২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নদীর ধারে পাইন বন

  • মাহবুব রেজা

এটা কি নদী? নাকি নদীর মতো অন্য কিছু? যদি নদী হয় তবে নদী আর যদি অন্য কিছু হয় তবে অন্য কিছুই।

তিনি সেই নদী বা অন্য কিছুর পাশ দিয়ে হাঁটছেন। টলটলে পানি। এতটাই টলটলে যে নিচের সবটা দেখা যায়। আচ্ছা, পানি কি এতটাই স্বচ্ছ?

কযেকদিন ধরে হাসান সাহেব ফুলটাইম বেকার। ফুল টাইম বেকার? হ্যাঁ, পুরোদস্তর বেকার। মানে হাত-পা খোলা বেকার। বেকার থাকলে হাসান সাহেব অস্বস্তিতে থাকেন, কিন্তু মন খারাপ করেন না। তাহলে সেই সময়টায় তিনি কি করেন?

একা একা ঘোরেন।

এই যেমন এখন হাসান সাহেব মনের আনন্দে ঘুরছেন।

হাসান সাহেব কি একা একা হাঁটছেন? না, নদীও তার হাত ধরে ধরে হাঁটছে। হাসান সাহেব প্রথম প্রথম ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারেননি। তিন মাস ধরে হাসান সাহেবের হাতে কোন কাজ নেই। তিনি যে বাসায় থাকেন সেখানে তাকে সিটভাড়া ও খাবারের খরচ ছাড়া একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়। তিন মাসের টাকা জমে গেছে। বাড়ির মালিক নেহায়েত ভদ্রলোক বলে তাঁকে কিছু বলেননি। কিন্তু অন্য বাসায় হলে তাকে এতদিনে নিশ্চিত নামিয়ে দেয়া হতো। অথচ হাসান সাহেবের বাড়ির মালিক অদ্ভুত ধরনের। তিনি হাসান সাহেবকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে বুঝিয়ে বলেছেন, হাসান সাহেব, আপনি ভাড়া আর খাবারের টাকা নিয়ে একদম ভাববেন না। আপনি আপনার মতো করে চলাফেরা করবেন। খরচের জন্য টাকা লাগলে বলবেন।’

হাসান সাহেব কাজের জন্য এখানে-সেখানে কম তো ঘুরছেন না। আজ এই শহর তো কাল অন্য শহর। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কোন কোনদিন অভুক্ত থাকেন। ঘরে ফিরতে ইচ্ছে হয় না। ঘরে ফিরলে ঘরের অন্যান্য কেজো মানুষ তাঁকে নিয়ে রসিকতা করতে ছাড়েন না। হাসান সাহেবের এসব ভালো লাগে না। তিনি নিজে মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে কথা কখনও বলেন না। বলতে পছন্দও করেন না। রসিকতা তো দূরের কথা।

অভুক্ত মানুষের অনুভূতি তীব্র হয়Ñ কোথায় যেন হাসান সাহেব কথাটা পড়েছিলেন। হাজার মাইল দূরে দেশে থাকা তাঁর স্ত্রী রোকেয়া আক্তার, পাঁচ বছরের মেয়ে অথই আর আড়াই বছরের ছেলে রিদ্যর কথা যখন হাসান সাহেবের মনে হয় তখন তিনি কেমন যেন হয়ে যান।

কেমন হয়ে যান?

অক্ষম মানুষ, অসহায় মানুষ যেমন হয়ে যায় তিনিও তেমন হয়ে যান।

নিজের অক্ষমতার কথা, অসহায়ত্বের কথা মনে হলেই হাসান সাহেব নিজেই নিজেকে তিরস্কার করেন। পাশে বয়ে চলা নদী। কাকের চোখের মতো নিকষ কালো জল শব্দ তুলে ধেই ধেই করে নেচে ছুটে যাচ্ছে। নদীর দুই পাশে বড় বড় পাইনগাছ। পাইনগাছ বেয়ে শেওলা ধরা লতাগুল্ম। মাঝে মধ্যে হাসান সাহেবের খুব ইচ্ছে জাগে, তুমুল বৃষ্টির মধ্যে তিনি একা চলে আসবেন এই পাইনের জঙ্গলে। তার খুব শখ, বৃষ্টির মধ্যে গাছকে জড়িয়ে ধরে তিনি কাঁদবেন, গাছের কান্না শুনবেন। চারদিক থেকে তুমুল বৃষ্টির শব্দ। সেই বৃষ্টিতে, বৃষ্টির শব্দে হাসান সাহেব চলে যাবেন অচিন কোন দূরালোকে।

কী অদ্ভুত ভাবনা হাসান সাহেবের! আজ কী হল তার! এসব কী ভাবছেন তিনি!

নদীর পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হাসান সাহেব বুঝতে পারলেন, তাঁর সঙ্গে কেউ একজন হাঁটছে। কথাও বলছে। হঠাৎ হাসান সাহেব

এই মাত্রা পাওয়া