২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্যায় ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক দিশেহারা

বন্যায় ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক দিশেহারা
  • উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতি

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। বেড়িবাঁধ ও ব্রিজ ভেঙ্গে অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি বাঁধ। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ না পৌঁছানোয় দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসীরা। বন্যার পানিতে আউশ ও আমন ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেমি এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১১ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ৬০ ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষ গত চারদিন ধরে পানিবন্দী। নাগেশ্বরী পৌর এলাকার ডুবাছড়ি ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ডায়নারপাড়, দীঘিরপাড়, জামতলা, চৌবাড়ী, বাবুরহাট, ডাকনিরপাট, ভগিরভিটা, আরাজীকুমরপুরসহ ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। গ্রামাঞ্চলের কাঁচাপাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ না পৌঁছায় দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসীরা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কট। অনেকেই গবাদি পশু নিয়ে উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার পানিতে চারদিন ধরে নিমজ্জিত হয়ে আছে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত।

গাইবান্ধা ॥ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ২৬ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাড়ছে ঘাঘট নদীর পানিও। ফলে রংপুর-গাইবান্ধা সড়কের বামনডাঙ্গার ঘাঘট নদীর সøুইস গেটটি হুমকির মুখে। এছাড়া সর্বানন্দ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধটি এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। স্থানীয় লোকজন বাঁধে মাটি ফেলে তা রক্ষার চেষ্টা করছে। ফুলছড়ির কাইয়ারহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সেটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নওগাঁ ॥ নওগাঁ-আত্রাই সড়কের মির্জাপুরে সড়ক ভেঙ্গে সাত ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মির্জাপুরে বাঁধ কাম নওগাঁ-আত্রাই সড়ক অন্তত দুই শ’ ফুট ভেঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মান্দায় আত্রাই নদীর কোল ঘেঁষে বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত সাত বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। তলিয়ে গেছে আউশ ও আমন ধান ক্ষেত। এতে পানিবন্দী হয়েছে পড়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। কয়েক শ’ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বন্যার পানিতে।

জামালপুর ॥ জেলায় সার্বিক বন্যার পরিস্থিতি আরও অবনতি দেখা দিয়েছে। উজানের ঢলে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ১৮ সেমি পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৪ সেমি ওপর দিয়ে এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৪ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সাত উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে হাজার হাজার হেক্টর রোপা আমন ধান, শাক-সবজি, অসংখ্য বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।

ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন আরা জানান, বন্যার পানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওঠার কারণে শনিবার থেকে ৬০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কুলকান্দি শামছুননাহার উচ্চ বিদ্যালয়, চিনাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়, সাপধরী উচ্চ বিদ্যালয় এবং একটি মাদ্রাসাসহ ৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ॥ গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৩৪ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে রবিবার সন্ধ্যায় তা বিপদসীমার ৪৩ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যমুনা নদী তীরবর্তী কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার রাতে সদর উপজেলার বাহুকায় পুরাতন রিং বাঁধের দু’শ মিটার এলাকা ভেঙ্গে বাঁধের অভ্যন্তরের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় প্রায় একশ’ বাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

নেত্রকোনা ॥ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঢলে জেলার ৬ উপজেলার অন্তত চার হাজার ৮০ হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। পাহাড়ী ঢলে কলমাকান্দার নাজিরপুর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া-উলুকান্দা থেকে বাকলা-হাটশিরা পর্যন্ত জাইকা নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি অংশ ভেঙ্গে গেছে। এরই মধ্যে বেশকিছু এলাকার ফসল নিমজ্জিত হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট ॥ লালমরিহাটের সাপ্টিবাড়ি ও সারপুকুর দুই ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সোমবার পানি নিষ্কাশনের দাবিতে দুপুর হতে মহাসড়কের সাপ্টিবাড়ি নামক স্থানে কয়েক হাজার পরিবার কোদাল-কুন্তি নিয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পানি নিষ্কাশনের প্রতিশ্রুতিতে অবরোধ তুলে নেয়।

জানা গেছে, কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ও সাপ্টিবাড়ি দুই ইউনিয়নের সাপ্টিবাটি, নাগরটারী, জামিরটারী, সারপুকুরসহ কয়েকটি গ্রামের জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে সারপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনছুর আলী জানান, পানি নিষ্কাশনের দুইটি ইউ ড্রেন মুখ প্রভাবশালীরা বন্ধ করে রেখেছে। এছাড়াও জনৈক অবসরপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট একটি নালার মুখ বন্ধ করে তামাক প্রক্রিয়াকরণ কারখানা বসিয়েছে। যার কারণে পানি নিষ্কাশনের কোন পথ নেই। ফলে গ্রামের পর গ্রাম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কৃত্রিম পানিবন্দীদশা হতে রক্ষা পেতে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সাপ্টিবাড়ি নামক স্থানে মহাসড়কে ১১টা হতে ৫টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে।