূলক বেশি সমৃদ্ধ দেশ জার্মানি, নেদারল্যান্ডস বা সুইডেনে যেতে চান। মেসিডোনিয়ার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করলে বিপাকে পড়েন হাজারো শরণার্থী। তারা প্রবল বৃষ্টি ও নিম্ন তাপমাত্রার মধ্যেই সীমান্তে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন। তাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশুও রয়েছে।