২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘাতকরা চেয়েছিল বাংলাদেশকেই ধ্বংস করতে

একুশে আগস্ট, ২০০৪ শনিবার। বিকেল তখন ৫টা ২২ মিনিট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দেশের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এদেশকে পাকিস্তান বানানোর ধারাবাহিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে এদিন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শক্তিশালী গ্রেনেডের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক পরিকল্পিত হত্যাকা-ের সূচনা ঘটায়। তাদের এই ঘৃণ্য হত্যাকা-ে দেশীয় শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয় আন্তর্জাতিক শক্তিও। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেও এই অপশক্তি তাদের মনষ্কামনা পূর্ণ করতে পারেনি। যার ফলে তারা তারই কন্যা শেখ হাসিনাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে দেয়ার জন্য দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরকেও একইদিন হত্যা করতে চেয়েছিল। বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই গ্রেনেড হামলার সূচনা। কিন্তু ভাগ্যের লিখন, পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা সহায় হলে কে নিতে পারে তাঁর জীবন! চক্রান্তকারীদের সেই গ্রেনেড হামলায় সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল, লাশের পর লাশ পড়েছিল, আর্তনাদ, চিৎকার, মানুষের ছিন্নভিন্ন শরীরÑ চারদিকে ধ্বংসলীলা। বর্বরতা। পৈশাচিকতা। ভয়বহতা।

২১ আগস্টের মুহূর্মুহূ গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই ১৮টি তাজা প্রাণ লুটিয়ে পড়ে। শত শত মানুষ আহত হয়Ñ তাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস বেদনার্ত হয়ে ওঠে। ঘাতকেরা সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউকে পরিণত করেছিল কারবালার ময়দানে। গ্রেনেড বিস্ফোরণের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের পাশে ছিলেন। প্রাণের মায়া তিনি কখনো করেন নাÑ এ রকম কথা শেখ হাসিনা সবসময়ই উচ্চারণ করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে একথা দেশবাসীকে বলেন, আমি আমার জীবনের বিনিময়ে বাংলার মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। সেদিন দলের শীর্ষ নেতারা তাকে ঘিরে মানবঢাল তৈরী করে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেন। শক্তিশালী গ্রেনেডের শব্দে শেখ হাসিনার গায়ে স্পিøন্টার ও কানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

শেখ হাসিনাকে হত্যায় গ্রেনেড হামলায় সেদিন বিশ্বের সব দেশ হতবাক হয়ে গিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, প্রতিবেশী দেশসহ শক্তিশালী দেশগুলো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে তৎকালীন সরকারের রহস্যময় ভূমিকা ও নীরবতার নিন্দা করেন। তারা প্রশ্ন তুলে বলেছে, শক্তিশালী গ্রেনেডের উৎস নিয়ে যে সন্দেহ ও প্রশ্ন উঠেছে সরকারের উচিত তার সঠিক তদন্ত করে বের করা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গ্রেনেড হামলার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সে সময়ের সরকার লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়া এ বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আইওয়াশ-এর মাধ্যম তৎকালীন সরকার গ্রেনেড হামলার বিষয়টিকে হালকা করার অপচেষ্টায় মেতে উঠলে দেশ ও বিদেশে তা প্রচ- সমালোচনার জন্ম দেয়। সে সময় চারদলীয় জোট সরকার জজ মিয়া নাটকের অবতারণা করে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে এই জজ মিয়া নাটকের বানোয়াট কাহিনী প্রকাশ হয়ে পড়ে। টাকার বিনিময়ে তৎকালীন সরকারের নীতি-নির্ধারকরা জজ মিয়া নাটকের পা-ুলিপি তৈরি করে বিচারের নামে প্রহসন তৈরী করে।

কী ঘটেছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট? ২৩ আগস্টের পত্রপত্রিকা থেকে জানা যায়, চারদলীয় জোট সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন চলছে দেশব্যাপী। সিলেটে বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা তুষার হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আহ্বান করেছিল বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশ। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের পর বিক্ষোভ মিছিলেও তাঁর নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল। সমাবেশ উপলক্ষে দুপুরের পরই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউসহ আশপাশের এলাকা। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল এসে সমবেত হতে থাকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। বিকাল সোয়া তিনটা থেকে শুরু হয় সমাবেশ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য শেষ হলে মিছিলপূর্ব সমাপনী বক্তব্য রাখেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা যখন বক্তব্য শেষ করে দেশব্যাপী চলতে থাকা বোমা হামলার বিরুদ্ধে নতুন আন্দোলন শুরুর কথা বলে ‘জয় বাংলা’ শব্দটি উচ্চারণ করে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করলেন, ঠিক সে সময়ই প্রথম গ্রেনেডটির আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। গ্রেনেডটি শেখ হাসিনার মাথার ওপর দিয়ে ট্রাকের ওপর তৈরী অস্থায়ী মঞ্চের অল্প দূরে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। আর এ কারণেই শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান। গ্রেনেডটি যদি ট্রাকের ওপর বিস্ফোরিত হতো তাহলে শেখ হাসিনাসহ মঞ্চে থাকা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সবাই মারা যেতেন। এ সময় ট্রাকের পাশে থাকা শেখ হাসিনার নিরাপত্তাকর্মী মাহবুব তাৎক্ষণিক মারা যান। একে একে ১২/১৩টি শক্তিশালী গ্রেনেডের বিস্ফোরণে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় গোটা এলাকা। মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।

সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শেখ হাসিনার মঞ্চ লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগ অফিসের বিপরীত দিকে অবস্থিত সিটি ভবন এলাকা থেকে একের পর এক শক্তিশালী গ্রেনেড নিক্ষিপ্ত হতে থাকে। একজন কাপড় বিক্রেতা জানান, প্রথমে শেখ হাসিনার মাথার ওপর দিয়ে একটি গ্রেনেড এসে ট্রাকের বাম দিকে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর হামলাকারীরা অত্যন্ত পূর্বপরিকল্পিতভাবে সমাবেশের চারপাশ থেকে গ্রেনেড চার্জ করে। দেড় থেকে দুই মিনিটের মধ্যে সবগুলো গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শেখ হাসিনাকে ঘিরে মানবঢাল তৈরী করে দ্রুততার সঙ্গে তাকে নিরাপদে মঞ্চ থেকে নামিয়ে বুলেট প্রুফ গাড়িতে তুলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সমাবেশের চারদিকে সশস্ত্র পুলিশ ও আইনরক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই হামলাকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়ে স্থান ত্যাগ করে। এ সময় নেতারা শেখ হাসিনার সঙ্গে গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা শেখ হাসিনাকে প্রাণে মারতে না পেরে মরিয়া হয়ে ওঠে। গাড়ি স্টার্ট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও গ্রেনেড চার্জ করা হয় গাড়ি লক্ষ্য করে। গ্রেনেডের কয়েকটি স্পিøন্টার আঘাত করে তাঁর গাড়ির সামনের দিকের কাচে। মজবুত কাচ থাকায় হামলাকারীরা শেখ হাসিনার প্রাণনাশে তার গাড়ি লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি ছোঁড়ে। গুলিতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। তবে ভেতরে স্টিলের পাত ভেদ করতে না পারার কারণে শেখ হাসিনা গুলির হাত থেকেও বেঁচে যান।

গ্রেনেড হামলার পর বিবিসির এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকারের মদদে সারা দেশেই তো ঘটনা ঘটছে এবং আমাদের এই মিছিলটাই ছিল বোমা হামলা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। সিলেটে যে বোমা হামলা হলোÑ সেখানে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম মারা গেছে এবং অনেকেই আহত হয়েছে। গোপালগঞ্জে পুলিশের হাতে তুষার নামের ছাত্রলীগের কর্মী মারা গেছে। এই বোমা হামলা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করার কারণে আজকে বোধহয় তারা এর জবাব দিল। এই বোমা এবং গ্রেনেড মেরেও আমার বক্তৃতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠিক যে মুহূর্তে আমি সিঁড়ি দিয়ে নেমে গাড়িতে উঠব ঐ মুহূর্তে ঐ জায়গটাই তারা টার্গেট করেছিল। আমি এই মাত্র মেডিক্যাল থেকে খবর পেলাম, ১৬ জন মারা গেছে, তাদের লাশ পড়ে আছে। আইভি রহমানের অবস্থা খুবই খারাপ। উল্লেখ্য, গ্রেনেড হামলার দুদিন পর নারী নেত্রী আইভি রহমান মারা যান।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা যায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডগুলো পাকিস্তানে তৈরী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সর্বোচ্চ নির্দেশ দেন। গ্রেনেড হামলার পর জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ সংবাদপত্র অফিসে ই-মেইল পাঠিয়ে গ্রেনেড হামলার কথা স্বীকার করে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, গ্রেনেড হামলায় ২৪ জনের মৃত্যুসহ সাড়ে ছয় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। তিনশর বেশি কর্মী চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

