২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইভি রহমানের স্মৃতি এখন ভৈরববাসীর বুকে

  • নীরবে অনেকে কাঁদেন

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভৈরব, ২৩ আগস্ট ॥ ২৪ আগস্ট এলেই ভৈরববাসীর মনে পড়ে নারী আন্দোলনে রাজপথের সৈনিক ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আজন্ম সংগ্রামী শহীদ আইভি রহমানের কথা। তিনি নেই কিন্তু তাঁর স্মৃতি বহন করছে ভৈরববাসী। অনেকে নিরবে কাঁদেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা তার সংগ্রামী জীবন কেড়ে নেয়। তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৪ আগস্ট তিনি মারা যান। সময়ের হিসেবে এগারোটি বছর পার হলেও নারকীয় হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের এখনও পর্যন্ত বিচার না হওয়ায় ভৈরববাসীর মনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দিনটি উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। ঢাকা কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আহমেদের মেয়ে আজন্ম সংগ্রামী আইভি রহমান ১৯৪৪ সালে ৪ জুলাই কিশোরগঞ্জের ভৈরবের চণ্ডীবের এলাকায় শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আট ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তিনি সারাজীবন অধিকার বঞ্চিত মানুষের জন্য আন্দোলন করে গেছেন। তিনি ১৯৬৯ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকদের শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালী জাতির অধিকার আদায়ে সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বামী জিল্লুর রহমান তার সংগ্রামী জীবনকে গতিশীল রাখতে সব সময় প্রেরণা হয়ে কাজ করেছেন। তার এই সংগ্রাম বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া নারীদের মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তার এই সংগ্রামী আদর্শ দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাঙালীর স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সংগঠনের ভূমিকা পালন করেন এবং ভারতে গিয়ে সশস্ত্র ট্রেনিং গ্রহণ করেন। শহীদ আইভি রহমানের পারিবারিক সূত্র থেকে জানাগেছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আইভি রহমানের রাজনৈতিক অঙ্গনে পদচারনা বেড়ে যায়। ১৯৭৫ সালে তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য নির্বাচিত হন আর ১৯৭৮ সালে হন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। ১৯৮০ সালে তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেন, সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ দিন। এর আগে তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারের হত্যার পর তার রাজনৈতিক কর্মকা- ছিল সাহসী। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় গ্রেফতার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ১৯৮৪ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে অন্তরীণ রাখার সময় ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন মতিয়া চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী, জোহরা তাজ উদ্দিনসহ বেগম আইভি রহমানও গ্রেফতার হন। আইভি রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভৈরব থানা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সায়দুল্লাহ মিয়া জানান, শহীদ আইভি রহমান স্মরণে আজ দলীয় কার্যালয়ে মিলাদ-দোয়া হবে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শহর আওয়ামী লীগ, সেচ্ছাসেবকলীগসহ অঙ্গসংগঠন দিবসটি পালন করছে নানাভাবে। সকালে জাতীয় মহিলা সংস্থার পক্ষ থেকে র‌্যালি বের করা হবে।আলোচনাসহ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।