২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিনামূল্যের ওষুধ

সরকারের বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম কাদের জন্য তা বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। ‘বিনামূল্য’ শব্দবদ্ধের মধ্যেই উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কথা নিহিত রয়েছে। সমাজের নিম্ন ও সাধারণ আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অংশ এ কার্যক্রম। নাগরিকের অন্যতম মৌলিক চাহিদা চিকিৎসাপ্রাপ্তি ও কল্যাণমূলক এ মহৎ পরিকল্পনা কেন যে বারবার হোঁচট খায় ও প্রশ্নবিদ্ধ হয় এর জবাবসহ আশু সমাধান হওয়া জরুরী।

স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর থেকেই সব সরকারই বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের কাজ অব্যাহত রাখে। সেসময় মূলত সরকারী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কার্যক্রমটি বেশ পুরনো হলেও এ পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও পরিপূর্ণতা শতভাগ নিশ্চিত হয়নি। প্রায় সব সরকারের আমলেই বিতরণ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে কমবেশি অভিযোগ উঠেছে। মূল অভিযোগÑ বিনামূল্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ ওষুধ রোগীদের না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়া। যদি কোন হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ দেয়াও হয় তবে সব রোগের বেলায় এক ওষুধ। এসব ওযুধ সাধারণ কিছু রোগের জন্যই নির্ধারিত। বিপজ্জনক, জীবন সঙ্কটাপন্ন, গুরুতর আহত বা অসুস্থ এমন রোগীদের জন্য নয়। সরকারী এ ওষুধ বিতরণ প্রসঙ্গে একটি কথা প্রচলিত রয়েছেÑ ‘সব রোগের জন্য এক প্যারাসিটামল’। এমন বাস্তবতা নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখাসহ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ও কম আলোচনা-সমালোচনা হয়নি। বিষয়টি হতাশার উদ্রেক করে। তবে এ বিষয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হুঁশিয়ারিতে। সরকারী ওষুধ প্রকৃত রোগী যাতে পান তা নিশ্চিত করতে দিয়েছেন নির্দেশ; পাশাপাশি এর ব্যত্যয় ঘটলে কিংবা সরকারী ওষুধ বিক্রির মতো বেআইনী কাজের সঙ্গে যারা জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী এ নির্দেশনাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। এখন প্রয়োজন এ নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন।

সময়ের বিবর্তনে ও প্রয়োজনের তাগিদে চিকিৎসাসেবার অবকাঠামোগুলো বহু স্তরে বিস্তৃত ও ব্যাপৃত হয়েছে। বর্তমান সরকার নাগরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে তা শিকড় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সরকার সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে কমপক্ষে ৩০ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ নিশ্চিত করতে তাগিদ দিয়েছে। এ শুভ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তবে কথা হলোÑ এসব কল্যাণমূলক কাজ সম্পন্ন করতে সরকারের পাশাপাশি দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। এটা তাদের জন্য এমন কঠিন বা ব্যয়বহুল হবে বলে মনে হয় না।

সরকারের বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম যারা ব্যাহত ও প্রশ্নবিদ্ধ করছে তাদের কর্মকা-ের ব্যাপারে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা আবশ্যক। মনে রাখা দরকার, তারা প্রজাতন্ত্রের সেবক মাত্র এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অর্পিত একটি মানবিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে জড়িত। এ কার্যক্রমের সাফল্য ও ব্যর্থতার দায় তাদের ওপরও বর্তায়। অতীতের বদনাম ঘুচিয়ে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সবাই উজ্জ্বল ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।