গ্রেনেড হামলার পর বিশ্ব নেতারা শেখ হাসিনার প্রাণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও তৎকালীন সরকার তার নিরাপত্তার ব্যাপারে চোখে পড়ার মতো কোন পদক্ষেপ নেয়নি, বরং গ্রেনেড হামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেয়।

২৫ আগস্ট ২০০৪ দৈনিক জনকণ্ঠে প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ‘একুশে আগস্ট’ বাংলাদেশের ‘নাইন-ইলেভেন’ শীর্ষক সংবাদভাষ্যে লেখেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা জানে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের আর নিরাপত্তা দিতে পারবে না। এবং হত্যা মামলা আবার শুরু হবে এবং শাস্তি তাদের পেতেই হবে। ফলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা যতই বাড়ছে, ততই এই ঘাতকেরা, তাদের পেট্রন আইএসআই এবং একাত্তরে তাদের কোলাবরেটর জামায়াতিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিএনপির অভ্যন্তরে আইএসআইয়ের অনুগত চক্রটি এখন সক্রিয় এবং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ প্রভাবিত করে রেখেছে বলে অনেকের ধারণা। সুতরাং সাধারণ বা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা নয়, সামরিক বাহিনী ও পুলিশের জামায়াত প্রভাবিত এবং বিপথগামী অংশ দ্বারা বঙ্গবন্ধুর ঘাতকের সমর্থক রাজনৈতিক চক্রগুলোর সহায়তায় একুশে আগস্টের ঘটনাটি ঘটিয়ে আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কিনা সে বিষয়টিও আজ বিবেচনা করে দেখা দরকার। এই ভয়াবহ চক্রান্তের পরিকল্পক এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক আইএসআই হয়ে থাকলে, তাতেও আমাদের চমকানোর কিছু নেই। বরং বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যা, থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গত ঊনত্রিশ বছরের ঘটনা উপরের সন্দেহটিকেই আরও জোরদার করে।’

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’ শীর্ষক শিরোনামে ২৪ আগস্ট দৈনিক জনকণ্ঠে গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে লেখেন, ইতিহাস তৈরি করে গণমানুষ।

গণমানুষই ইতিহাসের প্রকৃত নির্মাতা। গণমানুষই ইতিহাসের চালিকা শক্তি। এই গণমানুষের বিরুদ্ধে শত সহস্র বোমা, গ্রেনেড, কামান, বন্দুক, রাইফেল ব্যর্থ হয়ে গেছে বারবার। তার প্রমাণ বাংলাদেশের মাটিতেই আছে, ইতিহাসে আছে। একাত্তরের কথা এখনো ভুলে যায়নি বাংলাদেশ। বাঙালি এখনো এতটা ভুলে যাবার জাতি নয়। যে মাটি নূরুলদীন, তিতুমীর, হাজি শরীয়ত উল্লাহ আর সর্বোপরি শেখ মুজিবের মতো মানুষের জন্ম দেয়, সে মাটি বীরপ্রসবী, সে মাটি শত্রু ভয়ে ভীত নয়, সে মাটি শৃঙ্খলিত হবার নয়, সে মাটি অমাবস্যায় ডুবে থাকবার নয়।... ‘এখনই চূড়ান্ত প্রতিরোধের সময়, প্রত্যাখ্যানের সময়। নইলে আমরা তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবোই, আমাদের সন্তানদেরও ভবিষ্যৎ আমরা হারিয়ে ফেলব। তাই সেই ভবিষ্যৎ, সেই আগামীকে শৃঙ্খলমুক্ত, ভয়মুক্ত, শত্রুমুক্ত করতে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে, মানুষকে মানবিক ক্ষেত্রে আবার স্থাপন করতে, একাত্তরের স্বপ্ন ও চেতনাকে বাস্তবায়িত করতে, চিরজীবী করতে, আজ দিকে দিকে জেগে ওঠো মানুষ, কণ্ঠে তোলো বজ্রের ভাষা, বাহুতে আনো দৃপ্ত প্রতিরোধ। একাত্তরের মতোই আজ আবার জাগো, জাগো, বাঙালি জাগো।’