১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হত্যার মূল টার্গেট ছিল গামা, জড়িত ৮ জনের নাম জানা গেছে

  • পুলিশের তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর বাড্ডার চার খুনের ঘটনায় আটজনের নাম জানা গেছে। এই কিলিং মিশনে আরও কয়েক জন জড়িত রয়েছে। তাদের নাম জানা যায়নি। সোমবার দুপুরে চার খুনের ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্ক রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (উত্তর) উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম এ তথ্য জানান।

উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম সাংবাদিকদের আরও জানান, হত্যার মূল টার্গেট ছিল ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মূলত সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। অন্য তিনজন গামার আশপাশে থাকায় পরিস্থিতির শিকার হয়ে মারা যান। গ্রেফতারকৃত দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনার এ ধরনের নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এর আগে রাজধানীর বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ যুবলীগ নেতা মোঃ আব্দুস সালামের (৪০) মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে চারজন নিহত হয়।

এ সংক্রান্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানান, খুনীদের মূল টার্গেট ছিল ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মূলত গুলি চালানো হয়। বাকিরা পরিস্থিতির শিকার।

ঘটনাটি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য ঘটানো হয়নি। মূলত ঝুট ব্যবসা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই খুনের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, আমরা গ্রেফতার দু’জনের কাছ থেকে আটজনের নাম পেয়েছি। তাছাড়া আরও দু’একজন জড়িত আছেন। যাদের নাম আমরা এখনও পাইনি। তবে খুব শীঘ্রই পেয়ে যাব। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত ছিল, সে ব্যাপারে ডিসি নাজমুল জানান, তদন্ত কজে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সমন্বয় করে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে যাদের নেতৃত্বে হত্যাপূর্ব মিটিং হয়েছিল। তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারলে এই ঘটনার নেপথ্যের লোক ও মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে বাড্ডার লিঙ্ক রোডের আদর্শনগরের ওয়াসার পানির পাম্পের পাশে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ক্ষমতাসীন দলের চার নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামসু মোল্লা ও স্থানীয় ক্লিনিকের ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ মানিক মারা যান। পরের দিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা মারা যান। সর্বশেষ ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ যুবলীগ নেতা মোঃ আবদুস সালামও (৪০) ঢামেক হাসপাতালে রবিবার রাতে মারা যান। এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট রাত ১২টার দিকে গামার বাবা মোঃ মতিউর রহমান বাদী হয়ে ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই ঘটনায় ১৬ আগস্ট রাতে রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকা থেকে মোঃ ফারুক মিলন ও নূর মোহাম্মদ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।