২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোলায় মেঘনার ভয়ঙ্কর মূর্তি ॥ কয়েক শ’ বাড়ি বিলীন

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ২৩ আগস্ট ॥ ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ভর্তি বালির বস্তা ফেলেও ভোলা ইলিশা ফেরিঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধ করতে পারছে না। চডার মাথায় গত ২ দিন আবার ভয়াবহ ভাঙ্গনে প্রায় ৪-৫শ’ মিটার এলাকার ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক, কয়েক শ’ বসত ঘর, দোকানপাট সর্বগ্রাসী মেঘনা গিলে খেয়েছে। ইলিশা চডার মাথায় এখন এক ধ্বংসযজ্ঞ জনপদে পরিণত হয়েছে। সর্বহারা মানুষের চোখে এখন নীরবে জল পড়ছে। অভিযোগ, পাউবো ডিজাইন অনুযায়ী কাজ না করে ধীরগতিতে জিও ব্যাগ ভর্তি বালির বস্তা ফেলার কারণেই ভাঙ্গন রোধ করা যাচ্ছে না। এছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী গত ১০ দিন আগে ভোলায় এসে বড় সাইজের কয়েক টন ওজনের বালির বস্তা ফেলার কথা বললেও তা এখনও ফেলা সম্ভব না হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চরম আতঙ্কে কয়েক লাখ মানুষ দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিন রবিবার দুপুরে ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ইলিশা চডার মাথা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় কয়েক শ’ বাড়িঘর দোকানপাটসহ ভোলা-লক্ষ্মীপুর সড়ক রাক্ষুসে মেঘনা গিলে খেয়েছে। এলাকার মানুষ তাদের বাড়িঘর, দোকানপাট অন্যত্র সরানোর সময় পর্যন্ত পাচ্ছে না। গত ১০ দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও পানিসম্পদমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম মাহামুদ যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে গিয়ে ভাঙ্গন এলাকা পরির্দশন করে জনসমাবেশ করেছেন, সেই রাস্তাটি এখন আর নেই। সেটিও বিলীন হয়ে গেছে। ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ডিজাইন মতো কাজ হচ্ছে না। তাই ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় এলাকা বিলীন হচ্ছে। চডার মাথার এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন চলছে ভয়াবহ ভাঙ্গন। সাধারণ অসহায় মানুষ শেষ সম্বল ঘরের মালামাল নিয়েই রাজাপুর ইউনিয়নের রাস্তার উপর ঠাঁই নিয়েছে। সেখানে গেলে মনে হয় এক বিরাণ ভূমি। রাস্তার উপর আশ্রয় নেয়া গৃহবধূ রেহানা বেগম জানান, তার ৪ ছেলেমেয়ে নিয়ে ৩ একর জমির উপর ঘরবাড়ি ছিল। তার স্বামীর চডার মাথায় ওষুদের দোকান ছিল। কিন্তু আজ সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রানু বেগম বলেন, তার স্বামী নেই। তাই ঘর সরাতে না পেরে রাস্তার উপর এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, যেভাবে ভাঙছে তাতে ঘরবাড়ি সরানোর সময় পাচ্ছে না মানুষ। সরকার এখন ভাঙ্গন রোধে যে বস্তা নদীতে ফেলছে, তা মেঘনার পেটে চলে যাচ্ছে। এতে তেমন কোন কাজ হচ্ছে না।

ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে ৩টি মৎস্য আড়ত, জংশন বাজার, ২টি মসজিদ, শত শত ঘরবাড়ি, বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়বে ভোলার ৬টি ইউনিয়ন। উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হেকিম জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৯ মিটার এলাকা বিলীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ডিজাইন অনুসারে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নির্বাচিত সংবাদ