১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এখনও খোলার সময় হয়নি

  • মার্কিন দূতাবাস চালু প্রশ্নে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ॥ তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাস উদ্বোধন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ রবিবার বলেন, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস পুনরায় খোলার কথা বলা সময়োপযোগী নয়। বিক্ষোভকারীরা ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের বাসভবন তছনছ করার চার বছর পর ব্রিটেনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠিত হলো। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামল্ড রবিবার ইরানী রাজধানীর উনবিংশ শতাব্দীর একটি বিলাসবহুল ভবনে দূতাবাস পুনরায় চালু করার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ২০১১ সালে হামলাকারীরা সেখানে ব্রিটেনের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দেয়, ব্রিটিশ রানীর প্রতিকৃতি ছিঁড়ে ফেলে এবং জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। খবর ইয়াহু নিউজ ও এএফপির।

তেহরান এখন মার্কিন কূটনৈতিক মিশন পুনরায় চালুর বিষয়টি অনুমোদন করে কিনা- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার অর্থ হলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণের উপযুক্ত সময় এখনও আসেনি।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ওই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে হয়। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরিস্থিতিটা ভিন্ন।

১৯৭৯-তে ইসলামী বিপ্লবের প্রথমদিকে ছাত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অবরোধ ও লুটতরাজ করে। তাদের আশঙ্কা ছিল ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থানের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, যখন সিআইএ ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতের নেপথ্যে কাজ করেছিল। ঘটনাপরবর্তী জিম্মি সঙ্কট ৪৪৪ দিন স্থায়ী হয়েছিল এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গত মাসে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬টি প্রধান শক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচী চুক্তি সম্পাদনের পর পারস্পরিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইরান রবিবার লন্ডনে দেশটির দূতাবাস পুনরায় চালু করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা চুক্তিবিরোধী রিপাবলিকান প্রাধান্যপুষ্ট মার্কিন কংগ্রেস চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে তাঁর ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছেন। ওই চুক্তির ফলে ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্তকারী বেশকিছু অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচী প্রশ্নে ১৩ বছরব্যাপী বিরোধের অবসান ঘটিয়ে ব্রিটেনও অপর পাঁচ বিশ্বশক্তির চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ সপ্তাহ পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামল্ডের দু’দিনব্যাপী সফর শুরু হয়। তিনি তেহরানে ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্বকারী নতুন চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স অজয় শর্মার সঙ্গে দূতাবাসের বাগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে ব্রিটেনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। রিপোর্টাররা লক্ষ্য করেন যে, দূতাবাসের একটি দরজার ওপরে কে বা কারা লাল রং দিয়ে ‘ব্রিটেন নিপাত যাক’ সেøাগান লিখে রেখেছে। সরকারী ইরনা বার্তা সংস্থা জানায়, কয়েক ঘণ্টা পর বাইরে প্রায় ৪০ জন বিক্ষোভকারী ব্রিটিশবিরোধী সেøাগান দেয়। তাদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শত শত দাঙ্গা দমন পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দুই দেশ পরস্পরের রাজধানীতে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০০৩-এ জ্যাক স্ট্র’র পরে হ্যামল্ড হলেন প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি ইরান সফর করছেন।

ব্রিটেনে আরও দুই ইরানী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ॥ ব্রিটেনে শীঘ্রই আরও দুটি ইরানী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশটিতে ইরানী ব্যাংকের সংখ্যা হবে চার। তেহরান সফররত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামল্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ওয়ালিউল্লাহ সাইফ। তিনি জানান, ব্রিটেনে ব্যাংক মিল্লি ইরান ও পারসিয়া ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল তাদের শাখা খুলবে। বৈঠকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানে তার দেশের ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন।