২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্ব এ্যাথলেটিক্স ॥ অবশেষে বার্ডস নেস্টে ফারাহ চমক

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বয়স এখন ৩২। পরবর্তী বিশ্ব আসরে অংশ নেবেন কি না তা নিয়ে আছে সংশয়। কিন্তু যে ট্র্যাক থেকে একদিন হতাশা নিয়ে বিদায় হয়েছিলেন, যে বার্ডস নেস্ট তাকে চিনতে পারেনি সেই বেজিংয়ের বিখ্যাত স্টেডিয়ামেই নিজেকে গর্বিত এক বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ দূরপাল্লার দৌড়বিদ মোহাম্মদ ফারাহ। ২০০৮ অলিম্পিকে প্রথমবার অংশ নিয়ে ৫ হাজার মিটারের হিট থেকেই বাদ পড়েছিলেন। তখন কেউ চিনে রাখেনি ফারাহকে। কিন্তু বার্ডস নেস্ট এবার অপেক্ষায় ছিল ফারাহকে জয়ী দেখার জন্য। কারণ সেই ব্যর্থতার পর ৭ বছর পেরিয়ে গেছে এবং ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুটি আসর অলিম্পিক গেমস আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপস থেকে তিনি ৫ হাজার মিটারে তিনটি এবং ১০ হাজার মিটারে দুটি স্বর্ণ জিতেছেন। এবার বার্ডস নেস্টের পরাজয়টাকে ঢেকে দিলেন। ১০ হাজার মিটারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলেন। শেষ ল্যাপে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেও ঠিকই ২৭ মিনিট ১.১৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে আবার জিতেছেন। সাত বছর আগে যারা ৫ হাজার মিটারের প্রতিযোগিতা দেখতে এসেছিলেন, তারা কেউ ফারাহকে চিনে রাখেননি। কারণ নিজেকে চেনাতে হলে যা করার প্রয়োজন ছিল সেটা করতে পারেননি তিনি। ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকের ৫ হাজার মিটারের হিট থেকেই নিজেকে তুলতে পারেননি। হতাশা আর লজ্জা নিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ফারাহ। কিন্তু নিজেকে বিশ্বের অন্যান্য দূরপাল্লার দৌড়বিদদের কাতারে নিতে সময় লেগেছে মাত্র দুই বছর। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসে ২০১০ সালে ডাবল চ্যাম্পিয়ন হন (৫ হাজার ও ১০ হাজার মিটার)। তারপর থেকে শুধু বিজয়ই দেখেছেন ফারাহ। অবশ্য ২০১১ বিশ্ব আসরে ৫ হাজার মিটারে স্বর্ণ জিতলেও ১০ হাজারে রৌপ্য জিতেছিলেন। তারপর থেকে এ দুটি বড় আসরে এ দুই ইভেন্টের সম্রাট ফারাহ। এবার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশন ছিল তার বেজিংয়ে। সেই সঙ্গে ছিল ৭ বছর আগে পরাজয়ের লজ্জাটাকে ঢেকে দিয়ে গর্বে মাথা উঁচু করার চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জেও জিতে গেছেন এবার। সুশৃঙ্খল ছিলেন না ফারাহ। পিছিয়ে ছিলেন অন্য যে কোন এ্যাথলেটের চেয়ে। কিন্তু এখন বদলে যাওয়া একজন অনুসরণীয় এ্যাথলেট তিনি। এদিন অবশ্য ফারাহকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলেছিলেন কেনিয়ার জিওফ্রে কামোরোর এবং পল তানুই। এমনকি শেষ মুহূর্তে হোঁচটও খেয়েছিলেন ফারাহ। তখন মনে হয়েছিল শেষ পর্যন্ত হয়তো বা কামোরোরই জিততে চলেছেন। কিন্তু ফারাহর সঙ্গে ফারাকটা কমেছে এবং কয়েক মিলি সেকেন্ডের ব্যবধানের কারণে হেরেছেন তিনি। শেষ ৮০০ মিটার মাত্র ১ মিনিট ৫৬.০১ সেকেন্ড এবং শেষ এক মাইলে ফারাহর টাইমিং ছিল ৪ মিনিট ৬.৬ সেকেন্ড।