২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সোনার আড়ালে অবৈধ ব্যবসা

  • চাঁপাইয়ে স্বর্ণের দোকান তিন বছরে বেড়ে দেড় হাজার ॥ অথচ বেচাকেনা চোখে পড়ে না

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ জেলার সীমান্তঘেঁষা ৭১টি ছোট ছোট ব্যবসা কেন্দ্র ও হাট-বাজারে গত এক যুগে রাতারাতি অসংখ্য সোনার দোকান গড়ে উঠেছে। আর এসব দোকান মালিকদের অনেকেই একেবারে শূন্য থেকে লাখপতি ও কোটিপতিতে পরিণত হয়েছে। বিস্ময়কর আর্থিক উত্থানের পেছনে রয়েছে অবৈধ পথে সোনা চোরাচালান। একাধিক সময়ে এসব তদন্তে পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নামলেও তারা অজ্ঞাত কারণে নীরব হয়ে যায় কিছুদিনের মধ্যেই। তারা সোনার দোকানের আড়ালে অবৈধ ব্যবসা করে রাঘববোয়ালে রূপান্তর হয়ে এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত তিন বছর আগেও সোনার বৈধ দোকানের সংখ্যা জেলায় সব মিলিয়ে দুই শ’র অধিক ছিল না। এখন তা বেড়ে দেড় হাজার পেরিয়ে গেছে। যদিও এসব সোনার দোকানের কোন অনুমোদন নেই। শুধুমাত্র শিবগঞ্জ উপজেলা সদর ও মনাকষাসহ ১৭টি পয়েন্টে সোনার দোকান হয়েছে এক বছরে ৫০০টি। সরকারী একটি সংস্থা নিশ্চিত করেছে, সোনার দোকান করতে গেলে জেলা প্রশাসন অফিসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু সোনার দোকান খোলার ব্যাপারে এখন আর অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন মনে করে না তারা। বিশেষ করে সীমান্তের পাঁচ মাইলের মধ্যে সোনার দোকান খুলতে গেলে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলার একাধিক বাণিজ্য কেন্দ্র সীমান্তের তিন মাইলের মধ্যে হলেও সোনার দোকান খোলার ব্যাপারে অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একাধিকবার যথাস্থানে আপত্তি উত্থাপন করলেও লাভ হয়নি। ব্যবসাতে একেবারে পশ্চাদ্ভূমি, গরিব অঞ্চল ও ক্রেতা না থাকলেও নিত্যনতুন সোনার দোকান খুলে দিব্যি ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। ১৯৯১ সালে চোরাচালানবিরোধী জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান শুরু করলে এসব সোনার দোকান বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরে দোকানদাররা একজোট হয়ে তদবিরে নেমে ম্যানেজ করে আবারও দোকান খুলে বসে। অনেক সোনার দোকান শুধুমাত্র সাইনবোর্ডসর্বস্ব। একটি সরকারী সংস্থার গোপন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সীমান্তের অর্থাৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিকাংশ সোনার দোকান সোনা পাচারের সংঙ্গে যুক্ত। এদের কাজ সোনা পাচার করে সেই অর্থে চোরাইপণ্য কিনে বাংলাদেশে আনা। আবার অনেক আমদানিকারক বৈধভাবে এলসি খুলে এসব পণ্য সোনামসজিদ বন্দর হয়ে দেশে আনছে। অনেক সোনার দোকানদারের রয়েছে মাদক কানেকশন। সোনা যাচ্ছে, বিনিময়ে মাদক আসছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একাধিক চিহ্নিত সোনার দোকানদার ও স্বর্ণকারের ভারতের মালদহ, ইংরেজ বাজারসহ একাধিক পয়েন্টে সোনার দোকান রয়েছে। এদের একমাত্র নেটওয়ার্ক সোনার বার পাচার। গত তিন বছরে জেলা শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় দেড় শ’ অনুমোদনবিহীন সোনার দোকান হয়েছে। এদের জিজ্ঞাসা করলে উত্তর আসে- জেলা প্রশাসকের অফিসে অনুমোদনের জন্য দরখাস্ত করে রেখেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন চাঁপাইয়ের সীমান্তপথে ব্যাপক সোনা চোরাচালানের কথা। তিনি জানান, সোনা চোরাচালান এতটাই গোপনে করা হয় যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও প্রমাণের অভাবে আটক করা সম্ভব হয় না। তার মতে, অধিকাংশ সোনা চোরাকারবারি অন্য ব্যবসার আড়ালে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পত্তি অর্জন সকলের নজর কাড়লেও কিছু করার নেই।