১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকায় দুই আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দফতর স্থাপনে বাধা রইল না

  • মন্ত্রিসভায় ‘সারসো’ ও ‘বিমসটেক’ চুক্তি অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশে দুই আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দফতর স্থাপনে দু’টি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার মান সংস্থা ‘সারসো’ ও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট ‘বিমসটেক’র সদর দফতর প্রতিষ্ঠায় কোন বাধা থাকল না। ‘হেডকোয়ার্টার্স এ্যাগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গবর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ এ্যান্ড সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (সারসো)’ শীর্ষক চুক্তিতে একটি মান সংস্থার সদর দফতার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর সাত দেশের জোটের সদর দফতরের জন্য ‘হেডকোয়ার্টার্স এ্যাগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গবর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ এ্যান্ড দ্য সেক্রেটারিয়েট অব দ্য বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)’ চুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া অর্পিত সম্পত্তি আইনের সংশোধনের খসড়ায় কিছু অনুশাসন দিয়ে তা আবার ভূমি মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে চুক্তি দু’টির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, কোন দেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দফতর স্থাপনে সে দেশের অনুসমর্থন লাগে। ‘সারসো’র সদর দফতর স্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আছে। এটা বাংলাদেশ সরকারের সফল কূটনৈতিক কাজের পরিচয়। সারসোর প্রথম মহাপরিচালক বাংলাদেশ থেকে নিয়োগকৃত ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত (ভেটিং) নিয়ে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির আলোকে চুক্তিটি হয়েছে।

সদর দফতর এবং আর্কাইভসের অলঙ্ঘনীয়তা এবং সম্পত্তির সুরক্ষার বিষয়টি চুক্তির মধ্যে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া কার কি দায়িত্ব, মহাপরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তার প্রিভিলেজ (সুযোগ-সুবিধা), দায় মুক্তি এবং হোস্ট গবর্নমেন্ট (বাংলাদেশের) বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বিমসটেকের সদর দফতর স্থাপিত হয়েছে, কাজও চলছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মার্চ মাসে মিয়ানমারে বিমসটেকের তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের পর জুন মাসে স্থায়ী সচিবালয় স্থাপিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কা থেকে এর প্রথম মহাপরিচালক ও প্রথম পরিচালক মিয়ানমার থেকে, বাংলাদেশ থেকেও একজন পরিচালক আছেন।

প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর বিমসটেকের সচিবালয় উদ্বোধন করেছেন। সংস্থার সম্পত্তি, ডকুমেন্ট, প্রকাশনা, মহাপরিচালক ও কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মকর্তাদের তথ্য হালনাগাদ করা, কিভাবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে- চুক্তিতে এসব উল্লেখ রয়েছে।

অর্পিত সম্পত্তি আইন আরও পর্যালোচনার জন্য অনুশাসন দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে খসড়াটি ফেরত পাঠিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করে ভূমি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি ওঠানো হলে আরও পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুশাসন দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, অর্পিত সম্পত্তি আইনের খসড়াটি আরও পর্যালোচনা করে ফের উত্থাপনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। কিছু অনুশাসন দেয়া হয়েছে আরও পর্যালোচনা করে দেখার জন্য। দেশে যেসব অর্পিত সম্পত্তি আছে, তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিতে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এরপর ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ (সংশোধন) আইন-২০১৩’ খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনের খসড়টি বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হলে ২৫ এপ্রিল আরও সংশোধনীর জন্য মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। অনেকদিন পর আবার সোমবার মন্ত্রিসভায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ (সংশোধন) আইন-২০১৫ খসড়া মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসে ভূমি মন্ত্রণালয়।

এছাড়া বোর্ড গঠনের কিছু পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আইন-২০১৫-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের খসড়ায় তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে বোর্ডের কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। আগে চেয়ারম্যান এবং চারজন পরিচালক ছিলেন। এখন চেয়ারম্যান এবং আটজন পরিচালক রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আর সংশোধন আইনে বলা হয়েছে- পাঁচজনে কোরাম হবে। তবে সরকারের একজন প্রতিনিধি থাকতে হবে সেখানে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, সামরিক শাসনামলে জারি করা সব অর্ডিন্যান্স আইন করা হচ্ছে, যোগ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (সংশোধন) আইন-২০১৫ নীতিগত ও অনুমোদন দিয়েছে। এ আইনে পরিচালনা পর্ষদ গঠনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে পাঁচজনের পরিচালনা পর্ষদে তিনজন থাকবে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। আর অন্য দুইজন সরকার মনোনীত।