১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

’৭৫ থেকে ’৮১- কেমন ছিল বাংলাদেশ?

  • গোলাম কুদ্দুছ

খুনী মেজর চক্রের দুই সদস্য লে. কর্নেল আনোয়ার আজিজ পাশা এবং মেজর কাজী নূর হোসেন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় তাদের কোন শাস্তি না দিয়েই জিয়াউর রহমানের সরকার আঙ্কারা এবং তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পূর্বের চাকরিতে ফেরত পাঠান। এইভাবে প্রকারান্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। গতকালের পর আজ পড়ুন চতুর্থ কিস্তি...

ঞ.

১৯৭৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া এক ফরমান জারি করে রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনে প্রেসিডেন্টের হাতে প্রায় সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেন। সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর নির্বাচনী প্রচারের স্বল্প সুযোগ দিয়ে ২৭ জানুয়ারি ১৯৭৯ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলসমূহ আপত্তি জানায়। এ সময় জাসদ, ইউপিপি, আতাউর রহমানের জাতীয় লীগসহ ১০টি দলের সমন্বয়ে একটি জোট গঠিত হয়। এই ১০ দলীয় জোট এবং আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, সিপিবিÑ সামরিক আইন প্রত্যাহার, সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য কিছু দাবি উত্থাপন করে। ৪ জানুয়ারি ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের এ সংক্রান্ত আলোচনা ব্যর্থ হলে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর পরদিন নির্বাচন কমিশন এক ঘোষণায় ২৭ জানুয়ারির পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করে। সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় এবং নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু থেকেই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় থাকলেও সামরিক সরকারের মুখোশ উন্মোচন এবং আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলসমূহ এ নির্বাচনে অংশ নেয়। ক্ষমতাসীন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিএনপি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করে।

বহু আলোচিত সে নির্বাচনের ফলাফল ছিল এ রকম (সূত্র : নির্বাচন কমিশন) :

৩১ মার্চ জেনারেল জিয়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানী প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে যোগদানকারী শাহ্ আজিজুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

৫ এপ্রিল ১৯৭৯ নবগঠিত জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী পাস করিয়ে নেয়া হয়। এর ফলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখের মধ্যে সামরিক আইনের মাধ্যমে জারিকৃত সকল ফরমান, সংবিধানের সকল সংশোধনী নিয়ে আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অপর কোন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রশ্ন তোলার অধিকার রহিত করা হলো।

চলবে...

লেখক : সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব