২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে মামলার প্রয়োজন ছিল না ॥ সুরঞ্জিত

  • পিপিপি বিল চূড়ান্ত

সংসদ রিপোর্টার ॥ সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে মামলাটিকে অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে বিচার বিভাগকে দুষলেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা গ্রহণ ও প্রবীর সিকদারকে প্রথম দফায় জামিন না দেয়ারও কড়া সমালোচনা করেছেন। রবিবার বিকেলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

এদিকে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিল-২০১৫ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত করেছে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের এ সংক্রান্ত আইনের আলোকে বিলটিতে আমুল পরিবর্তন এনেছে। চূড়ান্ত বিলে এই আইনের অধীনে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দুর্নীতি বন্ধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অব গবর্নরস গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এই মামলার কোন প্রয়োজনই ছিল না। আর মামলা নিলেও তাকে আদালত জামিন দিলেন না কেন? আইনে পঙ্গু ব্যক্তির জামিনের বিধান আছে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ এখন নির্বাহী থেকে পৃথক ও স্বাধীন। সেখানে নির্বাহী বিভাগের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এখন সরকারকে বললে হবে না। তিনি বলেন, ফরিদপুরের ওই মামলাটি তো হয়ই না। তারপরও মামলা নিলেন। এরপর আবার রিমান্ড দিলেন কেন? পরে আবার জামিন দিলেন। এটা কি হলো?

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আইসিটি এ্যাক্ট বাতিল করা যাবে না। এখন আইসিটির জগত। কথা উঠেছে আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে। সেটা বিবেচনা করতে হবে।

ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, কোন সভ্য জগতেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- সমর্থন করে না। আইনের শাসনের দুবর্লতার কারণে এটা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের মাথাপিছু এক লাখ ৫০ হাজার জনের বিপরীতে বিচারক মাত্র একজন। এই দিয়ে বিচার ব্যবস্থা আধুনিক করা সম্ভব নয়। বিচারক নিয়োগ দিতে হবে। বিচার বিভাগকে আধুনিক করতে হবে। তখনই বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- অনেক কমে যাবে।

সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিল-২০১৫ চূড়ান্ত ॥ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিল-২০১৫ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত করেছে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রবিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভারত, বৃটেন, কোরিয়া, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে সেই সকল দেশের আইনের আলোকে বিলটির ওপর সংসদীয় সাব কমিটির প্রতিবেদন বৈঠকে উত্থাপন করেন। কমিটির সদস্য বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, মোঃ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাহারা খাতুন, মোঃ শামসুল হক টুকু, তালুকদার মোঃ ইউনুস, জিয়াউল হক মৃধা ও সফুরা বেগম বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ আমন্ত্রণে এই আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

এ বিল প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দেশী-বিদেশী পুঁজি একত্রিত করে জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে। কিন্তু আইন শুধু পাস করলেই হবে না। তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তা দিতে পারে। তাই বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত বিলে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি জানান, বিলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অবস গবর্নরস গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেটা বাংলাদেশে প্রথম। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ১ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ওই দিনেই বিলটি পাসের সুপারিশ বিলের ওপর প্রতিবেদন সংসদে জমা দেয়া হবে। আগামী অধিবেশনেই বিলটি পাস হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।