২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর কিশোরীটি ঢাকা মেডিক্যালের বেডে!

  • প্রেমিক বন্ধুদের সঙ্গে মিলে কেড়ে নিয়েছে তার সম্ভ্রম ॥ ধর্ষক সালাম ও এক বন্ধু আটক

শর্মী চক্রবর্তী ॥ প্রেমিকের সঙ্গে সংসার বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল প্রেমিকা। প্রেমিককে স্বামীরূপে পাওয়ার জন্য বুনেছিল অনেক স্বপ্ন। পালিয়ে ঢাকায় এসেছিল দুজন। কিশোরীর স্বপ্ন ছিল ঢাকায় তার নতুন সংসার হবে। উঠেছিল প্রেমিকের বন্ধুর বাসায়। কিন্তু সেখানেই ঘটে অন্যরকম ঘটনা। কিশোরীর সকল স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয় প্রেমিক। বন্ধুর বাসায় রেখে প্রেমিক নিজে তার তিন বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করে মেয়েটিকে। ১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে কাওরানবাজারের রেললাইন বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে। এর পর কিশোরীটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় প্রেমিক ও তার বন্ধুরা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিয়ে ভর্তি করে।

মোবাইল ফোনে কিশোরীর পরিচয় হয়েছিল প্রেমিক সালামের সঙ্গে। প্রথমে নাঈম নামে পরিচয় দিয়েছিল ছেলেটি। কিন্তু এটা তার আসল নাম ছিল না। তার নাম সালাম। সেই পরিচয়েই দুজনের কথা হতো প্রতিদিন। প্রায় দুই বছর ধরে সালাম ওরফে নাঈমের সঙ্গে কিশোরীর প্রেম চলে। অবশ্য তাদের এ সম্পর্কে দুই পরিবারেরই অমত ছিল। এর আগেও একাধিকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল তারা। এসব ঘটনার পর ওই কিশোরীর পরিবার তাকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছিল। তারপরও থেমে থাকেনি তাদের প্রেম। গোপনে যোগাযোগ চলে। এক পর্যায়ে দুজনে সিদ্ধান্ত নেয় আবার পালিয়ে যাবার। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেমিক সালাম ওরফে নাঈমের হাত ধরে ত্রিশাল থেকে ঢাকায় পালিয়ে আসে। প্রেমিকের বন্ধুর বাসা কাওরানবাজারের রেললাইন বস্তির বাঁ দিকের রাজুর বাড়িতে। ওখানে উঠলে কিশোরীর প্রেমিক শুধু নয়, তার পরিচিত আরও কয়েকজন মিলে গণধর্ষণ করে। কিশোরীটি এখন ঢাকা মেডিক্যালের ওসিসিতে (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) চিকিৎসাধীন আছে।

এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা আবদুল গফুর বাদী হয়ে নারী নির্যাতন ও দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে ৬ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ধর্ষণে জড়িত কিশোরীর প্রেমিকসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলো সালাম ওরফে নাঈম (২১) ও আলমগীর (২০)।

পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোরীর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায়। বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়ে সে। স্কুলে যাতায়াতের পথে পাশের এলাকার বখাটে যুবক সালামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সালামকে ভাল ছেলে মনে করে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। তাকে একাধিকবার মারধরও করা হয়। কিছুদিন স্কুলে যাওয়াও বন্ধ ছিল। সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয় তার পরিবার। সূত্র আরও জানায়, সালাম ওই কিশোরীর এক বান্ধবীর মাধ্যমে তাকে জানায়, তারা ঢাকায় পালিয়ে যাবে। আর বাড়িতে আসবে না। এতে রাজি হয় ওই কিশোরী। বিষয়টি সালামকে জানায় মেয়েটির বান্ধবী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্ধবীর মারফত তাকে ত্রিশালের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলে। বৃহস্পতিবার বাড়ির পাশের পুকুরে গোসলের নাম করে ঘর ছাড়ে কিশোরী। ব্যাগে জামা ও তার ভাবীর মোবাইল ফোন। ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষায় থাকা সালামের সঙ্গে দেখা হলে, দুজনেই রওনা দেয় ঢাকায়। রাত আটায় বাসটি মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে থামে। বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি রিক্সা করে তারা দুজন তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে আসে। এরপর সালাম তার প্রেমিকাকে জানায়, রাতের বেলায় হাতিরঝিল দেখে তারপর স্বজনের বাড়িতে উঠব। রাজি হয় কিশোরীটি। ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে হাঁটতে হাঁটতে তারা কাওরানবাজারের রেললাইনে আসে। রেললাইনের মাঝামাঝি বাঁ দিকের রাজুর বাড়িতে এলে সালাম ওই বাড়ির একটি ছোট্ট মেয়ের কাছে পানি খেতে চায়। এ সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সালামের সহযোগীরা সেখানে উপস্থিত হয়। মেয়েটিকে তারা ওই বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর মুখে কাপড় বেঁধে প্রেমিক সালাম ও তার তিন সহযোগী মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। কিশোরীটি হাতে-পায়ে ধরেও তাদের কাছ থেকে রেহাই পায়নি। একপর্যায়ে ওই কিশোরী অচেতন হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। কিশোরীটি বিধ্বস্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়ে এসে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা টহল পুলিশের একটি দলকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ তখন ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির প্রধান ডাঃ বিলকিস বেগম জানান, কিশোরীর শরীর থেকে প্রচ- রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া গেলেও প্রাথমিক অবস্থায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া তার মানসিক অবস্থা উন্নত করার জন্য কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।

তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মশিউর রহমান জানান, ওই কিশোরীকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সে জানিয়েছে, গণধর্ষণের হোতা তার প্রেমিক সালাম ওরফে নাঈম। তার পরিকল্পনায় এ কা- ঘটেছে। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ও তারই এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান ওসি।