২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘চাঁদ বণিকের পালা’ নাটকের পাঠাভিনয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শম্ভু মিত্রের ‘চাঁদ বণিকের পালা’ নাটকের পাঠাভিনয় মঞ্চস্থ হয় শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে। বাংলা নাটকের এই কিংবদন্তি শিল্পীর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি কণ্ঠশীলনের এই শ্রদ্ধা নিবেদন। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন গোলাম সারোয়ার। এটি ছিল নাটকটির প্রথম পর্বের শ্রুতিরূপ। প্রাচীন ও মধ্যযুগের কাব্য পুরাণে ভক্তি প্লাবিত দেবাশ্রিত চরিত্রের অভাব নেই আদৌ। এ ক্ষেত্রে চম্পক নগরীর চাঁদ সদাগর বা চাঁদ বণিক এক বিস্ময়কর ব্যতিক্রম, মানুষের জীবন সংগ্রামে বিশ্বাসী, দেবদ্রোহী, যুক্তিবাদী এই চরিত্রটিকে অবলম্বন করে এ যুগের নট এবং নাট্যকার শম্ভু মিত্র তাঁর এই পালাতে সরবরাহ করেছেন নতুন যুগের সঙ্কট, সংগ্রাম এবং মানবিক দ্বন্দ্বের মানসিক ঘূর্ণাবর্ত। যাতে কাল এবং কালান্তরের বাঙালী যুক্তিবাদী জীবন সংগ্রামে অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত হয়। দুর্গতির কালের পচন প্রক্রিয়া ও তার বিরুদ্ধে বীরোচিত প্রতিরোধের নায়কÑ এই শম্ভু মিত্রর পালার বিষয়। প্রতিরোধের ব্যর্থতা নির্ধারিত, তবু নায়কের জীবন সেই প্রতিরোধেই। বাংলার যেখান থেকে ভাঙনের শুরু, সেই তামসের সূচনাকালের বীর নায়ক। কণ্ঠশীলনের উপলব্ধি যে, চাঁদের মতো সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম যুগে যুগে ভাল মানুষদের করে যেতে হবে। কারণ বেণীনন্দদের দল অর্থাৎ নষ্ট মানুষও যুগে যুগে থাকবে। চাঁদ বণিকের পালার মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন সালাম খোকন। সঙ্গীতায়জনে কেবি আল আজাদ এবং পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন নায়লা চৌধুরী তারান্নুম চৌধুরী কাকলি। চরিত্রায়ণে ছিলেন মীর বরকত, গোলাম সারোয়ার, রইস উল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, অনিন্দ্য ইমরান, ইলা রহমান, শফিক সিদ্দিকী, লিটন বারুরী, নুরুজ্জামান নান্নু, মু. কামরুল হাসান, বাদল সাহা শোভন, গোলাম রাব্বানী প্লাবন, অমিতাভ রায়, অনুপমা আলম, আফরিন খান, ফারহানা আক্তার ঈশা, মো. আবদুল কাইয়ুম ও মো. হাসান মিয়া। নাটক শুরুর পূর্বে শম্ভু মিত্রের বলিষ্ঠ জীবন ও তাঁর শৈল্পিক পদচারণার আলাপচারিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব আক্তারী মমতাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম। শম্ভু মিত্রকে নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, শম্ভু মিত্র বাংলা থিয়েটারের প্রবাদ পুরুষ, কেবলমাত্র অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক হিসেবে নয়, নাট্যাঙ্গনে নব-নাট্য নাট্যচর্চার পথিকৃৎ হিসেবে তিনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। শম্ভু মিত্র অনন্য হয়ে আছেন বাংলার মঞ্চে নবযুগের শ্রষ্ঠা হিসেবে।