১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি

  • শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

সুধীর বরন মাঝি, শিক্ষক,

ডক্টর মালিকা কলেজ ,৭/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯

মোবাইল- ০১৯১২-২৯৫০৮৫

..................................................

(পূর্ব প্রকাশের পর)

৫। অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক কী? এইডস মানব দেহে কিভাবে সংক্রমিত হয় ?

ভূমিকা ঃ মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। তার মূল্যবোধ, মনুষত্ব ,বিবেক এগুলো তার একটা নৈতিক চরিত্র নির্ধারন করে। কোন মানুষ যখন এগুলো হারিয়ে তখন তার নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয় এবং সে নানা রকম অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।

অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক ঃ এইডস সম্পর্কে আলোচনা শুরু করলেই চলে অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক। বিবাহ বহির্ভূত যৈানমিলনকে অনৈতিক দৈহিক সম্পকর্ বলে। লিভ টুগেদার অনৈতিক দৈহিক সম্পর্কের একটা অংশ। প্রধানত কৌতুহল এবং আবেগের বশবর্তী হয়ে কিশোর-কিশোরীরা অবৈধভাবে পরস্পর যৌন সম্পর্কে মিলিত হওয়াকে অনৈতিক দৈহিক সম্পকর্ বলে। চরিত্রগত অবক্ষয়ের ফলে এরকম সম্পর্ক হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মায়ের অভিমান করে এরকম অবৈধ কাজ করে ফেলে।

এইডস মানব দেহে যে ভাবে সংক্রমিত হয় ঃ এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের কয়েকটি তরল পদার্থে যেমন: রক্ত,রস, বীর্য ও মায়ের বুকের দুধে বেশি থাকে । ফলে মানব দেহের এই তরল পদার্থগুলোর আদান-প্রদানের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। এইচআইভি সুনির্দিষ্টভাবে যে সব উপায়ে ছড়ায়, তা হলো - ১। এইচআইভি/ এইডস আক্রান্ত রোগীর রক্ত কোন ব্যক্তির দেহে পরিসঞ্চালন করলে।

২। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ অন্যকোন ব্যক্তি ব্যবহার করলে ।

৩। আক্রান্ত ব্যক্তির কোন অঙ্গ বা দেহকোষ অন্যকোন ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করলে। ৪। আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে ( গর্ভধারণকালীন,প্রসবকালে বা মায়ের দুধ পানকালে ) তার শিশু এই রোগে সংক্রমিত হতে পারে। ৫। অনৈতিক ও অনিরাপদ দৈহিক মিলন করলে

৬। অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড বা রেজার ব্যবহার করলে।

উপসংহার ঃ পরিশেষে আমরা বলতে পারি এইচআইভি/ এইডস কী,কীভাবে সংক্রমিত হয়,লক্ষণ,প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সকলকে সচেতন করা প্রয়োজন।

৬। এইচআইভি /এইডস প্রতিরোধের উপায় কী ?

ভূমিকা ঃ এইচআইভি/ এইডস কী,কীভাবে সংক্রমিত হয়,লক্ষণ,প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সকলকে সচেতন করা প্রয়োজন।

এইচআইভি /এইডস প্রতিরোধের উপায় ঃ এইচআইভি / এইডস যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তা হলো-

১। ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার ঃ এইচআইভি /এইডস ঝুঁকি প্রতিরোধে সকলকে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করতে হবে।

২। আবেগ প্রশমন ঃ কৌতুহল ও আবেগের বশবর্তী হয়ে কিশোর-কিশোরীরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে। অনেক সময় মা-বাবার শাসনের ফলে রাগ বা অভিমান করে তারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে বসে।বড়দের সাথে বিশেষ করে মা-বাবার সাথে খোলামেলা কথা বললে সহজে আবেগ প্রশমিত হয় এবং এতে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। ৩। ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব প্রত্যাখান ঃ ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব প্রত্যাখান করার জন্য না বলার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় অনৈতিক বা অনাকাঙ্গিত প্রস্তাব জক্ষু লজ্জায় বা ভয়ে সরাসরি না বলতে পারে না। তাই কিভাবে না বলতে হবে তা জানতে ও শিক্ষতে হবে। নিজেকে দৃঢ়চেতা হতে হবে এবং বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেই না বলার কৌশল গ্রহণ করতে হবে। ৪। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন ও রীতিনীতি মেনে চলা ঃ নেশা করা,মাদকাসক্ত হওয়া, অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন কোন ধর্ম বা সমাজ অনুমোদন করে না। সামাজিকভাবেও এগুলো অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। তাই ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন ও রীতিনীতি মেনে চললে এইচআইভি /এইডসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়।

৫। সচেতনতা সৃষ্টি ঃ র‌্যালির আয়োজন, পত্রিকায় প্রচার,রেডিও,টেলিভিশন,সিনেমা, নাটক, সঙ্গীত প্রভৃতির মাধ্যমে এইচআইভি /এইডস-এর ভয়বহতা সম্পর্কে ব্যাপক হনসচেতনতা সষ্টি করতে পারলেই এইচআইভি /এইডস প্রতিরোধ সম্ভব হতে পারে।

৭। অল্প বয়সী মেয়েরা এইডস সংক্রমণে ঝঁকিপূর্ণ কেন ?

ভূমিকা ঃ বয়স প্রত্যেক মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সব বয়সের মানুষের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব হয় না। বয়সের কোন পর্যায়ে মানুষ আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় আবার কোন পর্যায়ে সেই আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে শিখে। বিশেষ করে অল্প বয়সের মেয়েরা আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়।