১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিসেম্বরের মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ॥ আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক রায় হবে। সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। একুশে আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার শহীদদের স্মরণে এ আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অনেক আলামত নষ্ট করে ফেলায় এ হত্যাকা-ের বিচার বিলম্বিত হচ্ছে। মামলার ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রায় হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সভায় আলোচনায় অংশ নেন একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল ৫টা ২২ মিনিট, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তৃতা শেষ করে এগুতে থাকলেন ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে। মুহূর্তেই শুরু হলো নারকীয় গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে লাগল একের পর এক গ্রেনেড। আর জীবন্ত বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ মুহূর্তেই পরিণত হলো মৃত্যুপুরীতে। শেখ হাসিনাকে আড়াল করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে জীবন বিলিয়ে দেন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স কর্পোরাল (অব) মাহবুবুর রশীদ। ২১ আগস্টের সেই রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। নারী নেত্রী আইভী রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ আগস্ট মারা যান। ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় নিহত অন্যরা হলেন শেখ হাসিনার দেহরক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মোশতাক আহমেদ সেন্টু, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (সবার প্রিয় আদা চাচা), রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন সরদার, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। আহত হন আরও অনেকে।