২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিমুলিয়া-কাওড়াকােন্দি ফেরি চার দিন ধরে কার্যত বন্ধ

  • চার শ’ টাকা আটকা

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ থেকে ॥ টানা চার দিন ধরে নাব্য সঙ্কটে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে মানুষের চরম দুর্ভোগ ছাড়াও চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ায় ব্যবসাবাণিজ্যে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। ছোট গাড়ি ও বাসগুলোর বেশির ভাগই বিকল্প পথে চলে গেছে।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আশিকুজ্জামান জানান, ‘কুসুমকলি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামে দুটি কে-টাইপ ফেরি চারটি ট্রিপ দিয়েছে। আগে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে প্রতিদিন ৭০-৮০টি ট্রিপ হতো। অলস বসে আছে ১৬ ফেরি।

রবিবার রাতে ফেরি ‘কুসুমকলি’ বিকল হয়ে যায়। তাই এটি শিমুলিয়ার ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কসপে মেরামত করা হয়। নতুন এই ফেরিটি মেরামতের পর সোমবার দুপুর থেকে আবার চলতে শুরু করে। এছাড়া ‘ক্যামেলিয়া’ নামে অপর একটি ফেরি রবিবার সন্ধ্যা থেকে চলাচল করছে। ফেরি দুটি সোমবার সারাদিনে চারটি ট্রিপ দেয়।

নাব্য সঙ্কট রোধে ড্রেজিং করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তীব্র স্র্রোতে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের মুখ। স্বাভাবিক ফেরি চলার জন্য চ্যানেলে পানির গভীরতা প্রয়োজন কমপক্ষে সাড়ে সাত ফুট। কিন্তু পানির গভীরতা এখন ছয় ফুটের নিচে নেমে এসেছে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, নাব্য সঙ্কট নিরসনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নদীর অস্বাভাবিক স্রোতের কারণেও ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার একটি পর্যবেক্ষণ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নাব্য সঙ্কট রোধে পদ্মা সেতু কাজে ব্যবহৃত একটি বড় আকারের ড্রেজার বুধবার থেকে কাজ করবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র ছয়টি ড্রেজার সেখানে রয়েছে, কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে পারছে না। তবে পদ্মা সেতুর বড় ড্রেজারটি তীব্র স্রোতেও ড্রেজিংয়ে সক্ষম।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়ায় আটকেপড়া মানুষগুলোর কষ্টের যেন সীমা নেই। তারা না পারছে ফিরে যেতে, না পারছে পার হতে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে বিপর্যয় নানা রকম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা মানিকগঞ্জ থেকে জানান, পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে স্রোত বেড়ে যাওয়া, মাওয়া ফেরিঘাটের কিছু গাড়ি পাটুরিয়ায় চলে আসা এবং দুটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় পাটুরিয়া ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে ঘাট এলাকায় শত শত যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় পাটুরিয়া ঘাটে আটকে থাকে। বিকেল নাগাদ যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ কমে এলেও পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে তিন শতাধিক ট্রাক।

বড় ফেরি শাহ মখদুম ও মাঝারি ফেরি কুমারী বিকল হয়ে পরায় পাটুরিয়া ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়। সোমবার সকালে ঘাট এলাকায় প্রায় ৬ কিলোমিটার গাড়ির লম্বা লাইন দেখা দেয়। তবে ধীরে ধীরে যানজট কমতে থাকে। বিকেলের দিকে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ কমে গেলেও পারাপারের অপেক্ষায় থাকে প্রায় তিন শ’ পণ্যবাহী ট্রাক।