২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাতের সৌন্দর্যে নেল আর্ট

  • এইচ এসএম তারিফ

পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিক্ষেত্রেই; কর্মক্ষেত্র থেকে জীবনযাত্রা। সর্বক্ষণিক নিত্যনতুন আবিষ্কার পরিলক্ষিত হয়। এদেশের জনসাধারণ বেশ সৌখিন, সুনামটি রয়েছে বিশ্বব্যাপী। সৌখিনতার দেখা মেলে প্রতিটি ঘর-বাড়িতেই, রয়েছে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজাগোজেও। তরুণীদের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সাজগোজের কোন বিকল্প নেই। মাসের অন্তত একটি দিন হলেও অধিকাংশ তরুণীর পার্লারে পদচারণা ঘটে উৎসব বা অনুষ্ঠানের আগে সেখানে কোলাহলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কেউ চেহারা বা মুখম-লে মেকআপ করেন। হাতের আকর্ষণ বৃদ্ধিতে মেহেদি পরাতেও বিভিন্নস্থানে ছুটে চলে। নখের জন্য তো নেলপলিশ রয়েছে। নিজের নখকে রাঙায়িত করার জন্য তেমন কষ্ট পোহাতে হয় না। অবশ্য ব্যতিক্রম কিছু করতে অন্যের দ্বারস্থ হতেই হবে। বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে নেল আর্ট। বেশ সংখ্যক কিশোরী ও তরুণী হাতের নখ অধিক আকর্ষণীয় করে তুলতে নেল আর্ট করে নেন। এ সেবা গ্রহণে তাদের কিছুটা মধুর ঝামেলা পোহাতে হয়। দেশে খুব কম সংখ্যক নেল আর্টিস্ট থাকায় কখনও কখনও এ আর্টের প্রতি মুগ্ধ হয়ে অনেকে সন্ধানও পান না, কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে আর্টিস্টকে?

এ সম্পর্কে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত বুশরা ফারুক জানান, নেল আর্ট একটি শিল্প। প্রচারের মাধ্যমে জনসাধারণের নিকট তুলে ধরা হলে শিল্পটি ব্যাপক প্রসার লাভ করবে। এতে অনেক নেল আর্টিস্ট তৈরি হবে। ফলে সবাই তাদের সন্ধান বেশ সহজেই পেয়ে যাবে। দেশে অল্পসংখ্যক নেল আর্টিস্ট রয়েছেন। সাবরিন শাফা, ফোয়ারা ফেরদৌস ও সুমাইতা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একদা সন্ধ্যায় ফেসবুক ব্যবহারের সময় বেশ কিছু নেইল আর্টের ছবি লক্ষ্য করেন সাবরিনা। বুঝতে সমস্যা হয়নি আর্টগুলো অন্য দেশের। তাৎক্ষণিক ইউটিউবে সার্চ দিয়ে আরও ব্যাপকসংখ্যক নেল আর্ট দেখেন; যা দেখে তখনই মুগ্ধ হন। যেহেতু নেলপলিশ ব্যবহার করা প্রচ- উপভোগ্য তার। ফলে ব্যতিক্রম এ আর্ট নিজ নখে করার মনস্থির হয়ে যায়। পরবর্তী সময় ইচ্ছাও পূরণ করেন। কৈশোরেই আর্টের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় নেল আর্ট রপ্ত করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। দু’বছর আগে শখের বশে এ শিল্পে পদার্পণ করলেও এখন পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যধর্মী কাজ হওয়ায় অনেকের উৎসাহ মিলেছে। এতে দুরন্ত গতিতে আরও এগিয়ে যাওয়ার সাহস অর্জনে সক্ষম হন।

স্বল্প পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার হয় আর্টের জন্য। নেলপলিশ, এক্রিলিক কালার, ব্রাশ, স্টোন, নেইল অর্নামেন্টস ইত্যাদি। হাতের প্রতিটি নখেই আর্ট করা যায়। ফ্লাওয়ারস্ কার্টুন ক্যারাকটরস, এবর্স্ট্রাক, নকশাসহ আরও ডিজাইন। একটি হাতে নেল আর্ট করতে খরচ পড়বে ডিজাইন ভিন্নতায় ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। এ শিল্পের ভবিষ্যত সম্বন্ধে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত নেইল আর্টিস্ট সাবরিন শাফা বলেন, ‘এ শিল্পের ভবিষ্যৎ ব্যাপক। দেশের তরুণীরা বেশ ফ্যাশনেবল। ব্যতিক্রমধর্মী কিছু পেলেই সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেন। সে ক্ষেত্রে এ আর্টের ভবিষ্যত অনেক উজ্জ¦ল। এ কাজে জড়িয়ে অনেকে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছে। এ আর্ট দেখে মুগ্ধ হয়ে ফ্যাশনেবল কিশোরী ও তরুণীরা নিজ নখে আর্ট করে নেয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে আর্টিস্টদের সন্ধান না পেয়ে তাদের ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়। এ অবস্থার সম্মুখীন না হওয়ার উদ্দেশে সাবরিন তার ফেসবুক ফ্যান পেজ খুলেছেন। এতে যোগাযোগ সহজ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক থেকে ঝধনৎরহং ঘধরষ অৎঃ লিখে সার্চ দিলেই যোগাযোগের উপায় মিলবে। তবে মুহূর্তেই কথা বলার জন্য ০১৬৮১৯৪৪৯৪২ নম্বরে একটি কলই যথেষ্ট। নেল আর্টে তার পরিকল্পনা যে সকল ডিজাইন এখন করা যায়নি। অনেক ডিফারেন্ট ডিজাইন রয়েছে, যেসব করতে উন্নত ও আধুনিক উপকরণ ও সামগ্রী প্রয়োজন যা বহির্বিশ্ব হতে সংগ্রহ করে আর্টে ভিন্নতা ও নতুন স্বাদের আবির্ভাব ঘটানো। এদেশে নতুন কিছু আগমনের সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ে বেশ হৈ চৈ পড়ে। তেমনিভাবে নেল আর্টের বেলায়ও ঘটবে, এমনি আশা আর্টিস্টসহ অনেক তরুণীর।