২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীতে গরু মোটাতাজাকরণে ॥ নিষিদ্ধ ওষুধ

  • লক্ষ্য কোরবানি ঈদ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবারও খামারে খামারে শুরু হয়েছে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া। তবে এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর ওষুধ। স্টেরয়েড, প্রি-ডেক্সানল, ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন, পেরিএ্যাকটিন, প্যারাডেক্সা ও ওরাডেক্সান প্রভৃতি ক্ষতিকর ওষুধে চলছে মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া।

চিকিৎসকদের মতে, এসব ওষুধ হাঁপানিসহ মানবদেহের জটিল সব রোগের ওষুধ। এসব ওষুধ সেবনে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। আবার মাত্রাতিরিক্ত সেবন হলে প্রভাব পড়তে পারে ভয়ঙ্কর। অথচ এসব ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে গরু মোটাতাজা করতে।

গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় এসব ওষুধই খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে। এতে অল্প দিনে ফুলে ফেঁপে উঠছে গরু। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে খামারিরা এসব নিষিদ্ধ ওষুধ খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীতে খামারের সংখ্যা ৮ শতাধিক। এর মধ্যে গোদাগাড়ীতে রয়েছে ১২৫টি। এসব খামারে গরু-মহিষের সংখ্যা ১০ থেকে ৩০টি পর্যন্ত। এসব খামারে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ওষুধ খাইয়ে ও ইনজেকশন প্রয়োগ করে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এছাড়াও ‘মৌসুমি খামারিরা’ নিষিদ্ধ ওষুধ ও ইনজেকশন প্রয়োগ করে তাদের বাড়িতে গরু মোটাতাজা করছেন। উপজেলা সদর, উপজেলা পশু হাসপাতালের সামনের গবাদি পশুর ওষুধের ফার্মেসি কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজারÑসবখানেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গরু মোটাতাজাকরণের নিষিদ্ধ ওষুধ। সম্প্রতি ১৬ হাজার ৬০০ গরু মোটাতাজাকরণের নিষিদ্ধ ওষুধসহ তানোরের মুন্ডুমালা বাজারে গোদাগাড়ীর দুই ব্যবসায়িকে আটকও করেছে র‌্যাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটক ওই দুই ব্যক্তির মতো গোদাগাড়ীতে আরও অন্তত অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি সক্রিয় আছেন যারা ভারত থেকে বিভিন্ন গ্রুপের নিষিদ্ধ গরু মোটাতাজাকরণের ওষুধ আমদানি করে জেলায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

গোদাগাড়ীর মান্ডইলের মৌসুমি গরু খামারি শের মাহমুদ আলী জানান, প্রতিবছর তিনি ঈদ-উল-ফিতরের পর তুলনামূলক কম দামে প্রাপ্তবয়স্ক রোগা-চিকন গরু কিনেন। তারপর গরুকে স্টেরয়েড ও ডেক্সামেথাসন গ্রুপের ওষুধ খাওয়ান। আর এতেই সর্বোচ্চ দেড় মাসের মধ্যে গরু হয়ে ওঠে মোটাতাজা ও আকর্ষণীয়। দু’মাস আগে যে গরু ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় কেনেন কোরবানির ঈদের বাজারে সেসব গরু ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়। শের মাহমুদ আলীর মতে, গরু মোটাতাজা করার ‘ব্যবসা’ দারুণ লাভজনক। তাই তিনি প্রতিবছরই চার-পাঁচটি গরু মোটাতাজা করে কোরবানির হাটে তোলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজাবাড়িহাট এলাকার এক গরু খামারি জানান, গো-খাদ্যর দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সারাবছর গরু পালন করে তেমন লাভ হয় না। তাই তার মতো অনেক খামারি কোরবানি ঈদের দিকে চেয়ে থাকেন। কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে এলেই শুরু হয় গরু মোটাতাজাকরণের প্রতিযোগিতা। এ জন্য বিভিন্ন ইনজেকশন প্রয়োগ ও ওষুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি ইউরিয়াও খাওয়ানো হয় গরুকে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি খামারিদের সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন। গরু সুস্থ ও সবল রাখার জন্য গরুকে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুষি আর খড় ছাড়া অন্য কিছু খাওয়ানোর জন্য তিনি কখনও পরামর্শ দেন না বলেও দাবি করেন। পশু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যেসব নিষিদ্ধ ওষুধ খাওয়ানোর ফলে গরুর শরীর থেকে পানি বের হতে পারে না। জমে থাকা পানি গরুর পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তখন গরু মোটাতাজা ও আকর্ষণীয় দেখায়। কিন্তু এর ফলে গরুর কিডনি ও যকৃত কার্যকারিতা হারায়। এসব গরু বেশি দিন বাঁচে না।

নির্বাচিত সংবাদ