১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় ক্রিকেট লীগ দিয়ে শুরু নতুন মৌসুম

  • ঘরোয়া আসরের সূচী নির্ধারণ বিসিবির, বিপিএল ২৫ নবেম্বর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টানা ১৮ দিন ছুটিও কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তবে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এবং হাই পারফর্মেন্স ইউনিটের অধীনে অনেকে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন। অক্টোবরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ব্যতীত চলতি বছর এফটিপি অনুসারে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা নেই টাইগারদের। এ বিশাল বিরতির মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন ক্রিকেটাররা। দুই আসর হওয়ার পর গতবার বন্ধ ছিল টি২০ আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)। তবে এবার এই আসরটিও হবে। ২৫ নবেম্বর শুরু হবে মাসব্যাপী তৃতীয় বিপিএল। আর মৌসুম শুরু হবে প্রথম শ্রেণীর লঙ্গার ভার্সন আসর জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল)। এটি মাঠে গড়াবে ১৭ সেপ্টেম্বর। সোমবার মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের সভায় মৌসুমের ক্রিকেট সূচী চূড়ান্ত করার পর ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান দুর্জয় এ কথা জানান। তবে ক্রিকেট সূচীটি চূড়ান্ত করা হবে চলতি মাসের শেষদিকে বোর্ড সভায় বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন অনুমোদন দেয়ার পর।

অক্টোবরে মাত্র দুই টেস্ট খেলতে আসবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট ক্রিকেটের প্রস্তুতির জন্য উপলক্ষ তৈরি করেছে বিসিবি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসর এনসিএল আগামী মাসের ১৭ তারিখে শুরু হবে। জাতীয় দল মাঝে দুই টেস্টের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেও সেটা চলবে। সবকিছু ঠিকমতো চললে প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার তারিখ ধরা হয়েছে ৪ নবেম্বর। আলোচনায় মূলত ৪ ঘরোয়া আসরকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে বিপিএলও। ২০১২ ও ২০১৩ সালে বিপিএলের দুটি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে নানা জটিলতার কারণে গত বছর আর বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়নি। মাসব্যাপী এ টি২০ আসরে অবশ্য এবার সব নতুন দল আসবে এবং আগের তুলনায় একটি দলও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রথম আসরে ৬ এবং দ্বিতীয় আসরে ৭ দল খেলেছিল। এবার আরেকটি বাড়তে পারে। নতুন করে দলগুলোর মালিকানা কিনতে এরই মধ্যে ১২ প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে বিসিবিতে। বিপিএল শেষ হবে ২৫ ডিসেম্বর। সভা শেষে ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান দুর্জয় বলেন, ‘আগামী ২৫ নবেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিপিএলের তৃতীয় আসর অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্য আসছে আসরে কয়টি ফ্রাঞ্চাইজি অংশ নেবে সে বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেইনি আমরা।’

দেশের দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল)। এটি শুরু হবে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। আর দেশের অন্যতম সেরা ঘরোয়া ক্রিকেট আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ মাঠে গড়াবে ১১ মার্চ, শেষ হবে ৯ মে। ঘরোয়া ক্রিকেটের বর্ষপঞ্জিটা আগামী ২-৩ বছর টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা ভাবছেন দুর্জয়। বিসিবি সভাপতি পাপন এ মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠিতব্য বোর্ড সভায় অনুমোদন দিলেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডার। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কার্যকরী কোন ক্যালেন্ডার না থাকায় প্রতি বছরই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মাঠে গড়াত ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন ফরমেটের টুর্নামেন্টগুলো। এবার টুর্নামেন্ট আয়োজনে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়ায় সে সমস্যার অবসান হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দুর্জয় বলেন, ‘আজ আমাদের প্রধান ইস্যুটাই ছিল ক্রিকেট ক্যালেন্ডার নিয়ে। ঘরোয়া ক্রিকেটের খসড়া সূচী তৈরি করেছি। এখন এটা বোর্ড সভায় তুলব। অনুমোদন দিলে এটাই থাকবে। আমরা এখন থেকে চাচ্ছি যে এই ক্যালেন্ডারটা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।’

ঘরোয়া ক্রিকেট আসরে মূলত জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিয়মিত হতে না পারার কারণেই প্রতি বছর ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে দুর্জয় বলেন, ‘ঢাকা লীগ ও ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক যেসব লীগ রয়েছে সেখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের একটা চাহিদা থাকে। প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগের বিষয়টাও দেখতে হয়, আম্পায়ারদের আবার একটি বিষয় রয়েছে। মাঠ এখনও আমাদের কাছে বড় একটি ইস্যু। পর্যাপ্ত মাঠ নেই। তবে মাঠ সমস্যাটা আস্তে আস্তে কমানোর চেষ্টা চলছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে সময়টা বাদ দিয়ে আমরা কিছু করব। এর মধ্যে জাতীয় দলের যেসব খেলা রয়েছে তারা সেগুলো করবে। প্রত্যেক বারই যদি আমরা জাতীয় দলের খেলার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটটা উলট-পালট করি তাহলে হয় না। সিসিডিএম ও টুর্নামেন্ট কমিটি প্রস্তাব করেছে আমরা সেটা এ্যাডজাস্ট করেছি। এ জন্য একটা সিদ্ধিান্তে উপনীত হয়েছি যে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বাইরে রেখেই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। অনেক সময় ক্লাবের প্রয়োজনেও কোন ক্রিকেটারকেও খেলানোর প্রয়োজন হতে পরে। বিষয়টা বিবেচনা করা হবে।’